মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দূষণের শহর ঢাকা

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫

আকাশছোঁয়া সুরম্য অট্টালিকা, আধুনিক শপিংমল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আধুনিক রাজধানী বলা হয় ঢাকাকে। কিন্তু সত্যিই কি আধুনিকতার এসব ছোঁয়া লেগেছে রাজধানীর গায়ে। খোদ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে ঢাকাকে নিয়ে এক ভয়াবহ তথ্য। আবারও বিশ্বের অপরিচ্ছন্ন নগরীর তকমা লাগল ঢাকার গায়ে। অপরিচ্ছন্নতায় বিশ্বে ঢাকার অবস্থান এখন দ্বিতীয়।

আসলে অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা মহানগরী। নাগরিকদের জন্য ২১ ধরনের সেবা দেয়া হয়ে থাকে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, এসব সেবার মান ক্রমশ কমছে, যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা। কর্পোরেশন পরিচালনায় দেখা দিয়েছে আর্থিক সঙ্কটও। পয়ঃনিষ্কাশনের জটিলতা, নিরাপদ খাদ্য, ঘনবসতি, লাগামহীন বাসাভাড়া বৃদ্ধি নগরবাসীর সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এর কোনটির একটিরও সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেই সিটি কর্পোরেশনের। পার্ক, খেলার মাঠ, মার্কেট দখলে সক্রিয় এক শ্রেণীর দখলবাজ। গড়ে ওঠেনি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও। বাড়ছে দূষণের মাত্রা। শতচেষ্টার পরও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি ঢাকার চার নদী। খালসহ জলাভূমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেই। শিশুদের বিকাশের জন্য নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, ড্রেনের ব্যবস্থা, সকল প্রকার সনদ দেয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কর্পোরেশনের ব্যর্থতার যেন শেষ নেই। নগরীর রাস্তা ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। নগরবাসীর মানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন। বায়ু দূষণের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিপজ্জনক দেশগুলোর একটি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ চতুর্থ বায়ু দূষণের দেশ। শহরের গাছপালা যত হ্রাস পাচ্ছে ততই বাড়ছে বায়ু দূষণের অধিক আশঙ্কা। রাজধানীর নদ-নদী ও জলাশয় ভরাটও এক্ষেত্রে সঙ্কট সৃষ্টি করছে। বিশ্বের বসবাস অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় রাজধানী ঢাকার নাম উঠে এসেছে অনেক আগেই। এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়া দরকার।

ঢাকা দেশের প্রশাসনিক রাজধানীই নয়, এটি ব্যবসা কেন্দ্রও। বর্তমানে এর লোকসংখ্যা প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি। এটি বিশ্বের জনবহুল ও ঘনবসতি শহরও। ঢাকা শহরের ভেতরে ও চারপাশে গড়ে ওঠা টেক্সটাইল, ট্যানারি, ফার্মাসিউটিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, কেমিক্যাল, কীটনাশক, প্লাস্টিক, পেপার এ্যান্ড পাল্প, সার, সিমেন্ট, ডিস্টিলারি ইত্যাদি শিল্প-কারখানা বায়ু দূষণের অন্যতম উৎস। যানজটের কারণে আটকেপড়া যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে।

বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা মতে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডাম্পিং হয় ৩ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি গড়ে উঠেনি। আসলে উন্নয়ন আর শিল্পায়ন অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। একথা সত্য শিল্পায়ন থাকলে দূষণ থাকবে। তবে দূষণকে রাখতে হবে নির্দিষ্ট সহনীয় মাত্রায়। ব্যাপক সচেতনতা আর আইনের বাস্তবায়নই পারে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে।

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫

০২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: