কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চতর শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার পীঠস্থান। এটি দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ধারণার জন্মস্থানও। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চা ছাড়া প্রকৃত মানবসম্পদ তৈরি হয় না। প্রয়োজনীয় গবেষণা, সার্বজনীন জ্ঞানকে দেশের উপযোগী করে কাজে লাগানোর কৌশল উদ্ভাবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন। কিন্তু এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে এসব হয় অত্যন্ত দায়সারা গোছের। শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের কর্মকা-ে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। ফলে দেশে উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দরকার। ইউজিসির হিসাবে, দেশে বর্তমানে ত্রিশ লাখের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। সংখ্যার দিক দিয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যেভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা গুণগতমানের দিক থেকে সেভাবে উন্নত হয়নি। শিক্ষার গুণগতমান বাড়িয়ে উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর কোন তৎপরতাও তেমন নেই। রবীন্দ্রনাথের ‘তোতাপাখির’ দশা শিক্ষার্থীদের। তদুপরি শিক্ষার পরিবেশ ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ফারাক রয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষার ক্ষেত্রটি বিকশিত হচ্ছে না। শিক্ষার মান ধরে রাখতে ব্যর্থ সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানই। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন বাণিজ্যায়নের পথে পা বাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে আলু-পটল-পেঁয়াজের ব্যবসায়ের মতো উচ্চশিক্ষা ব্যবসায়ে নেমেছেন একশ্রেণীর ব্যবসায়ী- যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন মেনে চলেন না। এদের শিক্ষার মান, গবেষণা ও পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো সুবিধা, কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সুযোগ সুবিধা, আইন-বিধিবিধান পালনের ওপর কোন র‌্যাঙ্কিং না থাকায় দেশের ৫৪টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানগত দিক স্পষ্ট নয়। লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কোন্্টি কোন্্ মানের বিশ্ববিদ্যালয় জানা না থাকায় প্রতারিত হতে হয় অনেককে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি, বেতন কাঠামো, গবেষণাগার সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। পাবলিকে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণাগার থাকলেও প্রাইভেটে তা যৎকিঞ্চিত মান। বেশির ভাগেরই নেই গবেষণাপত্র, গবেষণা পত্রিকা, সেমিনার, সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ। প্রাইভেটগুলো মূলত উঁচু স্তরের কোচিং সেন্টারের মতো। ৫৪টি প্রাইভেটের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটিতে সঠিক পাঠদান হয়। অনেকের নিজস্ব ক্যাম্পাসও নেই। শপিংমলের ওপর ক্যাম্পাস। শিক্ষক বা উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাইভেটে কোন নীতিমালা নেই। মান নিয়ন্ত্রণেও নেই কোন ব্যবস্থা। অজস্র নেইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বেরিয়ে আসে, তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তাই প্রাইভেটগুলো পাবলিকগুলোর সত্যিকারের বিকল্প বা সহযোদ্ধা হিসেবে গড়ে উঠছে না। এতে শিক্ষার মানও বাড়ছে না।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে প্রধান চালিকাশক্তি। আর এজন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণা। বিশ্বের সঙ্গে অগ্রগতির পথে হাঁটতে হলে গুণগত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫

০২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: