মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাস্তাঘাট উন্নয়নে এমপিদের ২৫ কোটি বরাদ্দ নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে সংসদে প্রশ্ন

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৩ এ. এম.

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রত্যেক সংসদ সদস্যের এলাকায় রাস্তা-কালভার্ট পাকাকরণসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ২৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ নিয়ে কিছুটা তোপের মুখে পড়তে হয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, প্রত্যেক এমপির অনুকূলে ওই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগে দেয়া হয়েছে। এ সময় অধিবেশনে উপস্থিত সিনিয়র-জুনিয়র সকল সংসদ সদস্য সমস্বরে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ বছর একজন এমপিও ওই বরাদ্দ পাননি। এ নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিতও হলেও অর্থমন্ত্রী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন।

মঙ্গলবার স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এবং পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে অর্থমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হতে হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী মোস্তফা কামালের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে সংসদে প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রীকে এমন বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। সম্পূরক প্রশ্নে সরকারী দলের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বিতর্কের সূত্রপাত করে বলেন, আমাদের প্রত্যেকের নির্বাচনী এলাকায় ২৫ কোটি টাকা করে রাস্তাঘাট অবকাঠামো উন্নয়নকরণের জন্য বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। এক বছর পার হয় গেলেও আমরা এখনও টাকা পেলাম না। তিনি বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী এমপিদেরও অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিলে সকল নারী সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়িয়ে স্বাগত জানান।

উত্তর দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। এটা ভুল ধারণা, আমি টাকা দিয়ে দিয়েছি। এ সময় সকল সংসদ সদস্য একযোগে ‘নো নো’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের অধীনে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এমপিদের প্রতিবাদের মুখে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমিসহ অনেকেই এই বরাদ্দ পেয়েছেন। আমার কথা আগে শুনুন। হৈ-চৈ-এর মুখে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার এমপিদের প্রকল্পগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বরাদ্দ দেবে। টাকা ছাড় দিতে আমাদের কোন অসুবিধা নেই।

প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি পাশে বসা সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ সবাইকে দেখিয়ে বলেন, সবাইকে জিজ্ঞেস করুন কেউ এই বরাদ্দের টাকা পেয়েছেন কি না? কেউ টাকা পাননি। অথচ অর্থমন্ত্রী বললেন, এমপিদের নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা পাকাকরণের জন্য যারা প্রকল্প নিয়েছেন তাদের টাকা দেয়া হয়েছে। কথা ঠিক নয়, টাকা দেয়া হয় নাই। কেউ টাকা পায় নাই। মনে হয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অর্থমন্ত্রীকে সঠিক তথ্য জানানো হয়নি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বরাদ্দের টাকার ব্যবস্থা করুন।

সরকারী দলের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, মনে হয় অর্থমন্ত্রী ভুল বুঝেছেন। সংশ্লিষ্ট জায়গায় কথা বলেছি। আসলে এ বছরে আমরা কেউ বরাদ্দ পাইনি, এমনকি অর্থমন্ত্রীও পাননি। সুসংবাদ দিচ্ছি- আমরা যেসব ডিপিপি জমা দিয়েছি, তা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আজ স্থানীয় সরকারে অনুমোদন পেলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে। তাই খুব দ্রুত আমরা এসব বরাদ্দ পাব। তবে একটি বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ বরাদ্দ পাইনি। এ বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল। এতে ভুল বোঝাবুঝির কোন সুযোগ নেই।

জবাবে দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি। এখনো তাই বলছি। বাজেটে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। লোকাল গবর্নমেন্টের মাধ্যমে বাজেটের সময়ই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। লোকাল গবর্নমেন্ট যখন ছাড় দেবে তখনই এটা বাস্তবায়ন হবে। এখন আমার কোন কিছু করার নেই। তার এই বক্তব্যে সবাই আবারও ‘না না’ বলে প্রতিবাদ করেন। এ সময় সংসদে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বহুমাত্রিক- পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান সরকার আমলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক। বিগত বছরগুলোতে এ সম্পর্কের কাঠামোগত দিকটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে, যার ফলশ্রুতিতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিতভাবে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেছেন। উভয়পক্ষের জন্য সুবিধাজনক একটি সময়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারী দলের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী মেয়াদে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরকালে ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপ সংক্রান্ত যৌথ বিবৃতি’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়।

মন্ত্রী জানান, এরই ধারাবাহিকতায় বিগত তিন বছরে তিনটি অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সকল বিষয়ে নিয়মিতভাবে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারী দলের গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের নিবিড় ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বহুবিধ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তাৎপর্যপূর্ণ, দৃশ্যমান ও ইতিবাচক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে আমাদের রফতানি বিগত ৫ বছরে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বিভিন্নমুখী উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৩ এ. এম.

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: