কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫
  • বাড়ছে রোগবালাই ॥ হুমকিতে পরিবেশ প্রকৃতি

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ কৃষিক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত পেস্টিসাইড (বালাইনাশক) ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে মানবদেহ ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শাক, সবজি ও ফল-মূলে মেশানো পেস্টিসাইডের ক্রিয়ায় মানুষ আক্রন্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে ৯৩ প্রকারের পেস্টিসাইড ৩৭৫টি বাণিজ্যিক নামে বাজারে চালু রয়েছে। এগুলোর ৯০ ভাগ ব্যবহার করা হচ্ছে ধানের পোকা দমনে ও ১০ ভাগ ব্যবহার করা হচ্ছে সবজিসহ অন্য ফসলে। তবে পেস্টিসাইড ব্যবহারের কোন নীতিমালা না থাকায় যত্রতত্র এর ব্যবহার দিনে দিনে বাড়ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি এ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান তার এক গবেষণা প্রবন্ধে এ তথ্য জানিয়েছেন। সম্প্রতি রাজশাহীতে এক সেমিনারে এ প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ সব পেস্টিসাইডের পাশাপাশি দেশে ১২৩ প্রকারের ক্ষতিকর হরমোন ব্যবহার করা হচ্ছে ফল, ফসল ও সবজিতে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এ সব হরমোন বিক্রি ও ফল বা ফসলে প্রয়োগের কোন নীতিমালা তৈরি হয়নি। এ সব হরমোন ফলের আকার বৃদ্ধি, অসময়ে ফলন এবং অপরিপক্ব ফলকে পাকানোর কাজেই বেশি ব্যবহার করা হয়। যতো পরিমাণে পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেগুলোর মধ্যে মাত্র ১ থেকে ১০ ভাগ পোকা-মাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়। বাকিটা পরিবেশ তথা বায়ু, পানি, মাটি এমন কি মানবদেহে মিশে যাচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগের পরিমাণও দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবদেহে এ সব রোগের মধ্যে হচ্ছে মাতৃগর্ভে শিশুর বিভিন্ন ধরনের রোগ, মহিলাদের স্তন ক্যান্সার, পুরুষের সন্তান প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগ, ক্যান্সার, হৃদপি- ও যকৃতের বিভিন্ন সমস্যা, অন্ত্রে ব্যথা, পেটে পীড়া, গর্ভপাত, কিডনি জটিলতা, ডায়রিয়া, মাংসপেশীর সংকোচন, বমি-বমি ভাব, মুখে লালা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, মাথা ব্যথা, চোখের মণি ছোট হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি।

কৃষি অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালে মাত্র ৩ মেট্রিকটন পেস্টিসাইড ব্যবহারের মাধ্যেমে দেশে পেস্টিসাইড ব্যবহার শুরু হয়। এরপরে বছরের পর বছর তা বাড়তে থাকে। ২০০৫ সালে পেস্টিসাইড ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২৫.৪৪ হাজার মেট্রিকটন। বর্তমানে আরও বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, পৃথিবীতে প্রতিবছর ৩ থেকে ১৫ মিলিয়ন কৃষক পেস্টিসাইডের বিষক্রিয়ার আক্রান্ত হয়ে থাকে। এর মধ্যে মারা যায় ২০ হাজার। লন্ডনভিত্তিক সংগঠন উইম্যান ইনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী পেস্টিসাইড বিষাক্ততায় একেবারে মাতৃগর্ভেই শিশুর মারত্মক ক্ষতি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন কীটনাশকের রেসিডিউ উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক স্তন ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী বলে গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন। প্রবন্ধে আরও বলা হয় অতিরিক্ত পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে ৯০ ভাগ উপকারী পোকা মারা যায় এবং ক্ষতিকর পোকা মারা যায় মাত্র ১০ ভাগ। এছাড়াও প্রতিবছর যে পরিমাণে পোকা-মাকড় ও মাছ শিকারকারী পাখি মারা যায় তার ৩০ ভাগের জন্য দায়ী পেস্টিসাইডের বিষাক্ততা। শুধু তাই নয়, ব্যবহৃত পেস্টিসাইডের অবশিষ্টাংশ পানির সঙ্গে মিশে দূষিত করে ফেলছে। জানা যায়, ফ্লাড এ্যাকশন প্লান এবং পরিবেশ অধিদফতর যৌথভাবে ১৯৯২-৯৩ সালে গাইবান্ধার বিল, কুমিল্লার নীগার বিল ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ বিলের পানিতে ডাই এলড্রিন এর রেসিডিউ দশমিক ৬৪ মিমি/লিটার ও লিনডেন দশমিক ২৩১-দশমিক ৫৪৭ মিলি/লিটার পায়।

যা ডাব্লিউএইচও-এর সহনীয় মাত্রা ডাই এলড্রিনের চেয়ে তিন গুণ বেশি। সে কারণে বিলগুলো থেকে দেশীয় মাছ, জলজ আগাছা ব্যাঙ গুইসাপ ইত্যাদি বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। একই কারণে মাটির উরর্বতা বিগত কয়েক দশকে কমেছে ৪০ ভাগ।

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: