কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের পথে চীন

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

আমেরিকা ও চীনের মাঝে বহু কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, যেখানে বিজয়ী কে নির্ধারণ করা কিছুটা জটিল। কিন্তু চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে তাদের মার্কিনীদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। চীনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক কেবল মার্কিন আধিপত্যবাদকেই খর্ব করবে না, বরং মার্কিন মিত্রদের মাঝেও সর্ম্পকের ফাটল ধরাবে। ইউরোপ এশিয়ার মার্কিন মিত্র রাষ্ট্রের ইনফ্রাস্টাকচার ব্যাংকে যোগদান তেমন ইঙ্গিতই বহন করছে। চীনের এশিয়ান অবকাঠামো বিনিযোগ ব্যাংক ঘোষণায় প্রথমে ব্রিটেন, পরে ফ্রান্স-জার্মানি অংশীদার হওয়র ঘোষণা অবাক করে সকলকে। চীন আশা করছে, এ তালিকায় ইউরোপের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞ অন্যতম দুই রাষ্ট্র সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ যোগ দেবে। মার্কিন মুখপাত্রের দাবি, তারা এ ব্যাংকের বিরুদ্ধে কখনও কোন প্রচার কিংবা লবি চালায়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থায় এ ব্যাংকের কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে কেবল প্রশ্ন তুলেছে। প্রকাশ্যে সমালোচনা না করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোপনে এশিয়ার মিত্র রাষ্ট্রদের এ ব্যাংকের প্রাথমিক সদস্য হতে নিরুৎসাহিত করেছে। এ কারণে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ কোরিয়া সদস্য হওয়ার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু এশিয়ার মার্কিন মিত্র হিসেবে বিবেচিত নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সত্ত্বেও সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। দেশগুলোর যুক্তি ছিল, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার মধ্যে থেকেই কেবল প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব।

এশিয়ান অবকাঠামো ব্যাংক চীনের সম্প্রতি ঘোষিত দুটি ব্যাংকের মধ্যে আরেকটি। কিছুদিন আগে চীন, রাশিয়া, ভারত, সাউথ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের সমন্বয়ে ব্রিকস ব্যাংকের ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রভাবের কারণে নিজের অবস্থান সংহত করতে ব্যর্থ হওয়ার দরুন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রটির এমন পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই মার্কিন কংগ্রেসের হাতে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও দেশটির কব্জায় আর এশিয়ান ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে জাপান। ফলে বিশ্বের সবোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ থাকা সত্ত্বে¡ও প্রতিদ্বন্দ¦ী দেশের নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজার অর্থনীতি ও মুদ্রা তহবিলে কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না চীন। তাই মুদ্রা ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব প্রতিষ্ঠাই এখন দেশটির একমাত্র লক্ষ্য।

চলমান ডেস্ক

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: