কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্বকাপের নায়ক স্টার্ক

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫
  • মাহমুদা সুবর্ণা

বিশ্ব ক্রিকেটে আবারও অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব। রবিবার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল তারা। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ব্ল্যাক ক্যাপসদের ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল মাইকেল ক্লার্কের দল। তবে অস্ট্রেলিয়াকে স্বপ্নের শিরোপা উপহার দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মিচেল স্টার্ক। একাদশতম আসরে ৮ ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের ২২ উইকেট তুলে নেন তিনি। যা নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর টুর্নামেন্ট জুড়ে অবিশ্বাস্য বোলিংয়ের পুরস্কারও পেয়েছেন ২৫ বছর বয়সী মিচেল স্টার্ক। ম্যাচ সেরার পদকটাও নিজের শোকেসে তুললেন বাঁহাতি এই অস্ট্রেলিয়ান।

২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক। কিন্তু ২০১১ বিশ্বকাপে দলে জায়গা করে নিতে পারেননি মিচেল স্টার্ক। শুধু তাই নয়, নিষ্প্রভ পারফরমেন্সের কারণে সে বছরের পুরোটা সময়ই দলের বাইরে ছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। পরের দুই বছর নিয়মিত বিরতিতেই খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে। কিন্তু ঠিক এই স্টার্কের ছায়া তখন ছিল না। গত বছরের ডিসেম্বরে স্টার্ককে দেখে দুর্বল বলেছিলেন শেন ওয়ার্ন। তারপর থেকেই যেন ক্রমশ বিধ্বংসী হয়ে উঠেছেন এই পেসার। সেদিন প্রচুর রান খরচ করতে দেখে মাঠে স্টার্কের শরীরী ভাষা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার ওয়ার্ন। আসলে ক্রিকেটে এমন হয়েই থাকে। খারাপ দিনে কোন কিছুই ঠিকঠাক হয় না। পারফরমেন্স খারাপ হলে যাই করা হোক না কেন, সব ভুল। আর বোলারের সব সব ভুল ঢাকা পড়ে যায় উইকেটের সাফল্যে। তার দৃষ্টান্ত বিশ্বকাপে চমকপ্রদ পারফরমেন্স উপহার দিয়ে নিজেই প্রমাণ করলেন মিচেল স্টার্ক।

তবে মিচেল স্টার্কের জ্বলে ওঠার শুরুটা ছিল বিশ্বকাপের ঠিক আগে। কার্লটন মিড ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে। যেখানে রীতিমতো ঝড় তোলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রভাব যে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেই এভাবে বয়ে আনবেন, এমনটা হয়ত অনেকেই ভাবেননি। স্টার্ক যেন নিজের ভাবনাকেও ছাড়িয়ে গেছেন! বাঁহাতি পেসারদের ভিড়ে অস্ট্রেলিয়াকে স্বপ্নের এক বিশ্বকাপই উপহার দিয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। ফাইনাল পর্যন্ত বাকি আট ম্যাচের সব কটিতেই বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ম্যাচের পর ম্যাচ প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য হয়ে উঠেছেন আতঙ্কের নাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম সেই ম্যাচ হয়ে ফাইনাল পর্যন্ত সুপার স্টার্কের বোলিং। মোট ২২ শিকারে ইকোনমি মাত্র ৩.৫০। অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে। ইতিহাসে অসিদের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে অবধারিতভাবে উচ্চারিত হবে স্টার্কের নাম। দূরন্ত গতির সঙ্গে অবিশ্বাস্য সব সুইং। ইয়র্কারের সঙ্গে নিখুঁত লেন্থ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে স্টার্কের বোলিং যেন দর্শনীয় শিল্প। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়ে ছিলেন শ্রীলঙ্কান তারকা কুমার সাঙ্গাকারা, কিউই মার্টিন গাপটিল, এমনকি ফাইনালে উঠে আসা নিউজিল্যান্ড পেসার ট্রেন্ট বোল্টও। কিন্তু তাদের টেক্কা দিয়ে সেরাদের সেরা হন স্টার্ক। টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত স্টার্ক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটা বিস্ময়কর এক বিশ্বকাপ। নিউজিল্যান্ড ভাল খেলেছে। তবে ফাইনালের দিনটি ছিল শুধুই আমাদের। দলের শিরোপা উদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পেরে দারুণ খুশি আমি।’

স্টার্ক ছাড়াও স্বপ্নের বিশ্বকাপ জিতাতে অস্ট্রেলিয়ার নায়কের ভূমিকায় ছিলেন মিচেল জনসন এবং জেমস ফকনারও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে সবচেয়ে কম রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেন জনসন। ৯ ওভার বল করে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৩০ রান উপহার দেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী মিচেল জনসন কেন উইলিয়ামসন, ড্যানিয়েল ভেট্টরি এবং ম্যাট হেনরির উইকেট তিনটি দখল করেন। এর ফলে এবারের আসরে ৮ ম্যাচ খেলে তার দখলে মোট উইকেট সংখ্যা ১৫। টুর্নামেন্টে তার সেরা পারফরমেন্স ২২ রানে ৪ উইকেট দখল করা।

এদিকে অভিষেক বিশ্বকাপে চমক উপহার দিয়েছেন জেমস ফকনার। ফাইনাল জয়ের মঞ্চে তিনি নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক গ্র্যান্ট ইলিয়ট এবং ব্রেন্ডন টেইলরের উইকেট ছাড়াও হার্ড হিটার কোরি এ্যান্ডারসনের মূল্যবান উইকেট তিনটি দখল করেন। ৯ ওভার বল করে ১টি মেইডেনসহ ৩৬ রানের বিনিময়ে প্রতিপক্ষের ৩ উইকেট লাভ করেন তিনি। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে তার মোট উইকেট ১০টি। কিউইদের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পুরস্কারটাও পেয়ে গেছেন ফকনার। তরুণ প্রতিভাবান এই পেসার ফাইনালের ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও নিজের শোকেসে তুলেন। এমন পারফরমেন্সে দারুণ সন্তুষ্ট এই অস্ট্রেলিয়ান। এ বিষয়ে জেমস ফকনার বলেন, ‘এটা স্পষ্টতই বলতে হয় যে ফাইনালে আমাদের শুরুটা অনেক ভাল হয়েছে। ছেলেরা অনেক ভাল বল করেছে। তাই এমন রান তাড়া করে জেতাটা আসলে আমাদের জন্য কঠিন কিছু ছিল না। তবে বিশ্বকাপের আগে থেকেই ফিল্ডিংয়ে আমরা অনেক সময় দিয়েছি। কঠোর পরিশ্রম করেছে দলের সকলেই।’

১৯৭৫ সাল থেকে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৯২ সাল থেকে। দল ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেও সেবার ৪৫৬ রান করে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার তুলে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মার্টিন ক্রো। কেবল ক্রো নয়, এরপর আরও দুবার এমন দু’জন সেরা হয়েছেন, যাদের দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ৯৯-এ দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার, পরের বার শচীন টেন্ডুলকর। কাপ জয়ের পশাপাশি আসরসেরা হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে সনাথ জয়সুরিয়া (১৯৯৯) গ্লেন ম্যাকগ্রা (২০০৭) ও যুবরাজ সিংয়ের (২০১১)। এবার তাদের কাতারে নাম লেখালেন ৪১ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ৮৩ উইকেট শিকারি মিচেল স্টার্ক। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে রোমাঞ্চিত স্টার্ক। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার উচ্ছ্বাসটা তো স্টার্কের কাছে এখন বাধভাঙ্গাই!

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: