মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চসিক নির্বাচনে এবারও জলাবদ্ধতা ইস্যু ॥ বৃষ্টি আতঙ্কে মনজুর সমর্থকরা

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বরাবরের মতো এবারও মেয়র প্রার্থীদের অঙ্গীকার নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন। বিগত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই প্রার্থীদের ছিল একই প্রতিশ্রুতি। কিন্তু প্রবল বর্ষণে নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে যায় হাঁটু থেকে বুক পানিতে। বিশেষ করে মৌসুমের প্রথম বর্ষণটি নগরবাসীকে ফেলে চরম ভোগান্তিতে। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলম বিগত নির্বাচনে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সফল হননি। একই প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করেছেন এবারও। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনও তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তুলে এনেছেন সেই একই ইস্যু। মেয়র যান, মেয়র আসেন। জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীর যেন মুক্তি নেই। তবে নির্বাচন সামনে রেখে বৃষ্টি আতঙ্কে বিদায়ী মেয়র মনজুর আলম সমর্থকরা। কারণ, এমনটি হলে কপাল পুড়তে পারে তাঁর।

চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যায় মাত্র ঘণ্টাখানেকের ভারি বর্ষণে। এর থেকে মুক্তি পেতে চায় নগরবাসী। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতি ৫ বছর পর মেয়র প্রার্থীরা রীতিমত অঙ্গীকার ব্যক্ত করে চলেছেন। ভোটাররাও এক মেয়রের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে রায় দিতে গিয়ে নির্বাচিত করেন নতুন মেয়র। কিন্তু ফল সেই একই। নগরীর শুলকবহর, কাপাসগোলা, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, সাগরিকা, হালিশহর, ছোটপুল, আগ্রাবাদ সিডিএসহ অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলোর অধিবাসীদের নিত্যসঙ্গী জলাবদ্ধতা। এমন কিছু এলাকা রয়েছে সেগুলো প্লাবিত হতে বৃষ্টিরও প্রয়োজন হয় না। জোয়ারের পানিতে সয়লাব থাকে আবাসিক এলাকাগুলোর সড়ক। চসিক নির্বাচনে এ বিষয়টি বরাবরের মতো এবারও অন্যতম প্রধান ইস্যু।

২০১০ সালের সিটি নির্বাচনের দুদিন আগে মৌসুমের প্রথম বর্ষণে ডুবে গিয়েছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অনেক এলাকা। আর এতেই কপাল পুড়ে তিনবারের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম এর সুফল পান। তিনি নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র। নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করবেন এমনই অঙ্গীকার ছিল তার। কিন্তু পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে তাই চলছে হিসেব নিকেশ। নগরীর জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। এখন তিনি ফের তুলে ধরছেন একই প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনও চান জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী গড়তে। চসিক নির্বাচনের পূর্বে প্রচারের ক্ষেত্রে যেন বৃষ্টিও একটি ফ্যাক্টর। তবে এ বৃষ্টিপাত সাধারণত বিদায়ী মেয়রের বিপক্ষে গিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এম মনজুর আলম ও তাঁর সমর্থকরা এখন রয়েছেন বৃষ্টি আতঙ্কে। কেননা, কাল বৈশাখীর মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। যে কোন দিন হয়ে যেতে পারে ঝড় হাওয়াসহ প্রবল বর্ষণ। আর মৌসুমের প্রথম বর্ষণে নগরী তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে বৃষ্টি যদি হয় ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনের পূর্বে তাহলে কপাল পুড়তে পারে বিদায়ী মেয়র এম মনজুর আলমের। মানে সর্বনাশের ষোলোকলা। অপরদিকে, তা হতে পারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের জন্য পোয়াবারো।

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: