কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীতে দুর্বৃত্তের হামলায় কলেজ শিক্ষিকা খুন

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫
রাজধানীতে দুর্বৃত্তের হামলায় কলেজ শিক্ষিকা খুন
  • ঘাতক জাকিরকে খুঁজছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক কর্মকর্তার বাসায় ঢুকে তার কলেজ শিক্ষিকা স্ত্রীকে কুপিয়ে ও গায়ে আগুন দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বিআরটিএর কর্মকর্তা ও তার দুই মেয়ে আহত হয়েছে। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন, জন্মদিনে কেক, মিষ্টি ও ফুল নিয়ে দুর্বৃত্তরা তার বাসায় ঢুকে এ হামলা চালিয়েছেন। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা তাদের পূর্বপরিচিত। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক নিহতের পূর্বপরিচিত জাকিরকে খুঁজছে।

নিহতের নাম কৃষ্ণাকাবেরি ম-ল ওরফে পিংকি বিশ্বাস (৩৪)। তিনি মোহাম্মদপুর মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তার স্বামী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপ-পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাস। বড় মেয়ে শ্রুতি বিশ্বাস (১৫) ও ছোট মেয়ে অদ্বিতীয়া বিশ্বাস (৮)। এ ঘটনায় স্বামী, দুই কন্যা সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা মোহাম্মদপুর থানাধীন ইকবাল রোডের ৩/১২ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। ঘটনার পর জম্মদিনের ওই সাজানো বাড়িটি এখন শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের পাঁচতলা ওই ভবনের দোতালার একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী কৃষ্ণাকাবেরি ম-ল ও দুই মেয়ে শ্রুতি ও অদ্বিতীয়াকে নিয়ে থাকেন বিআরটিএর কর্মকর্তা সুধাংশু। সুধাংশুর জন্মদিন ছিল সোমবার। তাই রাতে ওই জম্মদিনের কেক, মিষ্টি ও ফুল নিয়ে তাদের বাসায় আসেন পরিচিত যুবক জাকির। কেক টেবিলে সাজিয়ে মোমবাতিও জ্বালানো হয়। এরপরে হঠাৎ করে ওই যুবক তার সঙ্গে নিয়ে আসা হাতুড়ি দিয়ে সুধাংশুর মাথায় আঘাত করে। আহতদের বরাত দিয়ে ওসি আজিজুল আরও জানান, সুধাংশুকে আঘাতের পর তার স্ত্রী কৃষ্ণকাবেরি ও দুই সন্তান এগিয়ে এলে জাকির হাতুড়ি দিয়ে তাদের ওপরও হামলা চালায়। এরপরেই সে পালিয়ে যায়। হামলার মধ্যে কেকের ওপর জ্বলতে থাকা মোমবাতির ওপর পড়ে যান তার স্ত্রী পিংকি। এতে তার কাপড়ে আগুন ধরে যায়। এরপর তিনি আগুন থেকে বাঁচতে পুরো ঘরে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এক সময় সোফায় বসার চেষ্টা করলে তাতেও আগুন ধরে যায়। এভাবে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে সুধাংশু ও তার দুই মেয়ে দৌড়ে পাশের ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিং বেল চাপ দেয়। তারা ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা সেখানে দরজার সামনে লুটিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। ওসি জানান, রাতেই দগ্ধ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া পিংকি বিশ্বাসকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে পিংকি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহত পিংকির শরীরের ১৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়। নিহতের গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার রামকৃষ্ণপুরে শেখরের গ্রামে। আহত সুধাংশু ও তার দুই মেয়েকে প্রথম শ্যামলির কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে তাদের মহাখালী মেট্রোপলিটন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। ওসি আজিজুল জানান, সুধাংশু ও তার দুই মেয়ে এবং পাশের ফ্ল্যাটের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে হাজী আহমেদ সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকার হাউজের ম্যানেজার ওই যুবক জাকির। এ ঘটনা জাকির একাই ঘটিয়েছে। তিনি জানান, কী কারণে এ হামলা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনও বুঝা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে জাকিরকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক পুলিশ টিম মাঠে নেমেছে।

নিহতের ফ্ল্যাটের পাশের বাসিন্দা প্রকৌশলী সাবের আহমেদ জানান, সুধাংশুর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে তিনি দরজা খুলেন। এ সময় দেখেন সুধাংশু ও তার দুই মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তার বাসার দরজার সামনে। তাদের তাড়াতাড়ি বাসার ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় এক মেয়ে তার মাকে বাঁচানোর অনুরোধ করে। পরে তাদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, আগুন জ্বলছে। ধোঁয়ায় পুরো ঘর আচ্ছন্ন। পরে আমার বাসা থেকে পানি এনে নেভানোর চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে পর্দার পাশে দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় বৌদিকে (পিংকি বিশ্বাস) পাওয়া যায়। সাবের আরও জানান, সুধাংশু ওই অবস্থায় এ ঘটনার জন্য জাকির নামে একজনকে দায়ী করছিলেন। জাকিরের নাম উল্লেখ করে সুধাংশু বার বার বলছিলেন, জাকির এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে।

হাজারীবাগে সিকিউরিটি গার্ড খুন ॥ রাজধানীর হাজারীবাগে ডাকাতদের পিটুনিতে নিরাপত্তাকর্মী শামসুল করিমকে (৬০) খুন করেছে। নিহতের বাবার নাম মৃত তবারক উল্লাহ। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার খালিশাটোলা গ্রামে। তিনি হাজারিবাগের বউবাজারে হাসেম মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। হাজারিবাগের মাদার ট্যানারিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল হোসেন জানান, গত ১৯ মার্চ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাজারীবাগ ১০৪ নম্বর মাদার ট্যানারিতে একদল দুর্বৃত্ত চুরি করতে ঢুকে। এ সময় ওই ট্যানারি নিরাপত্তাকর্মী শামসুল বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ পর্যায়ে ডাকাতরা তার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামসুল করিমের মৃত্যু হয়।

সড়ক দুঘর্টনায় নিহত এক নারী ॥ সোমবার গভীররাতে রাজধানীর সায়েদাবাদের গোলাপবাগ মোনোয়ারা হাসপাতালের সামনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় শিউলি আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শাহিদা বেগম (৪০) নামে এক মহিলা গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত শিউলি ও আহত শাহিদা বেগম সম্পর্কে খালা-ভাগ্নি। তারা সায়েদাবাদ এলাকার গোলাপবাগের ৩২/১ নম্বর বাসায় থাকেন। আহত শাহিদা আক্তারের স্বামী আব্দুল জলিল জানান, সোমবার রাতে তারা গোপীবাগে এক আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখান থেকে রিক্সাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে গোলাপবাগ মোনোয়ারা হাসপাতালের সামনে এলে পেছনে একটি যাত্রাবাহী বাস তাদের রিক্সাকে ধাক্কা দেয়। এতে দু’জন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে শিউলির মৃত্যু হয়।

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: