মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আর্জেসগুলো পাকি তৈরি

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫
আর্জেসগুলো পাকি তৈরি
  • বাংলাদেশে জঙ্গী উত্থান ও গ্রেনেড হামলা একসূত্রে গাঁথা
  • শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে প্রথম আমদানি করা
  • এসব পাকিস্তানী গ্রেনেড ও আর্জেস গ্রেনেড জঙ্গীদের হাতে

গাফফার খান চৌধুরী ॥ দেশে ইসলামী শাসন কায়েমের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা বড় বাধা বলে মনে করে উগ্র মৌলবাদী ও জঙ্গী সংগঠনগুলো। বোমা দিয়ে শেখ হাসিনা হত্যার মিশন বার বার ব্যর্থ হয়। তাই শেখ হাসিনাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতেই এদেশে গ্রেনেড আনা হয়। একুশে আগস্ট হামলার পর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেনেড উদ্ধার হতে থাকে। সর্বশেষ রাজধানী থেকে একটিসহ ৯১টি গ্রেনেড উদ্ধার হয়। এর মধ্যে ৭৬টিই আর্জেস গ্রেনেড। যা পাকিস্তানের তৈরি। আর্জেস গ্রেনেডগুলো নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবি ও হুজির কাছ থেকে উদ্ধার হয়। নব্বই দশকের আগ থেকে আফগান মুজাহিদদের মাধ্যমে সীমান্ত পথে এদেশে গ্রেনেড আসা শুরু হয়। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ও গ্রেনেড আসার বিষয়টি একসূত্রে গাঁথা।

বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের শুরু ॥ আফগান যুদ্ধের সূত্র ধরে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটতে থাকে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় দেড় হাজার মুজাহিদ আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মধ্যে ফাঁসিতে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাই ছাড়াও নির্বাচন কমিশন থেকে আইডিপিকে (ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি) রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের চেষ্টাকারী আইডিপির প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আব্দুস সালাম ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাবন্দী মুফতি হান্নানও ছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েমের লক্ষ্যে আহলে হাদিস নামের একটি সংগঠন কাজ করছিল। সংগঠনটির আধ্যাত্মিক নেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আসাদুল্লাহ আল গালিব। তিনি মানুষকে দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের পথে আনার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছিলেন। বিভিন্ন মুসলিম দেশ সফর করার কারণে তার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। ওইসব দেশের কাছ থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য গালিব প্রচুর আর্থিক সহায়তা পান। ওসব টাকা তিনি তাওহীদ ট্রাস্ট নামে একটি ফান্ড গঠন করে রেখে দেন। ফান্ডে কোটি কোটি টাকা জমা হয়। তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য সেসব টাকা রাজশাহী, গাইবান্ধা, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় মসজিদ, মাদ্রাসা স্থাপনসহ অন্যান্য ধর্মীয় কাজে ব্যয় করতে থাকেন। টাকা ব্যয়ের সূত্র ধরে ফান্ডের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঙ্গে তার মতপার্থক্য হয়। ফান্ড ভাগ হয়ে যায়।

নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির উত্থান ॥ আফগান যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরেন শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলাভাই ও মুফতি হান্নান এবং আব্দুস সালামসহ অনেকেই। এদের মধ্যে শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাই ড. আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঙ্গে মতাদর্শগত কারণে যোগাযোগ করেন। আসাদুল্লাহ আল গালিব দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের পক্ষে। কিন্তু শায়খ রহমান ও বাংলাভাই জিহাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েমের পক্ষে। বিপরীত ধর্মী মতবাদের কারণে শায়খ রহমান ও বাংলাভাইসহ অনেকেই আলাদা হয়ে যান। জিহাদের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের পক্ষে থাকায় শায়খ রহমান ও বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে ১৯৯৫ সালে মুফতি হান্নানের যোগাযোগ হয়।

শায়খ আব্দুর রহমান ১৯৯৮ সালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মোহাম্মদীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় বৈঠক করে জেএমবিবি (জাগ্রত মুসলিম জনতা অব বাংলাদেশ) নামক সংগঠন সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে নামটি সংক্ষিপ্ত করে জেএমবি (জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) করা হয়। সংগঠনের ধারণা বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েমের ক্ষেত্রে বড় বাধা শেখ হাসিনা। তাঁকে সরাতে পারলেই এদেশে ইসলাম কায়েম সম্ভব। এমন ধারণা থেকেই তারা জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। বাংলাভাই রাজশাহীর বাগমারা অঞ্চলে ২০০১ সালে দাওয়াতের মাধ্যমে জেএমবির কার্যক্রম শুরু করে। এরপর সর্বহারা নির্মূলের নামে জেএমবির ভয়াবহ উত্থান ঘটায়।

জেএমবি ইসলাম থেকে ধর্মান্তরিত হলে তাদের হত্যার নির্দেশ দেয়। এমন নির্দেশের পর জেএমবি প্রথম অপারেশন চালায় ২০০১ সালে জামালপুরে। দুই মুসলমান খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করায় তাদের কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে, ২০০২ সালে ১৬ আগস্ট বাগেরহাটে চার্চে হামলা, ময়মনসিংহে চারটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলা করে ১৯ জনকে হত্যা করে জেএমবি। এমন নাশকতার পাশাপাশি ২০০৩ সালে পাবনায় তিন দিনের বোমা তৈরির স্বল্প মেয়াদী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করে জেএমবি। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করে। জঙ্গী প্রশিক্ষণের সূত্র ধরে জেএমবি ও হুজির সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন নামের সংগঠনটির। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেএমবি ও হুজি সদস্যদের ভারী অস্ত্রের ট্রেনিং দেয়া হতো। জেএমবি ও হুজি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে অনেক ভারী অস্ত্র সংগ্রহও করে।

ধারাবাহিক নাশকতার অংশ হিসেবে ২০০৩ সালে জয়পুরহাটে একটি পীরের দরগায় বোমা হামলা করে ৫ জনকে হত্যা, একই বছর টাঙ্গাইল জেলার সখীপুরের ফাইল্যা পাগলার মাজারে বোমা হামলা করে তিনজনকে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা করে। পরবর্তীতে তিনি বিদেশে মারা যান। একই বছর মার্চে টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো লেখক মনির খানকে সরাসরি হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফকে হত্যা করে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ বাদে দেশের ৬৩ জেলার ৫শ’ জায়গায় বোমা হামলা করে জেএমবি। সিরিজ বোমা হামলার জন্য তারা আট বছর ধরে পরিকল্পনা করছিল। এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২শ’ কোটি টাকা। টাকার যোগান এসেছিল বিদেশ থেকে। আর ২০০৫ সালে ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় উদীচী সমাবেশে বোমা হামলা করে জেএমবি।

নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হুজির উত্থান ॥

আফগান যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরা প্রায় দেড় হাজার মুজাহিদ বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি অংশ চলে যায় শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাইদের জেএমবিতে। আর কিছু অংশ চলে যায় মুফতি হান্নানের সঙ্গে। মুফতি হান্নান আফগান ফেরত মুজাহিদদের একত্রিত করতে রাজধানীর বাড্ডার তালতলায় জাগো মুজাহিদ নামের একটি অফিস খুলেন। সেখানেই চলতে থাকে হুজির কার্যক্রম। দুইটি সংগঠন আলাদাভাবে কাজ করলেও তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক। দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করা। জেএমবির মতো হুজিও হামলা শুরু করে। ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচী সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

জেএমবি ও হুজির ধারণা বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের পথে বড় বাধা শেখ হাসিনা। তাই শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এমন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার নির্বাচনী সমাবেশস্থলে ৭৫ কেজি ওজনের বোমা পেতে রাখে হুজি। কিন্তু সে বোমা উদ্ধার হওয়ায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শেখ হাসিনাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতে আনা হয় গ্রেনেড। এরপর সিলেটে আরও একবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে হুজি। কিন্তু প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা।

এরপর শেখ হাসিনাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতেই বাংলাদেশে গ্রেনেড আনা হয়। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনাসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতেই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক। কোনমতে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। কিন্তু তাঁর দুই কানই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন ঘটনায় শুরু হয় সারা দুনিয়াজুড়ে তোলপাড়।

গ্রেনেড উদ্ধার ও উৎস ॥ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর গ্রনেডের উৎস সম্পর্কে শুরু হয় খোঁজখবর। আসামিদের গ্রেফতারে সারাদেশে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ২০০৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব-৩ ঢাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪টি আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধার হয়। এরপর ২০০৭ সালে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর র‌্যাব সদর দফতরের ইন্টেলিজেন্স উইং ও র‌্যাব-৬ এর একটি দল রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে হুজি প্রধান মুফতি হান্নানকে ১৬টি আর্জেস গ্রেনেড ও চারটি একে-৪৭ রাইফেল, বিপুল পরিমাণ তাজা বুলেট, শক্তিশালী বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করে। র‌্যাব-১২ এর একটি দল ২০০৭ সালের ৩ নবেম্বর রাশিয়ান এইচই (হাই এক্সপ্লোসিভ)-৩৬ মডেলের ৪টি গ্রেনেড, ৩শ’ রাউন্ড এলএমজির (লাইট মেশিন গান) তাজা বুলেট ও তিনটি এলএমজির ম্যাগজিন, ২০০৮ সালের ৫ জানুয়ারি র‌্যাব-৯ এর একটি দল ১২টি হ্যান্ড গ্রেনেড ও ৮টি শক্তিশালী পাওয়ার জেল উদ্ধার করে।

২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার বানিয়াচালা মেম্বারবাড়ি জামে মসজিদ থেকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দারা। আবু জান্দালের তথ্যমতে ১৫ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থেকে নজরুল ইসলাম ঘরামীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪১টি আর্জেস গ্রেনেড। ২০০৮ সালের ২৮ মে র‌্যাব-৬ এর একটি দল পরিত্যক্ত অবস্থায় রাশিয়ান এইচই-৩৬ মডেলের একটি গ্রেনেড উদ্ধার করে। ২০০৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব-২ একটি আর্জেস গ্রেনেড, র‌্যাব-১২ ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে ১টি এবং র‌্যাব-১ এবং র‌্যাব-৯ যৌথ অভিযান চালিয়ে ২০০৯ সালের ১১ অক্টোবর শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি থেকে ১০টি আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধার করে। সব মিলিয়ে ৭৩টি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেডসহ ৯০টি গ্রেনেড উদ্ধার হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় একটি ও হামলার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আরও একটি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেড উদ্ধার করে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ। সবমিলিয়ে ৭৫টি আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধার হয়। আর সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন কসাইবাড়ির পূর্ব মোল্লারটেকের প্রেমবাগান এলাকার একটি বাড়ি থেকে একটি আর্জেস গ্রেনেড, ১২টি পেট্রোলবোমা, ৩০টি হাতবোমা ও শক্তিশালী বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত ৬০টি ডেটোনেটরসহ চার জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, জেএমবি ও হুজির কাছ থেকেই গ্রেনেড উদ্ধার হয়। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সূত্র ধরে গ্রেফতার হয় পাকিস্তানী নাগরিক মজিদ বাট। মজিদ বাট জানায়, শেখ হাসিনাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতেই ২শ’ গ্রেনেডের একটি কাটুর্ন আনা হয়েছিল। যা পাকিস্তানের কাশ্মির সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মুজাহিদদের কাছে পৌঁছে। চালানটি পরবর্তীতে বাংলাদেশে পৌঁছে। এই চালানের অন্তত এক শ’ গ্রেনেড পরবর্তীতে ভারতের কাশ্মিরী মুজাহিদদের কাছে হস্তান্তর করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পলাতক আসামি বিএনপির সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মুফতি মাওলানা তাইজউদ্দিন। অবশিষ্ট গ্রেনেডগুলো হুজি প্রধান মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য হুজি নেতাদের কাছে ছিল। সবচেয়ে বেশি গ্রেনেড ছিল হুজি নেতা মুফতি হান্নানের কাছে। হান্নানের কাছ থেকেই গ্রেনেড নিয়ে বাড্ডা থেকে বাসে করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে পৌঁছে হামলা চালিয়ে ছিল হুজির সদস্যরা। হামলার অপারেশনাল কমান্ডার ছিল মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল।

বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গ্রেনেড প্রধানত অস্ট্রিয়ায় তৈরি হয়ে থাকে। দেশটির নামের ‘এ’ আদ্যক্ষর অনুযায়ী উৎপাদিত গ্রেনেডের নামকরণ করা হয় আর্জেস। তবে আন্তর্জাতিক অস্ত্র আইন চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রিয়ার অনুমতি সাপেক্ষে পাকিস্তানও আর্জেস গ্রেনেড তৈরি করে থাকে। সেক্ষেত্রে গ্রেনেডের গায়ে আর্জেস লেখা থাকে। তার নিচে পাকিস্তানের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী পি লিখে তার সঙ্গে মডেল নম্বর লেখা থাকে। আর্জেস ৮৪ মডেলের গ্রেনেডগুলো পাকিস্তানের তৈরি। এসব গ্রেনেড ভারত-পাকিস্তানের মুজাহিদদের হাত গলে সীমান্ত পথে বাংলাদেশের জঙ্গীদের কাছে পৌঁছে। নব্বইয়ের দশকের আগ থেকে বাংলাদেশে গ্রেনেড আসা শুরু হয়।

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: