কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ডায়াবেটিসে ব্যায়াম

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০১৫

আমার বয়স ৪৫ বছর। অনেকদিন ধরেই ডায়াবেটিসে ভুগছি। নিয়মিত ওষুধ খাই। আমাকে অনেকেই বলেছেন এক্সারসাইজ করলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমি খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। কখনই এমন কিছু খাই না যাতে আমার শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। এরপরেও কি এক্সারসাইজ করা জরুরী? কোন্ ধরনের এক্সারসাইজ করব? কোন সহজ পদ্ধতি থাকলে জানাবেন। আর এক্সারসাইজ করার সময় কোন রকম সাবধানতা অবলম্বন করা কি জরুরী?

আপনি যে নিজের খাওয়াদাওয়া নিয়ে সচেতন এটা খুব ভাল। কিন্তু এর সঙ্গে এক্সারসাইজও করতে হবে। আপনাকে ডায়েট আর ওয়াকআউট দু’টোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দেখবেন, উপকার পাবেন। যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন দিনের মধ্যে কিছুটা সময় বের করুন। ভাল থাকার কোন শর্টকাট পদ্ধতি হয় না। আপনি যদি নিজের শরীরের একটু যতœ নেন দেখবেন ভাল থাকবেন। কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফিটনেসই হলো আপনার সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। কারণ নিয়মিত এক্সারসাইজ করলে ক্যালরি বার্ন হয়, যা অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে সঠিক ওজন মেনটেইন করতে সাহায্য করে। এক্সারসাইজ শরীরে ইন্সুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বলতে পারেন, এক্সারসাইজ ইন্সুলিনের মতো কাজ করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কার্ডিও এ্যাক্টিভিটি হার্ট ও ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট ও ফুসফুস ভাল থাকে। এখানেই কার্ডিও এক্সারসাইজের প্লাস পয়েন্ট। অনেক সময় আবার স্ট্রেস থেকে রক্তে গ্লুকোজ লেভেল বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। এক্সারসাইজ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, রক্তে গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর থেকেই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন এক্সারসাইজ করাটা কেন জরুরী। সপ্তাহে তিন দিন কার্ডিও ভাসকুলার এক্সারসাইজ করতে পারেন। আস্তে আস্তে রপ্ত হয়ে গেলে সপ্তাহে চার-পাঁচদিন করুন। তবে সপ্তাহে ছয় দিনের বেশি এক্সারসাইজ করবেন না। সপ্তাহে একদিন শরীরকে বিশ্রাম দেয়া জরুরী। হাঁটা, জগিং, স্কিপিং, টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ট্রাই করতে পারেন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করুন নিয়মিত। বাইসাইকেল চালাতে পারেন। ইচ্ছে হলে এ্যারোবিক্সও ট্রাই করতে পারেন। একটু অন্যরকম কিছু করতে চাইলে বক্স্যারোবিক্স, ট্রামপোলিন ওয়ার্কআউটও ট্রাই করতে পারেন। ক্রস ট্রেনিং এক্সারসাইজ করলেও উপকার পাবেন। আর হ্যাঁ, এক্সারসাইজ করার সময় অবশ্যই কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এক্সারসাইজ করার আগে ওয়ার্মআপ করে নেবেন। এতে শরীর এক্সারসাইজ করার জন্য তৈরি হয়ে যাবে, আর চোট লাগার সম্ভাবনাও কম। এক্সারসাইজ করার পর কিছুক্ষণ (যতক্ষণ না আপনার হার্ট রেট নর্মাল হচ্ছে) বিশ্রাম নেবেন। এক্সারসাইজ করার সময় সঠিক জুতো পরবেন, না হলে পায়ে চোট লেগে যেতে পারে। এই ক’টা জিনিস একটু মেনে চলুন। উপকার পাবেন।

ডা. শাহজাদা সেলিম

সহকারী অধ্যাপক

এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ

০১৭৩১৯৫৬০৩৩

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০১৫

৩১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: