মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তিন বিষয় সামনে রেখে গণমুখী কর্মকৌশল নিয়েছে সরকার

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০১৫
  • দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আর নারীর ক্ষমতায়ন
  • সামাজিক খাতের সাফল্য ধরে রাখার উদ্যোগ

এম শাহজাহান ॥ সামাজিক খাতের সাফল্য ধরে রাখতে তিন বিষয় সামনে রেখে গণমুখী কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। এগুলো হচ্ছে- দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটেও অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২৩ বছরে দেশে যত লোক দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে তার প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘটেছে গত পাঁচ বছরে। এই সময়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ দশমিক ৩ বছর হয়েছে। এছাড়া লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে শীর্ষে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর লক্ষ্যভিত্তিক সম্প্রসারণ দারিদ্র্য হ্রাসে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এজন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতে বাজেট বরাদ্দ এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত দেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থান শীর্ষক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, গত ২০০৯-১৪ সময়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে দারিদ্র্য ও অসমতা হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী অন্যতম দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

শুধু তাই নয়, গত পাঁচ বছরে আর্থসামাজিক খাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, খাদ্যশস্য উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, আমদানি, রফতানিসহ সকল অর্থনৈতিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের সকল জনগণের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টিত হওয়ায় দরিদ্র জনগণের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

দারিদ্র্য বিমোচন ॥ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ায় গত পাঁচ বছরে দেশ থেকে ধারাবাহিকভাবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচী এবং পরিকল্পনার কারণে দরিদ্রের হার কমার পাশাপাশি বৈষম্যও কমেছে। ফলে মানব উন্নয়ন সূচকে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগ। শিক্ষার সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সুযোগের সমতা সৃষ্টি হওয়ায় এখন কর্মরত শ্রমশক্তির ৩০ শতাংশের অধিক মহিলা। এছাড়া দেশের প্রায় সকল মানুষকে টিকাদান কর্মসূচী, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুযোগের আওতায় আনা হয়েছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী খাতে বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। কিন্তু এই বরাদ্দ প্রতি বছরই বাড়ানো হচ্ছে। ফলে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র লোকের সংখ্যা ২০০৫ সালের ৫ কোটি ৭৩ লাখ ও ৩ কোটি ৫৯ লাখ থেকে নেমে ২০১৪ সালে ৩ কোটি ৮৫ লাখ এবং ১ কোটি ৫৭ লাখে নেমে এসেছে। তাবে প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে দরিদ্র ও অতিদরিদ্রের হার দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৩ এবং ৯ দশমিক ৯ শতাংশে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে এক সেমিনারে বলেন, আগামী ’২১ সালের পর দেশে কোনভাবেই অতিদরিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না। আবার কিছু কিছু লোক আছেন যাঁরা বলেন দারিদ্র্য শূন্যের কোটায় নেমে আসবে, সেটাও ঠিক নয়। তিনি বলেন, দারিদ্র্যসীমা ১৫ শতাংশের নিচে নেমে এলে সেটিকে দারিদ্র্যমুক্ত বলে দাবি করা যায়। সে হিসাবে বিশ্বের কোন দেশই একেবারে দারিদ্র্যমুক্ত নয়। তিনি বলেন, আমাদের হিসাবে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে দরিদ্রের হার নেমে আসবে ১৪ শতাংশে। তখন এটিকে দারিদ্র্যমুক্ত বলা যাবে। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অতিদরিদ্রের সংখ্যা কমানোটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এটা সম্ভব হবে না। এজন্য প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমেই কাজটি করতে হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ॥ বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে স্বস্তি ও শান্তি বিরাজ করছে বলে দাবি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সরকারের গণমুখী কর্মকৌশলের প্রভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বয়স্কশিক্ষার হার ২০০৫ সালের ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১২ সালে ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। বয়স্ক নারীশিক্ষার হার ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত পেয়েছে। এছাড়া স্বল্পব্যয়ে সহজলভ্য উপায়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ায় দেশের মানুষ এখন অধিকতর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। শিশুমৃত্যুর সংখ্যা হাজারে ২০০৫ সালের ৫০ থেকে ২০১৩ সালে ৩৩ জনে নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, মাতৃমৃত্যুর সংখ্যা হাজারে ৩ দশমিক ৪৮ থেকে ২ দশমিক শূন্য ৪ জনে নেমে আসে। এছাড়া মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হয়েছে। গড় আয়ু ২০০৫ সালে ছিল ৬৫ দশমিক ২ বছর, যা ২০১৩ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ দশমিক ৩ বছর হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ॥ বর্তমান সরকারের গৃহীত সহায়ক নীতি ও উদ্যোগের প্রভাবে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমানতালে এগিয়ে চলছেন। লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বর্তমান শীর্ষ অবস্থানে আছে। বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ‘দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট’ মোতাবেক ২০১৪ সালে ১৪২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৮তম, যেখানে ২০০৬ সালে ১১৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯১তম। লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে দক্ষিণ এশীয় দেশ শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের অনেক পেছনে রয়েছে। এছাড়া উন্নত দেশের মধ্যে ইতালি, গ্রীস ও জাপানের অবস্থানও বাংলাদেশের পেছনে।

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০১৫

৩১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: