রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঘর সাজাতে এ্যাকুরিয়াম

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

বাংলা নতুন বছরের শুরু হবে আর কিছুদিনের মধ্যেই। আর ইংরেজী নতুন বছরের আগমন অনেক আগেই হয়েছে। তাই অনেক আগে ভাগেই ঘর, অফিস, করপোরেট হাউসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইংরেজী বছরের প্রারম্ভেই সাজাতে শুরু হয়ে এখন পরিপাটি অবস্থায় ধরা যায়। তবে বাংলা নতুন বছরের প্রথম ঋতু বৈশাখ থেকেই বাঙালীরা পুনরায় তাদের প্রিয় বাসস্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে নজর দেয়। ঘর সাজাতে কিনা চাই ! আজকের শৌখিন বাঙালীরা তাদের প্রিয় স্থান সে ঘর, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাই হোক না কেন তার সৌন্দর্য বাড়াতে দৃষ্টি দিয়ে থাকে শতভাগ। বর্তমান অভিজাত ও আরামপ্রিয় সবাই তাদের প্রতিদিনকার চলাফেরায়, প্রিয়জনের সাথে ওঠা-বসায়, বসবাসের স্থান সম্পর্কে অতি সচেতন। তাই নিজের পরিম-লে সকলের নিকট আরও গ্রহণযোগ্য করার জন্য তার বাড়ি-ঘর, অফিস, প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যের দিকে খেয়াল করে থাকে। বর্তমানে শৌখিন বাঙালীরা তাদের বাসস্থানের বাড়তি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন রকম ও আকারের এ্যাকুরিয়াম বেছে নিচ্ছেন। যেকোন স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এ্যাকুরিয়ামের জুড়ি মেলা ভার।

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বর্তমানে সকল শৌখিন মানুষের নিকট এ্যাকুরিয়ামের চাহিদা বাড়ছে দিনের পর দিন। সেজন্যই শহরের অভিজাত মানুষ, উচ্চবিত্তের ঘরে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে যোগ হচ্ছে এ্যাকুরিয়াম। ঢাকা শহরে ছোট বড় অনেক এ্যাকুরিয়াম জোন রয়েছে ম যেখানে পাওয়া যাবে বিভিন্ন আকারের ও রকমারি ডিজাইনের এ্যাকুরিয়াম পাত্র, দেশী-বিদেশী নয়নকাড়া দুর্লভ মাছ, মাছের খাবার আর এ্যাকুরিয়াম সাজাতে যা যা দরকার তার সবই। অর্ডার দিলে যেকোন রকমের, সাইজের এ্যাকুরিয়াম বানিয়ে দিতে পারবে এসব প্রতিষ্ঠান। দেশের বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত এ্যাকুরিয়াম সামগ্রী আর মাছ আনা হয় শৌখিন মানুষদের চাহিদার নিমিত্তে।

নতুন সংসার সাজাতে

আজকাল ঘরের সৌন্দর্যের জন্য নব্দম্পতিরা তাদের বাসস্থান সাজাতে ব্যস্ত হয়ে ৃপড়ে। সামাজিকতা বলে কথা ! নিজদের সবার নিকট প্রকাশ করার জন্য থালাবাসন, হাঁড়িপাতিল থেকে শুরু করে নিজের ড্রয়িং রুমকে বাড়তি সৌন্দর্য দান করতে কি শুধুই আসবাবপত্র দিয়ে সাজালে চলে? দরকার এমন কিছু যার জন্য অল্পতেই বাড়িঘরের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ আর আশপাশের আত্মীয়-স্বজনের নিকট তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বেড়ে যায়। তাই নতুন জুটি খুব সহজেই স্মার্টলি এ্যাকুরিয়ামকে ঘর সাজাতে নিয়ে আসে।

করপোরেট অফিস প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে: এ্যাকুরিয়ামকে এই সময়ে ব্যবহার করা হয় বড় বড় কর্পোরেট অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে। এসব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের রিসিপশন কক্ষের দেয়ালে শোভা পায় বিশাল এ্যাকুরিয়াম যা দুর্লভ সব মাছে ভর্তি। কি ধরনের আর কি কি মাছের সমাবেশ চাই তা বললে এ্যাকুরিয়াম তৈরি ও বিক্রেতারা হুবহু সেইধরনের এ্যাকুরিয়াম বানিয়ে দিতে পারে।

এ্যাকুরিয়ামের রকম ফের

বাজার ঘুরলে বিভিন্ন রকমের এ্যাকুরিয়াম দেখতে পাওয়া যাবে। কোনটা দেখতে চারকোনা আকৃতির, কোনটা দেখতে গোলাকার আবার কোনটা অদ্ভুত আকৃতির হয়ে থাকে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এ্যাকুরিয়ামের দোকানে ছোট-বড় কাঁচ-কাঠের নির্মিত বিভিন্ন এ্যাকুরিয়াম পাওয়া যাবে। এইসব এ্যাকুরিয়াম বানানো হয় বাড়তি শো-পিস রাখার জন্য। অর্ডার দিলে এরা এক সপ্তাহের মধ্যেই সুন্দর করে বানিয়ে দেবে সুন্দর সব এ্যাকুরিয়াম। আর মাছ, মাছের খাবার, এ্যাকুরিয়ামের যাবতীয় উপকরণ তো সবসময় পাওয়া যাবেই।

এ্যাকুরিয়ামে মাছ সমাচার

বিভিন্ন রঙিন দেশী-বিদেশী মাছ,মাছের খাবার, অক্সিজেন যন্ত্র, এ্যাকুরিয়াম সাজাতে বিভিন্ন কৃত্রিম ফুল, চরকি, লাইট, রঙবেরঙের পাথর সবই একটি পূর্ণাঙ্গ এ্যাকুরিয়ামে রূপদান করে।

দামী বিভিন্ন রঙের গোল্ডফিশ, ক্যাটফিশ, স্টারফিশ, রঙবেরঙের ছোট হাঙ্গর মাছ, টাইগারফিশ, এসরটেড কই, কার্প জাতীয় মাছ, রিডফিশ, কিলফিশ, ক্যাস্কারডো, গ্রীনগোল্ড, এ্যান্জেলফিশ, ক্যালিকো,কিসিং গৌরামি,অস্কার ফিশ, টাইগার সার্ক, জেব্রা ফিশ, সিল্ভার ডলার প্রভৃতি প্রজাতির এ্যাকুরিয়াম ফিশ এদেশে পাওয়া যায়।

কোথায় কোথায় পাওয়া যাবে ও দরদাম

ঢাকার কাঁটাবনে সাধারণত বেশিরভাগ এ্যাকুরিয়াম শপ গড়ে উঠেছে। জনপ্রিয় এই কাঁটাবন মার্কেটে প্রায় সব ধরনের এ্যাকুরিয়াম ও যাবতীয় মাছ, মাছের খাবার, অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায়। এ্যাকুরিয়াম শপে ছোট-বড় কাঁচের জার পাওয়া যাবে ১৫০-৫০০ টাকার মধ্যে। আর ট্রলি সদৃশ তিনকোনা আকৃতির এ্যাকুরিয়াম পাওয়া যাবে ১৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে। অবশ্য অর্ডার দিয়ে দাম-দর করে বিভিন্ন সাইজের ও রকমের এ্যাকুরিয়াম বানানো যাবে। এইসব দোকানে মাছের খাবার ৫০-১২০ টাকা, চরকি ১০০-১৫০, লাইট ১৫০-২০০, রঙ্গিন পাথর কেজি ২০-১৫০, অক্সিজেন যন্ত্র ১০০-২৫০টাকা, ফুলগাছ ১০০-২৫০০ টাকা, রঙ্গিন ব্যাকগ্রাউন্ড ১০০-১৫০, পুতুল ও যাবতীয় খেলনা পাওয়া যাবে ১২০-২৫০টাকায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন মাছ পাওয়া যাবে সবনিম্ন ৫০ টাকা থেকে ১,২৫,০০০ টাকা উপরে। তবে এসব এ্যাকুরিয়াম শপে সবার কথা চিন্তা করে ৫০-৫০০ টাকা মূল্যের মাছ বেশি শোভা পায় আর বেশি বিক্রি হয়।

ছবি: দীপ ফারহান

মডেল: রিতা ও দীপ

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ ২০১৫

৩০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: