হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্ধকারে আলো ছড়াচ্ছে ‘ইচ্ছে’

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫

আমাদের চারপাশে অসংখ্য পথশিশু আছে, যারা তিন বেলা খেতে পায় না। পায় না ঠিকমতো লেখাপড়ার সুযোগ। মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত এসব পথশিশুদের খোঁজ-খবর নেয়ারও ফুরসত হয় না আমাদের। কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্বপ্নপিয়াসী তরুণ। তারা অবহেলিত এসব পথশিশু ও দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে তারা প্রতিষ্ঠা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইচ্ছে’। সংগঠনটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধান দেয়া, পাশাপাশি শীতার্থ ও দুস্থদের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করা।

‘ইচ্ছে’ প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ছোট্ট একটি গল্প। দিনটি ছিল ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ক’দিন পরই বিশ্ব ভালবাসা দিবস। তাই এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুল বিক্রির ধুম পড়েছে। ক্যাম্পাসের একঝাঁক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে বসে গেলেন ফুল বিক্রি করতে। উদ্দেশ্য ফুল বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে গরিব ও দুস্থদের সেবা করা। এর কিছু দিন পর দেখা গেল, ফুল বিক্রি করে বেশকিছু অর্থ উপার্জিত হয়েছে। ঐ টাকা দিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন এবং তাদের একবেলা আহার করালেন। কিন্তু এত ভাল কাজ তো আর বন্ধ হয়ে যেতে পারে না! তাই তারা সিন্ধান্ত নিলেন একটি সংগঠন গড়ে তুলবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণ এই তরুণরা গড়ে তুললেন ‘ইচ্ছে’ নামের সংগঠনটি।

‘মেধা দেই শ্রম দেই, আর্ত মানবতার সেবা করি; পৃথিবীকে বদলে দেই’ সেøাগানে শুরু হয়েছে তাদের পথচলা। শিক্ষাবঞ্চিত পথশিশুদের অক্ষরজ্ঞান শেখাতে তারা এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ইচ্ছে’ নামের একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে প্রায় ২৫ জন পথশিশু শিক্ষাগ্রহণ করছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এসব শিশুদের পাঠদান করানো হয়। শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ক্যাম্পাসের মেডিক্যাল সেন্টারের পাশে গো-খামারের বারান্দায় চলছে এই আলো ছড়ানোর কার্যক্রম। ছোট্ট একটি বারান্দায় কষ্ট করে শুধু ইচ্ছার জোরে পড়াশোনা করছে এই শিশুরা। তবে শিশুদের মনে আনন্দের কোন কমতি নেই। কারণ এখানে নেই কোন বেতের ভয়, নেই বেতনের মতো কোন ঝামেলা। আছে শুধু আনন্দ। আনন্দের মাধ্যমেই এখানে শিশুরা সবকিছু শেখে।

শিশুদের বই-খাতা, কলম-পেন্সিলসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ‘ইচ্ছে’ই বহন করে থাকে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এসব ব্যয়ভার বহন করতে ‘ইচ্ছে’র কোন দাতা সংস্থা বা আলাদা কোন ফান্ড নেই। সংগঠনের সদস্যদের প্রদেয় চাঁদা এবং বিভিন্ন দিবসে ফুল বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে চলে এর যাবতীয় কার্যক্রম।

শুধু শিক্ষার প্রসারেই না, ‘ইচ্ছে’ কাজ করে যাচ্ছে আর্ত মানবতার সেবায়ও। সংগঠনের একঝাঁক আত্মনিবেদিত কর্র্মী নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন এসব মানবসেবামূলক কার্যক্রমে।

য় জাকির হোসেন তমাল

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫

২৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: