কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামে ৭ শিবির ক্যাডার গ্রেফতার ॥ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫
চট্টগ্রামে ৭ শিবির ক্যাডার গ্রেফতার ॥ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ  নথি উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ বন্দর নগরী চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিশেষ করে কেপিআই (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) স্থাপনাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জামায়াত শিবিরসহ জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্তদের হাতে চলে গেছে। এ বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রীতিমত বিস্মিত করেছে।

নগরীতে ফজলুর রহমান জুয়েল নামের এক শিবির নেতা ও ক্যাডার গ্রেফতার হওয়ার পর তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বেশিকিছু গোপন নথিপত্র উদ্ধারের পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। যদিও এখনও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণস্থাপনাসমূহের নথিপত্র উদ্ধার করা যায়নি। তবে পুলিশ নিশ্চিত সবক’টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার গোপন নথিপত্র এরা ইতোমধ্যে জোগাড় করে নিজেদের সংরক্ষণে নিয়েছে। প্রয়োজনে এসব স্থাপনা নিয়ে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে তারা তৎপর হবে।

সিএমপি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে গ্রেফতার হয় পতেঙ্গা থানা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ফজলুর রহমান রুবেল। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয় সহযোগী ক্যাডার জমির উদ্দিন, খালিদ হাসান প্রকাশ রানা, আবদুল করিম, মাহবুবুর রহমান, করিম ও এজিএম আলী আরিফ। গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এদের কাছ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বেশকিছু গোপন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। সূত্র জানায়, ২০১০ সালে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে একটি গোপন প্রতিবেদন তৈরি করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া ১০১ জন শ্রমিক কর্মচারীর একটি তালিকা ছিল। বন্দরের দু’জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ওই নামের তালিকাসহ পুরো প্রতিবেদনটির অনুলিপি পুলিশ শুক্রবার রাতে শিবির নেতা ফজলুর রহমান রুবেলের কাছ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। রুবেলকে তার ৬ সহযোগীসহ পতেঙ্গা এলাকার ডেইলপাড়ার জনৈক শাহাব উদ্দিনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা গোপন নথিপত্র রুবেলের আস্তানায় পাওয়া গেছে। এগুলো তাদের হাতে কিভাবে এবং কেন গেল তা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে উদঘাটন করা হবে। পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে পতেঙ্গার তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, শিবির সেক্টর, দেশে জ্বালানি তেলের একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ কী পয়েন্ট ইনস্টলেশনগুলোর নক্সা ও এর অভ্যন্তরীণ কার্য প্রক্রিয়ার গোপন তথ্যাদি জামায়াত বিএনপির মাধ্যমে জঙ্গীদের হাতে চলে গেছে বলে তারা অবহিত হয়েছেন। কিন্তু ঠিক কাদের কাছে এগুলো রয়েছে তা এখনও অজানা। শিবির নেতা রুবেলের আস্তানা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের গোপন নথিপত্র উদ্ধারের পর এ ব্যাপারে পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গোপন নথিপত্র জামায়াত-শিবিরের কাছে যাওয়ার ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) সাংবাদিকদের শনিবার জানিয়েছেন, কি ধরনের গোপন নথিপত্র পাওয়া গেছে তা এখনও তারা অবহিত নন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে বন্দরে আন্দোলন শুরু করেছিল ডক শ্রমিকরা। আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিলে এর নেতৃত্ব আওয়ামী লীগপন্থী শীর্ষ ডক নেতাদের হাতে চলে যায়। সুযোগ নিয়ে আন্দোলনে সংযুক্ত হয় জামায়াত সমর্থিত শ্রমিক নেতারা।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক এনামুল কবির গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর অচল এবং পতেঙ্গার তেল স্থাপনায় নাশকতা চালানোর মিশন নিয়ে সে চট্টগ্রাম এসেছিল। দেশের জ্বালানি তেলের প্রধান সংরক্ষণাগার ও সরবরাহের মূল কেন্দ্র পতেঙ্গার গুপ্তখাল এলাকায় প্রতিষ্ঠিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি ও কয়েকটি লুব অয়েল ব্লান্টিং প্ল্যান্ট ধ্বংস করার নীলনক্সা প্রণীত হয়েছিল। শিবির নেতা এনামুল কবির ধরা পড়ে যাওয়ায় সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বর্তমানে এ স্থাপনা সংলগ্ন সাধারণ চলাচলের পথটি বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গমনাগমনের জন্য ভিন্ন রুট ব্যবহার করা হচ্ছে।

পতেঙ্গা-ইপিজেটটি শিবিরের ঘাঁটি ॥ ২০ দলীয় জোটের বর্তমান নাশকতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির ব্যাপক তৎপরতায় জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা বন্দর-পতেঙ্গা ও ইপিজেড এলাকায় গোপন ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। শহর এলাকায় ধাওয়া খেয়ে এরা আত্মরক্ষার্থে এ এলাকাসমূহকে নিরাপদ হিসেবে বেছে নিয়েছিল। এমনিতেই পতেঙ্গা ইপিজেড এবং বন্দর থানার মধ্যে শিবির নেতাকর্মীদের পদচারণা ও বসবাস উল্লেখযোগ্য। এ সুযোগ নিয়ে এরা চট্টগ্রাম বন্দরসহ তেল স্থাপনায় নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পুলিশী তৎপরতায় তা ফাঁস হয়ে যায়। এছাড়া শহর এলাকার মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা, দেওয়ানবাজার, চন্দনপুরা, শুলকবহর, কাপাসগোলা, চকবাজার, বাকলিয়াসহ সংশ্লিষ্ট শহরতলী এলাকায় জামায়াত শিবিরের যে একক আধিপত্য দীর্ঘদিন ছিল পুলিশী অভিযানে তাতে ধস নেমেছে।

বিএনপি-জামায়াতের গ্রেফতার ১০ ॥ ২০ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের নামে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ৪ বিএনপি, ৩ জামায়াত ও ৩ শিবিরকর্মী। সীতাকু-, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থানায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫

২৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: