কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নাটোরে বাঁশ শিল্প ঘিরে জীবিকা দু’শতাধিক পরিবারের

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

এক সময় নাটোরের সিংড়া বাঁশ শিল্পের জন্য ছিল বিশেষ খ্যাত। কালের পরিক্রমায় বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার আর নগরায়নের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যময় এই শিল্পটি। মানুষের চাহিদা মেটাতে বাঁশের জায়গা দখল করেছে কৃত্রিম উপকরণে তৈরি নানান সামগ্রী। তবে তাতে প্রয়োজন মিটলেও চিত্তে তেমন করে নাড়া দেয় না। প্রকৃতি থেকে পাওয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি সামগ্রীতে যে দৃষ্টিনন্দন শিল্প আছে, কৃত্রিম সামগ্রীতে তা অনুপস্থিত। অপরদিকে নিজেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ক্রেতা সাধারণকে প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনতে বাঁশ শিল্পের কর্মীরাও পিছিয়ে নেই। তারা বাঁশের গায়ে রঙের প্রলেপ মেখে করে তুলছে আকর্ষণীয় মনোমুগ্ধকর। নাটোরের সিংড়া পৌর এলাকার গোডাউনপাড়ায় দুই শতাধিক পরিবার বাঁশ শিল্পের ওপর নির্ভর করে এখনও সংসারের নড়বড়ে চাকা ঘুরিয়ে চলেছে।

আধুনিক কৃত্রিম শিল্পের রমরমা বাজারেও বাঁশ শিল্পীদের মনের মাধুরী মেশানো তৈরি নানান সামগ্রী ফের ক্রেতা সাধারণের দৃষ্টি কাড়তে শুরু করেছে। আর তাদের টিকে থাকতে এ কাজে সহযোগিতা করছে সামাজিক সংগঠনগুলো। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তি উদ্যোগও প্রত্যন্ত জনপদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কুটির শিল্পের বিকাশে অবদান রাখছে। তারা বাণিজ্যিক কারণেই অর্থ-নক্সা সরবরাহ করে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। নক্সা অনুযায়ী তৈরি সেসব বাঁশজাত সামগ্রী বেচতে শিল্পীদের কোথাও যেতে হয় না। অর্থলগ্নীকারীরাই সমুদয় সামগ্রী কিনে নিয়ে বাজারজাত করছে। তাতে বাঁশ ও মজুরি মিলে দাম কিছু কম পাওয়া গেলেও শ্রম এবং সেইসঙ্গে সাশ্রয় হচ্ছে সময়। নাটোরের সিংড়ার গোডাউনপাড়ার বাঁশ শিল্পীরা মূলত চাটাই বা তালাই তৈরি করে থাকে। টিনের ঘরে সিলিং, খাটের পাটাতনে বিছাতে এখনও চাটাই বা তালাইয়ের ব্যাপক ব্যবহার হয়। বংশ পরম্পরায় এরা নিজেরা যেমন এ শিল্পটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে, তেমনি প্রয়োজনের তাগিদেই শিল্পটিকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে। তালাই বা চাটাইয়ের পাশাপাশি এরা দৈনন্দিন সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তৈরি করে থাকে।

অল্প পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ, স্বল্পপরিশ্রম ও সময়ের বিনিময়ে লাভজনক হওয়ায় এখানকার ৯০ ভাগ নারী-পুরুষ পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে চাটাইশিল্প। প্রত্যেক পরিবারের স্বামী-স্ত্রী, এমনকি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরাও লেখাপড়ার পাশাপাশি জীবনের তাগিদে চাটাইশিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে। সরেজমিন দেখা যায়, নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসে বাঁশের চটা তুলে চাটাইয়ের বিনুনি গাঁথছে। এসব চাটাই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। চাটাই ছাড়াও তারা ডালি, কুলা, ধান রাখার ডোল ও মাছ ধরার ফাঁদ তৈরি করে।

Ñকালিদাস রায়, নাটোর থেকে

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: