মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মুক্তিযোদ্ধা বাবার স্বীকৃতি চেয়েছেন দুই সন্তান

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে, দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এক অকুতভয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও আজ আমরা সেই অর্জনটুকু কাজে লাগাতে পারছি না। বাবার স্বীকৃতিটুকু থাকলে খুব সহজে সেটিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের কর্মসংস্থান তৈরি হতো। অথচ অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা নামী-দামী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ আবুল কাসেম খানের বড়পুত্র রাসেল খান জাহিদ ও তার ছোট ভাই সোলায়মান খান বিপ্লব।

তারা আরও বলেন, বাবা তার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন প্রাণপণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মারা গেছেন। তার পর মা একই চেষ্টা করে বাবার মতো আমাদের দু’ভাইকে চিরদিনের জন্য এতিম করে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেছেন। এখন আমরা দু’ভাই বেকার অবস্থায় পথে পথে ঘুরে বেড়ালেও একমাত্র বাবার স্বীকৃতির অভাবে কোন কর্মসংস্থানে যোগদান করতে পারছি না। রাসেল খান জাহিদ এইচএসসি ও তার ছোটভাই সোলায়মান খান বিপ্লব বিএ পাস করেছেন। তাদের পিতা মুক্তিযোদ্ধা কাসেম খান ১৯৯৬ সালের ৬ জুন মারা যাওয়ার পর অর্থাভাবে তাদের একমাত্র বোন ইভা খান বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় তাদের পড়াশোনা। এখন তারা দু’ভাই বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ফলে তাঁরা তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা পিতার স্বীকৃতি পেতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে স্থানীয় মুজিব বাহিনীর কমান্ডার জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে জেলার গৌরনদীতে পাকহানাদার প্রতিরোধে সম্মুখযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাবেহরামপুর ইউনিয়নের ক্রোকিরচর গ্রামের আবুল কাসেম খান। সে হিসেবে মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক অধিনায়ক (বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী) তোফায়েল আহমেদের স্বাক্ষরিত সনদপত্রও রয়েছে তাঁর। এছাড়াও তাঁর সহযোদ্ধারা এখনও রয়েছেন জীবিত। দেশ স্বাধীনের পর জীবিকার তাগিদে ঢাকায়ই তাঁদের বসবাস ছিল। কাসেম খান তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পর কাসেম খানের স্ত্রী জীবন নেছা খানম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন-নিবেদন করেও স্বামীর মতোই ব্যর্থ হয়েছেন।

Ñ খোকন আহম্মেদ হীরা

বরিশাল থেকে

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: