মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বধ্যভূমি সংরক্ষণের দাবি করে ৪৪ বছর অপেক্ষা!

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা মির্জা হাবিবুর রহমান বেগ হবিসহ ৩৭ মুক্তিযোদ্ধার বধ্যভূমি কালের বিস্মৃতিতে হারিয়ে যাচ্ছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বেগের পরিবার বধ্যভূমি খননসহ স্মৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে বিভিন্ন মহলের কাছে দাবি করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

পাবনার গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বেগের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ জেলা প্রশাসক নুরুল কাদের খানের পরামর্শে পাবনা জেলা স্কুলসহ কয়েকটি জায়গায় ছাত্র যুবকদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন আনসার এ্যাডজুট্যান্ট বরকত ও পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বেগ। ২৭ মার্চ রাত ১টায় পুলিশ লাইনে পাক সেনারা আক্রমণ চালালে হাবিবুর রহমান বেগসহ পুলিশ আনসাররা তা প্রতিরোধ করেন। এখানে চার পাকসেনাসহ একজন অবাঙালী সোর্স নিহত হয়। ২ এপ্রিল নগরবাড়ী ঘাটে পাকসেনাদের সঙ্গে ২ দিনব্যাপী যুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা মির্জা হাবিবুর রহমান বেগ ছেলে আলাসহ অংশ নেন। পাকবাহিনী নগরবাড়ী ঘাট দখল করে রাস্তার দু’ধারের বাড়িঘর গানপাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে পাবনায় প্রবেশ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক নুরুল কাদের খান পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান হবিকে তার সঙ্গে ভারতে যাওয়ার জন্য বললে তিনি না গিয়ে তার পরিবার পরিজনদের খুঁজে আটঘরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

৬ এপ্রিল পাকসেনারা পাবনা দখল করে নেয়। পাকসেনারা রাজাকার আলবদরদের নিয়ে নুরুল কাদের খান, রফিকুল ইসলাম বকুল, পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান হবি, আনসার এ্যাডজুট্যান্ট বরকত ও পুলিশ কর্মকর্তা এনআই খানকে খুঁজতে বিভিন্ন গ্রামে হানা দেয়। তাদের না পেয়ে গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। ৬ মে রাতে পাকসেনারা পাবনা পুলিশ লাইনে আক্রমণ করে। ৩৬ পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়।

এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন পুলিশ অফিসার হাবিবুর রহমান হবি ও আনসার এ্যাডজুট্যান্ট বরকত। একই দিন রাত ১২টার দিকে পাওয়ার হাউস এলাকায় পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান হবি ও আনসার এ্যাডজুট্যান্ট বরকত শহীদ হন। রাতে পাকবাহিনী ও রাজাকার আলবদররা হাবিবুর রহমান ও বরকতের শরীর বেয়নেট দিয়ে ফালা ফালা করে বালিয়াহালট গোরস্থানের পুকুরের পাশে তালগাছে ঝুলিয়ে রাখে। এখানেই অন্য ৩৫ শহীদের সঙ্গে তাদের মাটিচাপা দেয়া হয়। ১৯৮৫ সালে পাবনা পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম পুলিশ প্যারেড ময়দানে শহীদ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন। সে স্মৃতিস্তম্ভের তালিকায় ২ নম্বরে রয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা মির্জা হাবিবুর রহমান বেগ। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি সেই শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘ ৪৪ বছরের এ অপেক্ষা লজ্জাজনক। বলেছে হাবিবুর রহমানের পরিবার।

Ñকৃষ্ণ ভৌমিক,পাবনা থেকে

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: