আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নওগাঁয় গণকবর ও বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়নি

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫
  • স্মৃতিচিহ্ন অরক্ষিত

নওগাঁর ধামইরহাটে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর পাকি-হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত স্বাধীনতাকামাী মানুষের গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো আজও চিহ্নিত করা হয়নি। গণকবরগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে কালের বিবর্তনে একদিন এসব দেশের মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে। এলাকাবাসী এসব গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের জোরদাবি জানিয়েছেন।

নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৫৬ কিলোমিটার উত্তরে ভারতের কোল ঘেঁষে ধামইরহাট উপজেলার অবস্থান। স্বাধীনতাযুদ্ধে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিবাহিনী তাদের সহযোগিতা করার জন্য রাজাকার, আল সামস ও আলবদর বাহিনী গঠন করে এলাকার মুক্তিকামী জনতার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এসব বাহিনীর সহযোগিতায় পাকি বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকলে গ্রামবাসী দলে দলে প্রাণভয়ে সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। এছাড়া এ পথ দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন ভারতে প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য আশ্রয় নিয়েছিল। তাই পাকিÑ মুক্তিবাহিনীকে দেশে ঢুকতে না দিতে এবং দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় ঠেকাতে এ উপজেলার ফার্শিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত অংশে সেনা ক্যান্টনমেন্ট গড়ে তোলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের শেষ দিকে।

হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এ দেশী রাজাকার, আল সামস ও আলবদর বাহিনী যোগ দিয়ে ব্যাপক নির্যাতন অগ্নি সংযোগ, নারীর সম্ভ্রমহানিসহ গণহত্যা চালিয়ে যায়। যদিও এ উপজেলা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর। এর আগে নির্মম অত্যাচার এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্দেহে নিরীহ গ্রামবাসীদের ধরে এনে গুলি করে হত্যা করা হয় নির্বিচারে। অনেক লাশের পরিচয় না পাওয়ায় প্রধান সড়কের ধারে এবং ক্যান্টনমেন্টের আশপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক লাশ শিয়াল-কুকুরের পেটে যায়। গন্ধে ওই এলাকার আশপাশের বাতাস বিষাক্ত হয়ে ওঠেছিল। এসব হত্যার নজির ফার্শিপাড়া গ্রামের দক্ষিণ ধারে দুটি এবং উত্তরে বেশ কয়টি গণকবর রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী কুলফৎপুর গ্রামের ১৪ জনকে একই দিনে স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যার পর তাদের লাশ যত্রতত্র পড়ে থাকলেও গ্রামবাসী পাকিসেনাদের ভয়ভীতিতে উপেক্ষা করে লাশগুলো উদ্বার করে কোন রকমে মাটিচাপা দেয়। এই স্থানটিতে উমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিহত ১৪ জনের নামফলক স্থাপন করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি।

অন্যদিকে এ উপজেলার পাগল দেওয়ান মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমির স্মৃতিচিহ্ন আজও রক্ষা করা যায়নি। গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৪৪ বছরে এগুলোর স্মৃতি আজও ধরে রাখার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি সরকারীভাবে। খোঁজ নেয়া হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নিহত মানুষগুলোর অসহায় পরিবারগুলোর হাল-হকিকত।

Ñবিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ থেকে

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: