রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শিশু-কিশোরদের জন্য বঙ্গবন্ধুর সহজপাঠ

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫
  • ইব্রাহিম নোমান

স্বাধীনতা এক অমূল্য রতœ। তার রয়েছে অনন্য স্বাদ। আত্মমর্যাদাবোধের আরেক নাম। তাই স্বাধীনতা লাভ যেমন সব মানুষের কামনা তেমনি তাঁর অর্জনেও থাকে অনেক ত্যাগ ও সংগ্রাম। বাঙালী জাতির ললাটে সেই স্বপ্নের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাঁর তুলনা শুধুই তিনি। তিনি জন্মেছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পেরেছি। তিনি সকল অর্থেই স্বদেশের প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশের মানুষের গভীর মমতা ও ভালবাসায় সিক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি নিজে সারাজীবন দেশের গরিব দুঃখী মানুসের আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্যে সংগ্রাম করেছেন। দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটোছুটি করেছেন। দেশের প্রতিটি ধূলিকণা-বালিকণার সঙ্গে তাঁর রয়েছে নাড়ির সংযোগ। প্রকৃত অর্থেই শেখ মুজিব বাংলাদেশের আরেক নাম। তিনিই বাংলাদেশ। তাঁর এই অসামান্য অবদানের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে সহজপাঠের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান। বইটির নাম দিয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু সহজপাঠ’।

দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান ১ মে ২০০৯ তারিখে দশম গবর্নর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নীতিনির্ধারণী, প্রশাসনিক কর্মব্যবস্ততার মাঝেও নিরন্তর নিজেকে সৃজনশীল গবেষণা ও লেখালেখিতে ব্যাপৃত রেখেছেন তিনি। কৃষি শিক্ষা দারিদ্র্য বিমোচন সামাজিক নিরাপত্তা পরিবেশ ও সুশাসনসহ বহুমুখী গবেষণায় সম্পৃক্ত থেকেছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ইতোমধ্যে তাঁর বহু গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বই লিখেছেন অর্ধশতাধিক। উন্নয়ন অর্থনীতি ছাড়াও ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও রবীন্দ্রনাথের আর্থ-সামাজিক ও বহুমাত্রিক শিল্পচিন্তাবিষয়ক তাঁর বেশকিছু উল্লেখযোগ্য বই প্রকাশিত হয়েছে।

ড. আতিউর রহমান স্বদেশী উন্নয়ন কাঠামোর একজন শিরোপাধারী ব্যক্তিত্ব, যার শেকড় প্রোথিত রয়েছে রবীন্দ্র দর্শনে, যা কৌশলগতভাবে নিহিত আছে কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে। তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণের একজন বিশেষজ্ঞ এবং তাঁর অন্যতম প্রধান গবেষণা ক্ষেত্র হলো কৃষকের শ্রেণীবিন্যাস। চরের দীন-হীন বাসিন্দাদের নিয়েও তিনি উল্লেখযোগ্য গবেষণা করেছেন। পরিবেশ অর্থনীতি নিয়েও তিনি উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর এই গবেষণালব্ধ জ্ঞানের সফল বাস্তবায়নে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন। সমাজের প্রতি অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের সম্মানজনক অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক (২০০০), চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক (২০০৮), শেলটেক এ্যাওয়ার্ড (২০১০), কোলকাতাস্থ এশিয়াটিক সোসাইটির ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণস্মারক (২০১১), নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ন্যশনাল এ্যাওয়ার্ড (২০১২) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়ার্ল্ড নো টোবাকো ডে এ্যাওয়ার্ড (২০১২) সহ অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন।

তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার মানসে যথাসাধ্য আন্তরিক চেষ্টা করেছেন ড. আতিউর রহমান। বইটির পা-ুলিপি পাঠ করে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের পরামর্শ দিয়েছেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক বেবী মওদুদ। সঙ্গে প্রয়োজনীয় কারিগরি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক হায়াতৎ মামুদ। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন হাশেম খান।

শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম বইটি পড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সম্যক জানতে পারবে।

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: