আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক সমীপে

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

ব্রিটিশের দখলি আইন!

ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ জয় করে কতগুলো জঘন্য আইন করে গেছে, এগুলোর কারণে এদেশে মাস্তানি বেড়েই চলেছে। শান্ত-ভদ্র আইন পালনকারী লোকদের আজকাল সমাজে টেকাই কঠিন। মাস্তানের ছেলে সাধারণত মাস্তানই হয়। তাই জোর করে আইনবহির্ভূতভাবে দখল করে পৈত্রিক সম্পত্তি। কিছুদিন দুর্বল অংশীদার গ্রাম্য বিচারের আশ্বাস পেয়ে আইনের কাছে যায় না। এক এক করে মাস যায় বছর যায়। কখন দীর্ঘ দিন কেটে যায়। তখন আসামি পক্ষ আদালতে গেলে দীর্ঘদিনের দখল দেখানোর সুযোগ পেয়ে যান। জবর দখলকারীর উকিল সাহেব তখন আদালতকে বুঝাতে সুুযোগ পান যে, তার মক্কেল দীর্ঘদিন থেকে ভোগ-দখল করে আসছেন। তাই জায়গার ওপর ঘরের ওপর তার অধিকার বর্তায়। কি চমৎকার যুক্তি। মালিকানার কোন কাগজপত্র নাই।

এই ভোগদখল ব্যাপারটাই হলো আসলে জবরদখল মাস্তানি। এই আইনের জন্যই অপরাধ বাড়ছে, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই এখন জবরদখলকে ভোগদখল হিসেবে দেখাচ্ছেন। জবরদখলকারী যদি নিকট আত্মীয়ও হন, তিনি ভোগদখলের দাবি নিয়ে আদালতে মালিকানার দাবি করার অধিকার রাখে না। অথচ অন্যায় পথে বিরাট টাকার মালিক হলে গরিব আত্মীয়কে ভোগদখলের অজুহাতে মালিকানা দাবি করে জায়গা-জমি নিয়ে যাচ্ছে, এটা থেকে দুর্বল আত্মীয়কে রক্ষা করার জন্য পুলিশের মাধ্যমে দখলকারীকে উচ্ছেদ করে যথার্থ মালিককে জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই ভোগ দখলকারী আর মালিক সাজার সুযোগ পাবেন না। তবে যথার্থ মালিকের কাছে অথবা তার উত্তরাধিকারকে মালিকানার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

রাধাকান্ত রায়

পানিধার, বড়লেখা।

আইনের গতিধারা

আদালতে বিচারাধীন যে কোন মামলা নিষ্পত্তিতে যদি কয়েক বছর সময় লেগে যায় তাহলে আইন ও বিচারের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে, বিধায় বিচার কার্যেগতি আনা প্রয়োজন। দীর্ঘসময় একটি মামলা চালাতে গিয়ে বিচারপ্রার্থী মানুষগুলো আর্থিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধরে নেয়া যাক এক ব্যক্তির ১০ শতাংশ জমির বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে আইন ও আদালতের আশ্রয় নেয়া হলো। এতে যদি মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সময় অতিক্রম হতে থাকে, বাধ্য হয়ে ওই ১০ শতাংশ জমি রক্ষার্থে বিচারপ্রার্থী ব্যক্তি আরও ২০ শতাংশ জমি অথবা বসতবাড়ি কিংবা সুদে ধার-দেনা করে মামলা চালাতে হয়, তাহলে বলা যায় না ‘মুরগির জন্য গরু বলী’ এভাবে চলতে থাকলে হয়ত বা এক সময় মানুষ (বিচারপ্রার্থীগণ) আইন আদালত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বৈকি।

সুতরাং আইন আদালতকে সকল কিছুর উর্ধে রাখতে হবে, বিচারপ্রার্থীদের অহেতুক আর্থিক, মানসিক, শারীরিক শাস্তি দেয়া উচিত হবে না। দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই প্রার্থনা।

কাজী নুরুল আমিন

কলেজ রোড, শ্রীনগর

মুন্সীগঞ্জ।

হতে পারে দর্শনীয় স্থান

রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন দেশের বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কবরস্থানের নির্মাণ কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলছে। যা প্রায় সমাপ্ত হওয়ার পথে। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে একটি সুন্দর নিরিবিলি এবং শান্ত পরিবেশে নির্মিত হচ্ছে, যা কেবল মৃতদেহ কবরস্থ করাই নয় এটি একটি দর্শনীয় স্থান হবে বলেও বিবেচিত হচ্ছে, এর নির্মাণ শৈলীর কারণে। এমনি একটি কবরস্থান নির্মিত হোক রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এই দাবি পূরণে বর্তমান সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা দ্রুত কাজ শেষ করতে সহয়তা করছে। কবরস্থানের প্রবেশের জন্য যে কয়েকটি গেট নির্মাণ এবং একটি মসজিদও নির্মাণ হয়েছে। এই গেটগুলোর ওপরে যদি গোলাকার আকৃতির গম্বুজ এবং মসজিদের পাশে একটি সুউচ্চ মিনার তৈরি করা হয় তবে তার সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে। এই বিশাল কবরস্থানে কয়েকটি কর্নার করা যেতে পারে। তবে তা চিরস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য নয়। যেমন বীর উত্তম, বীর প্রতীক, বীর বীক্রম পদকপ্রাপ্ত এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, কবি-সাহিত্যিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আলেম ওলামাদের জন্য। যা তাদের স্মরণে বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের আনাগোনা এবং দোয়া-কালাম পাঠে কবরস্থানের পরিবেশ এবং পরিস্থিতি আরও সুন্দর হবে। সারাক্ষণ কোলাহল মুখরিত থাকবে।

মুহাম্মদ ওসমান গনী

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

রক্ত এখনও শুকায়নি

বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু দীর্ঘ ৪৪ বৎসর পর পাকি-ইয়াহিয়া খানের ভূমিকায় বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের নিরীহ মানুষকে পুঁড়িয়ে মারছেন। তাঁর দুনীতিবাজ খ্যাত ছেলে (তারেক) বিদেশে বসে কলকাঠি নাড়ছে। যে খালেদা জিয়া ’৭১ সালে ৯টি মাস পাকিদের হেফাজতে আরাম আয়েশে ছিলেন সে আজ সে কথা ভুলতে পারছেন। তার এই আচরণের জন্য কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রীর কথার সঙ্গে আমি বলতে চাই, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিধ্বনি করে বলতে চাই, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত এখনও শুকায়নি। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া আজ সারাদেশে রক্ত ঝরাচ্ছে। তা মেনে নেয়া যায় না। বঙ্গবন্ধু ভাষায় বলতে চাইÑ ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো, এদেশ হতে পাকি-দোসর ও স্বাধীনাতবিরোধীদের বিতাড়িত করবই ‘ইন্শাআল্লাহ’। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা শেষ হয়ে যাইনি, শুধু ডাকের অপেক্ষায় আছি।

মুহাম্মদ গোলাম মোস্তাফা

(যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা)

কিশোরগঞ্জ।

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: