কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রিমোট কন্ট্রোল গুবরে পোকা

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ ২০১৫

উড়ে চলার সময় গুবরে পোকা কিভাবে গতিপথ ঠিক করে চলে? সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক একটা কাজ করেছেন। তারা এক অতিকায় ফ্লাওয়ার বিটলের গায়ে একটা ইলেক্ট্রনিক ব্যাকপ্যাক বেঁধে দিয়ে সেটাকে উড়তে দিয়েছেন এবং এভাবে তাদের প্রশ্নের ফলাফল রেকর্ড করেছেন।

উড়ন্ত গুবরে পোকাকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের কাজটা মানুষ যে এই প্রথম করল, তা নয়। তবে এই গবেষণার মধ্য দিয়ে নতুন যে জিনিসটা দাঁড়িয়েছে তা হলো, বিজ্ঞানীরা তাদের পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত পোকাগুলোকে আরও ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। আর গবেষণার ফলে জানা গেল যে, গুবরে পোকর ওড়ার কাজে যতগুলো পেশি জড়িত থাকে বলে এতদিন ধারণা করা হতো, বাস্তবে তার চেয়ে অধিকতর পেশি জড়িত। বিজ্ঞানীরা আগে ভাবতেন যে ডানার একটা ছোট মাংসপেশি শুধুমাত্র ডানা মেলে দেয়ার কাজটাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এখন দেখা যাচ্ছে, বিটলরা এটাকে মাঝ আকাশে দিক পরিবর্তনের কাজেও ব্যবহার করে। এই জ্ঞানটুকু অর্জিত হলে বিজ্ঞানী দল এর ভিত্তিতে একটি সাইবোট বিটল তৈরি করেন এবং সেটিকে আগের যে কোন সময়ের তুলনায় আরও নিখুঁতভাবে চালাতে সক্ষম হন।

এ কাজটি করার জন্য তারা ছোট একটা করে ব্যাকপ্যাক বিটলগুলোর গায়ের সঙ্গে বেঁধে দেন। বলাবাহুল্য, বিটলগুলোর ওজন এক আউন্সের ২ ভাগের ৬ ভাগ আর ব্যাকপ্যাকের ওজন ২০ ভাগের ১ ভাগ। ব্যাকপ্যাকে ছিল একটা ব্যাটারি, ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটার, বিটলের ফ্লাইট মাংসের সঙ্গে যুক্ত ইলেক্ট্রোড এবং অপটিক লোব। ইলেক্ট্রোড দিয়ে গুবরে পোকাগুলোর পেশি নিয়ন্ত্রণ করে গবেষকরা ওড়ার সময় বাঁক নেয়ার কাজটা আরও বেশি করে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন।

এভাবে দূর থেকে গুবরে পোকাদের ওড়ার কাজ নিয়ন্ত্রণ সুষ্ঠুভাবেই করা সম্ভব হয়েছে। তবে গবেষকরা আশা করেন যে, গুবরে পোকাদের ওড়ার কাজ নিয়ন্ত্রণের এই কৌশলটাই একদিন এমন সব উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা যাবে, যেখানে সংকীর্ণ স্থান দিয়ে উড়ে যাওয়া মানুষের জন্য অতিমাত্রায় বিপজ্জনক। ব্যাপারটা এমন যেন ভবিষ্যতের উদ্ধার অভিযানগুলো কীটনাশক কর্মীদের দিয়ে পরিচালিত হতে পারে।

সূত্র : এ্যানিমেল সায়েন্স

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ ২০১৫

২৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: