মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পোড়ামাটির রাজনীতির শেকড় সন্ধানে

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
  • মিনার মনসুর

এ তো কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয় যে একাত্তরে পাকিস্তানীরা যে কাজটি করতে চেয়েছিল, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঠিক সেই কাজটিই করেছিল তাদের এদেশীয় এজেন্টরা। পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের মূল লক্ষ্য ছিল দুটি। প্রথমত, বাঙালীর ঐক্য, সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা এবং দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার চেতনায় উত্তাল বাঙালী জাতিকে সমুচিত শাস্তি দেয়া। এ লক্ষ্যে তারা একটি নীলনকশাও তৈরি করেছিল। খোলাখুলিই জানিয়ে দিয়েছিল যে পাকিস্তানের অন্তর্গত বাংলাদেশ নামক এ জনপদটিতে তাদের কোন মানুষের দরকার নেই। শুধু পোড়ামাটি থাকলেই চলবে। ভয়ঙ্কর এ নীলনকশার বাস্তবায়নও শুরু করেছিল তারা। বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের কারাগারে। সেই সঙ্গে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে রক্তলোলুপ হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর। সংঘটিত করেছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা। সম্ভ্রমহানি করেছিল লাখ লাখ নারীর। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে লুণ্ঠন করে নরকে পরিণত করেছিল শ্যামল-কোমল এ জনপদকে। কিন্তু তার পরও তাদের সেই খায়েশ পূর্ণ তো হয়ইনি, বরং বাঙালীদের বীরোচিত প্রতিরোধের মুখে লজ্জাজনকভাবে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল হাজার হাজার হানাদার সৈন্যকে। সর্বোপরি বিশ্ব জনমতের প্রবল চাপের মুখে তারা বাধ্য হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে।

পাকিস্তানীরা পরাজয়ের সেই গ্লানি যে কখনই ভুলতে পারেনি এবারের আইসিসি বিশ্বকাপেও তার চরম বিদ্বেষপূর্ণ বহির্প্রকাশ আমরা দেখেছি সাবেক ক্রিকেটার রমিজ রাজাসহ কারও কারও কণ্ঠে। বস্তুত বাংলাদেশের জন্মমুহূর্ত থেকেই প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল তারা। একাত্তরের অসমাপ্ত নীলনকশার বাস্তবায়নে বিস্তার করেছিল সর্বাত্মক ষড়যন্ত্রের জাল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়েছিল। সেদিন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে যারা রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিলÑ তারা দৃশ্যত বাঙালী হলেও বর্বরতার দিক থেকে পাকিস্তানী হানাদারদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কোন বাঙালী বঙ্গবন্ধুর বুকে গুলি চালাতে পারে এটা তিনি নিজে শুধু নন, কেউই কল্পনাও করেননি। কিন্তু এ দেশের জল-হাওয়ায় বেড়ে উঠা ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তার পরিবারের নারী-শিশুদেরও হত্যা করেছে ঠা-া মাথায়। এ বীভৎসতার তুলনা চলে বিজাতীয় পাকিস্তানী নরঘাতকদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে; তুলনা চলে তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর-আলশামসের নজিরবিহীন নৃশংসতার সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি পাকিস্তানীদের যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ তার অন্তর্নিহিত কারণ আমরা জানি এবং বুঝতে পারি। কিন্তু স্বদেশ আর স্বজাতির প্রতি পঁচাত্তরের ঘাতকদের ঘৃণা ও বিদ্বেষের ভয়াবহতা দেখে স্তম্ভিত হতে হয়। তবে অবয়ব ভিন্ন হলেও উভয়ের নাড়ির বন্ধন যে অভিন্ন তা বুঝতে কারও সময় লাগেনি।

এটা যে পাকিস্তানীদের অসমাপ্ত নীলনকশারই অংশÑ তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তখনই। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের গতিমুখও বদলে দেয়া হয়েছিল। যে পাকিস্তানী ভাবধারাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, তাকেই আবার পুনর্বহালের তোড়জোড় শুরু হয়েছিল সাড়ম্বরে। ছুড়ে ফেলা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতিসমূহ। মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি ‘জয় বাংলা’ বিসর্জিত হয়েছিল। ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’-এর আদলে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ কথাটি। অন্যদিকে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথই কেবল রুদ্ধ করা হয়নি, একই সঙ্গে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলারও অপচেষ্টা চালানো হয়েছে সর্বাত্মকভাবে। যে সব জ্ঞানপাপী বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালান প্রায়শ, তারা কতগুলো বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যান। গর্ভবতী নারী ও শিশুকে কেন হত্যা করা হয়েছিলÑ সে প্রসঙ্গ তারা কখনই তোলেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে যারা গদিনশীন হলেনÑ কেন তারা মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় নীতি ও আদর্শকে পদদলিত করলেন, কেন একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকদের গাড়িতে জুড়ে দিলেন শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকাÑ তারা ভুলেও কখনও সেসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চান না।

একাত্তরের ঘাতকরা তাদের কৃতকর্মের জন্যে কখনই অনুতপ্ত হয়নি। এমনকি ফাঁসির দ-প্রাপ্ত হওয়ার পরও নয়। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্রটি আজ বিশে^র বুকে সগর্বে নিরন্তর নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে নানাভাবে, তাকে তারা আঁতুড়ঘরেই হত্যা করতে চেয়েছিল। পারেনি। সেই যন্ত্রণা পেরেকের মতো বিঁধে আছে তাদের বুকে। যখনই বাংলাদেশ ভাল কিছু করেÑ তখনই পুরনো সেই ব্যথাটা টনটন করে ওঠে। বড়ই অদ্ভুত এক সমীকরণ। তারা এদেশেরই সন্তান। কিন্তু বাংলাদেশের আনন্দে তাদের বিষাদ। আর বাংলাদেশের বিষাদে-বিপর্যয়ে তাদের উল্লাস। পঁচাত্তরের ঘাতকদের অবস্থান কি ভিন্ন? তারাও কি কখনও অনুতপ্ত হয়েছিল তাদের কাপুরুষোচিত সেই কৃতকর্মের জন্যে? অবশ্যই নয়। বরং একের পর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যড়যন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শের বিরুদ্ধে; মুক্তিযুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে। যারা এই ঘাতকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার রক্তের ওপর পা দিয়ে বন্দুকের জোরে আসীন হয়েছে ক্ষমতার মসনদে, পত্তন করেছে বাংলাদেশের আদর্শবিরোধী নতুন এক ক্ষমতাবৃত্তের- মুখে যাই বলুক না কেন তাদের অবস্থানও যে ভিন্ন নয়। তার উদাহরণ ভূরি ভূরি। বাংলাদেশের যিনি প্রতিষ্ঠাতা সপরিবারে তাঁকে যেদিন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো- সেই দিনটিকেই যারা বিশালাকৃতির কেক কেটে তথাকথিত জন্মদিনের উৎসব পালনের জন্য বেছে নেয় তাদের বুকের ভেতর নিরন্তর ঘৃণা ও বিদ্বেষের যে লাভাস্রোত বয়ে যাচ্ছে তা আর গোপন থাকে না।

প্রশ্ন হলো, কার বিরুদ্ধে এই ঘৃণা? শুধু কি বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে? তর্কের খাতিরে যদি আমরা ধরে নিই যে শুধু বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধেই এই ঘৃণা, তার পরও যে প্রশ্নটি অনিবার্য হয়ে ওঠে তা হলো, কেন? সেটা কি এজন্য নয় যে তিনি বাংলাদেশ নামক এ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করে তাদের বুকে মস্তবড় ঘা দিয়েছেন? সর্বোপরি, তাদের প্রভু পাকিস্তানী হানাদারদের চিরতরে বিতাড়িত করেছেন এ দেশ থেকে? অতএব, তাদের এ ঘৃণা এ আক্রোশ দৃশ্যত বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে হলেও তার মূলে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। মূলে রয়েছে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। এই এক জায়গায় এসে পাকিস্তানীদের পুষে রাখা ঘৃণা ও বিদ্বেষের সঙ্গে একাত্তর এবং পঁচাত্তরের ঘাতকদের ঘৃণা-বিদ্বেষ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সর্বোপরি, মায়াবী নেকাবের আড়ালে নিজেদের বীভৎস অবয়বটি আড়াল করে যারা সিন্দবাদের দৈত্যের মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছেন তাদের আদর্শিক অবস্থানও যে ভিন্ন নয়- তা কি আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখে? একাত্তরের ঘাতকদের তারা মন্ত্রী বানিয়েছেন। পঁচাত্তরের ঘাতকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। জাতির পিতার নৃশংস হত্যার দিনে উৎসব করে চলেছেন নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার সঙ্গে। না, এখানেই শেষ নয়। উপর্যুপরি চেষ্টা চালানো হচ্ছে বঙ্গবন্ধু-তনয়া শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য। এমনকি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অবধি। এখনও লন্ডনে বসে চরম ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বিষোদগার করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধকে। ধর্মের ঢোল নাকি বাতাসে বাজে। অতএব কারা কোথায় কী করছে- তা এখন কারও অজানা নেই।

এই মার্চ কি আমাদের একাত্তরের সেই মার্চের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে না? এই যে চলন্ত যানবাহনে পেট্রোলবোমা মেরে একের পর এক মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে- তার নজির কি একাত্তরে ছাড়া বাংলার ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি আছে? আন্দোলন তো আর কম হয়নি এ জনপদে। গোটা বিশে^র যিনি অনুপ্রেরণার উৎস সেই মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে তারা। কিন্তু কোথাও এ ধরনের নৃশংসতার কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যখন একপর্যায়ে সহিংস রূপ নিতে শুরু করে- তৎক্ষণাৎ মহাত্মা গান্ধী প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে সেই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। লক্ষণীয় যে সেই সহিংসতাও জনগণের বিরুদ্ধে ছিল না; ছিল ব্রিটিশের অত্যাচারী পুলিশের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাও মেনে নেননি মহাত্মা গান্ধী। তাঁর সাফ কথা, তিনি সহিংসতায় বিশ্বস করেন না- সেটা যার বিরুদ্ধেই হোক না কেন। আর বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টান্ত তো এখনও আমাদের স্মৃতিতে নক্ষত্রের মতো দীপ্যমান।

আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেও তাঁর হৃদয়জুড়ে আছে জনগণ। তিনি বলছেন, ‘গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেজন্য সমস্ত অন্যান্য যে জিনিসগুলো আছে, সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, গরুরগাড়ি, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে, শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি-গবর্নমেন্ট দফতর, ওয়াপদা কোনকিছু চলবে না।’ শুধু কি নিজের জনগণ? এমনকি যাদের বিরুদ্ধে লড়ছেন তাদের উপরও কোন প্রকার সহিংসতার পক্ষপাতী নন তিনি। বলছেন, ‘এই বাংলায়- হিন্দু-মুসলমান, বাঙালী-অবাঙালী যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের ওপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়।’ রাজনীতি তো জনগণের জন্যে। সেই জনগণকেই জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে, মাসের পর মাস হরতাল-অবরোধ ডেকে তাদের জীবনজীবিকা ও ভবিষ্যত ধ্বংস করে কিসের রাজনীতি? কার জন্য রাজনীতি? আর যার জন্যেই হোক, এ রাজনীতি যে জনগণের জন্য নয়- তাতে কি সন্দেহের কোন অবকাশ আছে? দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালাবাসা যার আছে সে কি কখনও জনগণকে এভাবে পুড়িয়ে মারতে পারে? গলাটিপে হত্যা করতে পারে দেশের অর্থনীতি? ধ্বংস করে দিতে পারে লাখ লাখ শিশু-কিশোর-তরুণের শিক্ষাজীবন? রাজনীতির নামে এ ধ্বংসযজ্ঞ কি আমাদের বিজাতীয় শাসকদের সেই পোড়ামাটিনীতির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে না? এ কি তবে একাত্তরের পরাজয়ের সেই পুঞ্জীভূত ঘৃণা ও বিদ্বেষেরই অন্যতর বহির্প্রকাশ?

আমার এ আশঙ্কা মিথ্যা ও অমূলক হলে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। কারণ দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের যিনি বা যারা কা-ারী তাদের যদি দেশ ও জনগণের প্রতি প্রগাঢ় মমত্ববোধ না থাকে তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে? কিন্তু আশ^স্ত যে হব সেই অবকাশইবা কোথায়? দলটির ভবিষ্যত যার হাতে এবং এ মুহূর্তে যিনি দলের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী নেতা তাঁর মুখ থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ক্রমাগত যে কটূক্তি আর আস্ফালন শোনা যাচ্ছে, তাতে সাধু-সন্তেরও ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে বাধ্য। ইঙ্গিতটি খুবই স্পষ্ট। একই সঙ্গে অত্যন্ত উদ্বেগজনকও বটে। বঙ্গবন্ধু বা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে এতদিন তাদের অবয়বে যে নেকাব বা ছদ্মবেশটুকু ছিল- ভবিষ্যতে সম্ভবত সেটাও তারা ছুড়ে ফেলতে যাচ্ছে। লাখ লাখ শহীদের রক্তমূল্যে অর্জিত বাংলাদেশের বুকে এ অপরাজনীতির আদৌ ঠাঁই হবে কিনা- সেটা দেখার জন্য আমাদের হয়ত আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে যে কথাটি এখনই বলে দেয়া যায় তা হলো, বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে কিংবা তাঁর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: