রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

১ মার্চ ১৯৭১

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
  • ডন ও পাকিস্তান টাইমসের দুটি প্রতিবেদন
  • ভূমিকা ও অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী

ডন ও পাকিস্তান টাইমস- দুটি ইংরেজী পত্রিকাই প্রকাশিত হতো তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে। ডন প্রতিষ্ঠা করেছেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪২ সালের অক্টোবর থেকে দৈনিক হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত। শুরুতে দিল্লি থেকে, ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করে।

পাকিস্তান টাইমস (দৈনিকটি এখন আর নেই) পাকিস্তান সরকারের সহায়তায় প্রকাশিত। ১ মার্চ ১৯৭১ ডন-এর প্রথম পাতার খবরের একটি শিরোনাম : ‘ভাল কথা ও পরামর্শ গ্রহণে মুজিব সম্মত।’

একই দিন পাকিস্তান টাইমসের শিরোনাম : উপায় দুটিÑ ১২০ দিনের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিন কিংবা জাতীয় সংসদ অধিবেশন স্থগিত করুন।

দুটিই বিস্তারিত সংবাদ। পাকিস্তান টাইমসের সংবাদে ভুট্টোর গোঁয়ার্তুমি স্পষ্ট হয়ে উঠে এসেছে। ডনের সংবাদ স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয় ১৯৭০-এর নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট মেনে নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে পাকিস্তানের ভাঙ্গন অনিবার্য। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের পত্রিকায় প্রকাশিত এ দুটি প্রতিবেদনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলায় ভাষান্তর করা হয়। ভুট্টো যত পা-িত্যপূর্ণ বক্তব্যই দিন না কেন তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন এমনকি পশ্চিম পাকিস্তানেও। ফাঁসিকাষ্ঠে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বহু বছর আগে আইয়ুব খান তার ডায়েরিতে লিখেছেন : ভুট্টো যতদিন জীবিত থাকবেন, পাকিস্তানে শান্তি আশা করা যায় না।

দ্য ডন

মুজিব যে কোন ভাল কথা বা পরামর্শ শুনতে আগ্রহী

পশ্চিম অংশের জাতীয় সংসদ সদস্যদের সংবিধান প্রণয়নের কাজে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ :

আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান আজ জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় পরিষদের সকল সদস্যের পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেয়া এবং সংবিধান প্রণয়নের কাজে অংশগ্রহণ করা উচিত।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অনুষ্ঠানে একটি স্বাগত ভাষণের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই (অধিবেশনে) বসতে হবে এবং আলোচনা করে সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।’

জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে অংশগ্রহণে ভুট্টোর বেঁধে দেয়া শর্তাবলীর সূত্র ধরে তিনি তির্যকভাবে জিজ্ঞাসা করেন, ‘(ভুট্টোকে) নিশ্চয়তা দেবার আমি কে?’

তিনি বলেন, পরিষদের কোন সদস্য যদি যুক্তিসঙ্গত কথা বলেন তাহলে তা গৃহীত হবে। তিনি তাঁর আশ্বাসের পুনরাবৃত্তি করেন, ‘ছয় দফা কারও ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ছয় দফা কর্মসূচী কেবল বাংলাদেশের (তখন বাংলাদেশ বিচ্ছিন্নভাবে লেখা হতো) মানুষের জন্য প্রণয়ন করা হয়নি। বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমরা যে অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন চেয়েছি, আমরা চাই পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের জনগণও তা ভোগ করুক।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছয় দফা এখন আর তাঁর নিজের সম্পত্তি নয়। এর মালিকানা এখন জনগণের; সুতরাং যে আকারেই হোক, এর সংশোধনের অধিকার তাঁর নেই।

‘সংখ্যাগরিষ্ঠের একনায়কত্ব’ প্রতিষ্ঠার আলোচনার সূত্র ধরে শেখ মুজিব বলেন, যারা এই অনর্থক ধুয়া তুলেছেন তাঁরা আসলে সংখ্যালঘিষ্ঠের একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন।

স্পষ্টতই ভুট্টোর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শেখ বলেন, এসব কথা কেবল আপত্তিকরই নয়, ভবিষ্যত সম্পর্কেও তা সন্দিহান করে তোলে। তিনি বলেন, ভুট্টোর ৮৩ সদস্যের মতো পূর্ব পাকিস্তানের ১৬০ সদস্য যদি জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে অস্বীকার করেন তাহলে কী ঘটবে তা তাঁর জানা নেই।

শেখ বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের পরও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছেÑ যাতে নির্বাচনের অর্জন নস্যাৎ করা যায়। তিনি হুঁশিয়ার করে দেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যদি কোন বাধার সৃষ্টি করা হয়, এর পরিণতির জন্য তিনি দায়ী থাকবেন না।

সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু তা বিপ্লবের মাধ্যমে নয়, বরং বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে; এতে অর্থনীতি হবে জনগণকেন্দ্রিকÑ যাতে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, কৃষক এবং তাঁদের মতো আরও যাঁরা আছেন সবাই যেন অর্থনৈতিক সুবিচার পান। তিনি আরও বলেন, তিনি পূর্ব পাকিস্তানে কোন একচেটিয়াত্ব ও মুনাফালোভী বাণিজ্যিক জোট বরদাশত করবেন না। বাংলাদেশে কোন ২২ পরিবার থাকবে না।

তাঁর এবং জাতীয় ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের সম্মানে (ঢাকা চেম্বার) প্রদত্ত সংবর্ধনায় শেখ ছিলেন প্রধান অতিথি। পূর্ব পাকিস্তান এ্যাসেম্বলি ভবনের লনে আয়োজিত সংবর্ধনায় কূটনৈতিক সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা ও নগরের সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।

জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকে নস্যাৎ করার চলমান ষড়যন্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যদি বাধা অব্যাহত থাকে তাহলে এর পরিণতির জন্য তাঁরাই দায়ী থাকবেন।

তিনি আবেগময় কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা মরে যাব, কিন্তু আত্মসমর্পণ করব না।’

করতালির মধ্যে শেখ মুজিব ঘোষণা করেন, পাকিস্তান টিকে থাকবে, তেমনি টিকে থাকবে বাংলাদেশ, পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তান। আর যার বিলোপ ঘটবে, তা হচ্ছে মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণ।

গত ২৩ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের অব্যাহতভাবে শোষিত হওয়ার বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে বলেন, তারা এখন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। তিনি মনে করেন, সমাজতান্ত্রিক কাঠামোর অর্থনীতি ছাড়া ৫৫,০০০ বর্গমাইল জায়গায় ৭ কোটি মানুষের টিকে থাকা সম্ভব নয়।

শোষণের কাল

শেখ মুজিব বলেন, স্বাধীনতা উত্তর ২৩ বছর বাংলাদেশের মানুষের জন্য শোষণ, বঞ্চনা, হতাশা ও বিষণœতার কালÑ এ সময়ে তারা সম্পূর্ণ দুস্থাবস্থায় পতিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কায়েদে আজম, পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তিনি অবশ্যই বলতেন, এ পাকিস্তান তিনি চাননি।’

তিনি বলেন, আরও ভাল জীবনের আশায় স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মানুষ সংগ্রাম করেছেন, বিশাল আত্মত্যাগ করেছেন। কিন্তু বিনিময়ে তাঁরা এতটাই শোষিত হয়েছেন যে, তাদের মেরুদ-ও ভেঙ্গে গেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এই অব্যাহত শোষণের জন্য কারা দায়ী?

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, প্রদেশ আজ বিভিন্নরকম সমস্যায় জর্জরিত। বাংলাদেশে ৭০ লাখ মানুষ বেকার। শহরাঞ্চলে চাকরি ও খাবারের জন্য গ্রামের মানুষের অন্তহীন লড়াই চলছে। তিনি বলেন, ২৩ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ও সশস্ত্র বাহিনীতে শতকরা ১৫ ভাগও বাংলাদেশ থেকে নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।

অবশ্য তিনি বলেন, এটা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা হতে হবে। বেকার সমস্যা নিরসনে তিনি দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মানুষকে ক্ষুধায় মরতে দেব না।’

শেখ মুজিব বলেন, স্বাধীনতার পর যদিও পূর্ব পাকিস্তান বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ অর্জন করেছে, এর ৮০ ভাগই পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে পূর্ব পাকিস্তানের তাঁতশিল্পকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিয়ে ২০ লাখ লোককে বেকার করা হয়েছে যাতে এখানে পশ্চিম পাকিস্তানের কলে প্রস্তুত তৈরি পোশাকের সংরক্ষিত বাজার নিশ্চিত রাখা যায়। (পশ্চিম পাকিস্তানের) বাজার সংরক্ষণের নামে বাংলাদেশের মানুষকে জাপান ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা কাপড় ছয়গুণ বেশি দামে কিনতে বাধ্য করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদ- পাটের রফতানি বাজার পরিকল্পিত ভ্রান্তিপূর্ণ নীতি অনুসরণ করে হাতছাড়া করা হয়েছে। পেছনের দরজা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় চায়ের সরবরাহ চলে যায়, পূর্ব পাকিস্তানের চা রফতানি হয় না। প্রদেশের অপর একটি অর্থকরী কৃষিপণ্য তামাক সঙ্কটের মোকাবেলা করছে। তিনি আরও যোগ করেন, লবণ উৎপাদনকারীর ওপর শুল্ক চাপিয়ে দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে কর্মহীন করা হয়েছেÑ এতে লাভবান হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানের লবণ ব্যবসায়ীরা।

জাতীয়করণ

শেখ মুজিব আবারও ঘোষণা করেন, গরিব মানুষের কল্যাণের জন্য ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি জাতীয়করণ করা হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর ওপর ২২ পরিবারের বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ও একচেটিয়া প্রভাব; তাদের টেলিফোনেই ব্যাংক এলসি খুলে দেয়, কিন্তু মধ্যশ্রেণীর ব্যবসায়ীদের সুযোগের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। এসব পুঁজিপতিদের আমানত পশ্চিম পাকিস্তানী ব্যাংকে আর ওভারড্রাফট নিচ্ছে পূর্ব পাকিস্তান থেকে।

পুঁজিপতিদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে তিনি বলেন, তারা অতি সামান্য পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে এবং এ সময়ের মধ্যে মিলিয়নিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য সম্পদের পাহাড় তারা গড়ল কেমন করে? টাকা যেহেতু আকাশ থেকে পড়েনি, মানুষকে শোষণ করেই তারা এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

শেখ মুজিব বলেন, যখনই শ্রমিকরা তাদের মজুরি বাড়ানোর দাবি জানাত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে তাদের পেটানো হতো।

ভারসাম্যহীনতা

পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ভারসাম্যহীনতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষের জন্য হাসপাতালে বেড রয়েছে ৬০০টি; আর পশ্চিম পাকিস্তানে বেডের সংখ্যা ২৬০০। এই অসম অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী কেÑ তিনি তা জানতে চান।

এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হতে দেয়া কেন্দ্রীয় সরকারের মোটেও উচিত হয়নি।

তিনি বলেন, গত ২৩ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা চাকরির জন্য তাদের করাচি গিয়ে পারমিট সংগ্রহ করতে হয়। এমনকি আওয়ামী লীগ প্রধান হয়ে তাঁকেও কেন্দ্রীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তিন মাস করাচি অবস্থান করতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা অতীতে প্রয়োজনের সময় ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেÑ শ্রমিক, কৃষক ও ছাত্ররা যখন বাংলাদেশের জনগণের বৈধ অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে, তাদের পাশে তারা দাঁড়ায়নি।

তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয় তারা জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাদের সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হবে না। নতুবা ‘তোমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে; আর যদি টিকে থাক, তাহলে ক্রীতদাসের মতো টিকে থাকবে।’

তিনি অবাঙালী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে বলেন, এটা ঠিক নয় যে, ছয় দফা দাবি আদায়ের পর তার দল আর অবাঙালীদের বাংলাদেশে ব্যবসা করতে দেবে না। ‘আপনারা এখানে ব্যবসা করুন, আমরা আপনাদের কখনও চলে যেতে বলব না। কিন্তু দয়া করে এখান থেকে মূলধন পাচার করবেন না।’

সেøাগানের ব্যাখ্যা

শেখ মুজিব বলেন, ‘জয় বাংলা’ কোন রাজনৈতিক সেøাগান নয়। এ সেøাগান বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির সেøাগান। তিনি আরও যোগ করেন, এ সেøাগান বেঁচে থাকার অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার সেøাগান।

(দ্য ডন, করাচি, মার্চ ১, ১৯৭১)

পাকিস্তান টাইমস

দুটি পথ খোলা : ১২০ দিনের বাধ্যবাধকতা তুলে দিন কিংবা

সংসদ অধিবেশন বাতিল করুন

বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের জন্য জুলফিকার আলী ভুট্টো দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন : হয় জাতীয় সংসদ অধিবেশন স্থগিত করুন অথবা ১২০ দিনের মধ্যে সংসদে সংবিধান প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা তুলে নিন।

দুই প্রস্তাবের যে কোন একটি গৃহীত হলেই, তিনি বলেন, অধিবেশনপূর্ব অচলাবস্থা দূর করার জন্য ‘আগামীকাল’-ই তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মোলাকাত করতে রওনা হবেন।

ভুট্টো হুমকি দেন, যদি পাকিস্তান পিপলস পার্টির অংশগ্রহণ ছাড়া আগের নির্ধারিত ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসে তাহলে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত জনগণের বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেবেন। তিনি বলেন, ‘যদি ২ মার্চ মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত সাধারণ ধর্মঘট চলবে।’

ভুট্টো স্পষ্ট করেই বলেন, যদিও দাবিগুলো ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তবুও তিনি কখনও ছয় দফার বিরোধিতা করেননি। তিনি তাঁর অসঙ্গতির পরিধি সঙ্কুচিত করে বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্য প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত হতে পারে না। দুটি বিষয়ই পররাষ্ট্র বিষয়ক কার্যাবলীর সহগামী, তাই কেন্দ্রকে কার্যকরী রাখতে হলে এগুলো ফেডারেল সরকারের হাতে রাখতে হবে। তিনি বলেন, মুদ্রা ও করের প্রশ্নে একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের প্রশ্নে ছাড় দিতে রাজি নন।

অভিযোগ খ-ন

তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্তÑ শেখ মুজিবুর রহমানের এই অভিযোগ তীব্রভাবে খ-ন করেন। এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমলা, পুঁজিপতি, ক্ষমতাসীন সরকার বা বিদেশী শক্তির দলে ভিড়ে যাওয়ার কথাটি সম্পূর্ণ অকল্পনীয়, কারণ এরা সবাই ক্রমাগতভাবে পিপলস পার্টির প্রতি শত্রুসুলভ আচরণ করে যাচ্ছে।

ভুট্টো তাঁর ভাষণের শুরুতে বলেন, প্রতিটি জরুরী অবস্থার সময় তিনি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তিনি আগেও তাই করেছেন এবং তাঁর জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন।

দেশ যেহেতু কঠিন সঙ্কটের মুখোমুখিÑ তিনি এ সভার জন্য সেই স্থানই বেছে নিয়েছেন যেখান থেকে ৩০ বছর আগে কায়েদে আজম পাকিস্তানের দাবি উত্থাপন করেছিলেন। সেই পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য তিনি সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এবং সেজন্য যে কোন ধরনের আত্মবলিদানে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

ভুট্টো বলেন, জানুয়ারিতে রাজনৈতিক কর্মকা- শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি বা তাঁর দল ছ’দফার সমালোচনা বা এর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেননি। তিনি একে ব্যক্তিগত কর্মসূচীতে পরিণত করেননি, পশ্চিম পাকিস্তানের অন্য নেতারা উদ্দেশ্যপ্রবণ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে যা করেছেন তিনি সে পথে যাননি।

তিনি বলেন, ১৯৬৬ সালে লাহোরের ন্যাশনাল কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার কথা জানিয়েছেন। কনভেনশনে অংশ নেয়া নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবেলা করেন, কারণ এরমধ্যে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ভয়াবহ বিরোধ সৃষ্টির বীজ নিহিত রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান খুঁজে বের করতে তিনি প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আইয়ুব খান তাঁর পরামর্শ উপেক্ষা করে ‘রাজনৈতিক ভাষা’ ব্যবহারের পরিবর্তে ‘অস্ত্রের ভাষা’ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন।

শোষণ

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তিনিও একমত পোষণ করেন যে, শোষণের অবসান উভয় দলেরই সাধারণ লক্ষ্যÑ তিনি তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর পাকিস্তান পিপলস পার্টিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা লিখিতভাবে স্বীকার করেছে যে, পূর্ব পাকিস্তান শোষিত হয়েছে। কিন্তু এই শোষণ কেবল পূর্ব পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ নয়, পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষও একইভাবে শোষিত হয়েছে। তারাও একই রকম দরিদ্র এবং উৎপীড়িতÑ পশ্চিম পাকিস্তানের শ্রমিক, কৃষক ও বুদ্ধিজীবীরাও পূর্ব অংশের অনুরূপ শোষকদের হাতে শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছে।

পিপিপি প্রধান বলেন, তিনি পূর্ব পাকিস্তান সফর করেছেন; চট্টগ্রাম, খুলনা ও নোয়াখালীতে যে দারিদ্র্য দেখেছেন, সেই একই রকম দারিদ্র্য বিরাজ করছে ডেরা ইসমাইল খান, ডেরা গাজী খান এবং লাহোরে। কাজেই পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে শোষণ করেছে এটা বলা সমীচীন হবে না।

তিনি মনে করেন, এই শোষণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ফল আর তা উৎপাটন করা না গেলে পাকিস্তানের উভয় অংশের জনগণ শোষিত হতে থাকবে। সেজন্যই পিপিপি দেশের অর্থনৈতিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে ইসলামী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। কোন সাংবিধানিক বিষয় এই শোষণের অবসান ঘটাতে পারবে না।

ভুট্টো বলেন, শোষণের অবসান ঘটাতে হলে দেশের সংহতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। দেশ যদি বিভাজিত হয়ে পড়ে তাহলে কেউই শোষণ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। কায়েদে আজম এ দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন, এ জন্য উপমহাদেশের ৩০ লাখ মুসলমান তাঁদের জীবন দিয়েছেন। দেশ ভেঙ্গে ফেলা সহজ কাজ নয় এবং তিনি তা হতে দেবেন না।

পিপিপির চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ বাংলা, পাঞ্জাব, সিন্ধু, সীমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তানের স্বার্থের কথা বলছে। কিন্তু কেউ পাকিস্তানের কথা বলছে নাÑ যে পাকিস্তানকে ইসলামিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র করতে হবে। যদি পাঁচটি পৃথক রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয় তাহলে যে দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত তা অস্বীকার করা হবে। পাকিস্তানে যদি কারও ভিন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা থেকে থাকে, তাহলে স্পষ্ট করে বলা হোক।

ফেডারেল পদ্ধতি

ভুট্টো বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের নেতারা পাকিস্তানের জন্য চান একটি ফেডারেল সংবিধান; পিপিপি তাতে সম্মত। তবে সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ফেডারেল ইউনিটের এই সংবিধানের প্রতি সমর্থন থাকতে হবে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, পৃথিবীর কোন ফেডারেশনের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে?

তিনি বলেন, পিপিপিকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে হাউসের ফ্লোরে সংবিধান নিয়ে বিতর্ক করুক। কিন্তু এটা বিস্মৃত হওয়া সমীচীন হবে না যে, আওয়ামী লীগ এর মধ্যেই ছয় দফাভিত্তিক সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করে ফেলেছে আর এ্যাসেম্বলিকে রাবারস্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আবার একই সঙ্গে সংবিধান প্রণয়নের জন্য ১২০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য নেতা যেমন ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে থাকেন, তিনি তা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক, পূর্ব পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে অভিযুক্ত করতে চাইছেন। তিনি বলেন, ছয় দফার ওপর রাজনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব রেখেছেন, কারণ তিনি চান না জাতীয় পরিষদে একটি অচলাবস্থা সৃষ্টি হোক। আর তা যদি ঘটে যায় তাহলে দেশ অত্যন্ত ভয়াবহ সঙ্কটে পতিত হবে।

ভুট্টো বলেন, তিনি কখনও ‘শক্তিশালী’ কেন্দ্রের দাবি করেননি, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন শক্তিশালী কেন্দ্রের কারণে পূর্ব পাকিস্তান শোষণের শিকার হয়েছে। দেশের স্বার্থে স্বল্পসংখ্যক বিষয় নিয়ে তিনি ‘কার্যকরী’ কেন্দ্রের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরামর্শ দেয়া হচ্ছেÑ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র কেন্দ্রের হাতে থাকবে, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্য প্রদেশের কাছে থাকবে। তিনি জানতে চান, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া রাষ্ট্রের প্র্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়ন কেন্দ্র কেমন করে করবে? ফেডারেল সরকারের হাতে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে পাকিস্তান টিকে থাকতে পারবে না।

ভুট্টো বলেন, তিনি নিশ্চিত মুদ্রা ও ফেডারেল ট্যাক্স নিয়ে একটা সমাধানে পৌঁছা যাবে, কিন্তু প্রদেশ যেমন স্বাধীনভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য নিয়ন্ত্রণ করবে সেখানে কেন্দ্রের ভূমিকা কী হবে তিনি তা মেলাতে পারছেন না। পূর্ব পাকিস্তান যদি স্বায়ত্তশাসন পায়, তাহলে একই মাপের স্বায়ত্তশাসন পাঞ্জাব, সিন্ধু, সীমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তানেরও প্রাপ্য।

ভুট্টো বলেন, বলা হচ্ছে দেশের দুই অংশে দুই ধরনের অর্থনীতি চালু থাকবে। পর্যায়ক্রমে বলা হয়েছে দুই অঞ্চলে দুই রকমের রাজনীতি চলবে; সবশেষে দুই অঞ্চলে দুটি ভিন্ন সংবিধান থাকবে। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান যদি এক দেশ হয়, তাহলে এর একটিই সমন্বিত সংবিধান থাকবে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য এক দলিলে দুটি ভিন্ন সংবিধান বড় বেখাপ্পা একটি বিষয় হবে এবং জনগণ তা কখনও গ্রহণ করবে না।

ভুট্টো বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে অপমান করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের বিকৃত অর্থ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান পিপলস পার্টির সদস্যরা পূর্ব পাকিস্তানে ‘দ্বিগুণ জিম্মি’ হয়ে পড়বে, জাতীয় পরিষদ তাঁদের জন্য ‘কসাইখানায়’ পরিণত হবে। তিনি বলেন, ভারতীয় সৈন্যরা যখন সীমান্তে মোতায়েন হচ্ছে, এ অবস্থায় ১২০ দিনের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান ছেড়ে কোথাও যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণের নিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে তখন তাঁর দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। ১২০ দিন সময় বেঁধে দেয়ার জন্য তিনি পরিষদকে কসাইখানা বলেছেন, কারণ অধিবশন শুরু হওয়ামাত্র বোমা বিস্ফোরণের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যাবে।

ভুট্টো বলেন, প্রধান দলগুলোর মধ্যে সাংবিধানিক বিষয়ে সমঝোতার জন্য তিনি যে পীড়াপীড়ি করছেন তা সৎ উদ্দেশ্যজনিত। তিনি বলেন, সমঝোতার জন্য তাঁর দরজা সব সময়ই খোলা। যদি তাঁর মতামতসহ অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত পরামর্শ নৈর্ব্যক্তিকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়া হয়, তাহলে তিনি ঢাকা যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। আওয়ামী লীগ যদি এ নিশ্চয়তা দেয় তাহলে বিষয়টি তাঁর পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা হবে এবং কমিটি সম্মত হলে তিনি পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সদস্যরা ৩ মার্চ ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন না। যদি পিপিপির অংশগ্রহণ ছাড়া ৩ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বসে তাহলে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে গণআন্দোলনের ডাক দেবেন।

ভুট্টো বলেন, যদি ২ মার্চ সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হয় তাহলে দেশের পশ্চিমাংশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হবে।

বক্তব্যের শেষে পিপিপি প্রধান বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দেন; প্রেসিডেন্ট জাতীয় পরিষদ ভেঙ্গে দিতে পারেন। এটা অবশ্য কোনভাবেই তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়Ñ তার মানে সামরিক আইন অব্যাহত থাকবে যা কাম্য হতে পারে না। এতে পাকিস্তানের জন্য একটি ভয়ঙ্কর সঙ্কট তৈরি হবে।

দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে ৩ মার্চের নির্ধারিত অধিবেশন স্থগিত করা। যদি তা গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংবিধানিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে তিনি এক মিনিট সময় নষ্ট না করে বড় ভাইয়ের (এল্ডার ব্রাদার) সঙ্গে আলোচনার জন্য পূর্ব পাকিস্তান রওনা হবেন।

তৃতীয় বিকল্প প্রস্তাব হচ্ছে সংবিধান প্রণয়নের জন্য ১২০ দিনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার। তা হলে যেসব সাংবিধানিক বিষয় বর্তমান অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে তাঁর দল সেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক করে এর সুরাহা করার মতো পর্যাপ্ত সময় পাবে। যদি সময়ের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হয় তাহলে ‘আগামীকাল’-ই ঢাকা রওনা হবেন।

ভুট্টো বলেন, আগের কনস্টিটুয়েন্ট এ্যাসেম্বলি সংবিধান প্রণয়নের জন্য বছরের পর বছর সময় নিয়েছে। জাতীয় পরিষদে সাত বছর বিতর্কের পর ১৯৫৬ সালে সংবিধান গৃহীত হয়েছে। তিন বছর বিতর্কের ফসল ১৯৬২ সালের সংবিধান। এটা সত্যই বিস্ময়কর, বর্তমান পরিষদে সংবিধান প্রণয়নের জন্য মাত্র ১২০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

ভুট্টো বলেন, যদি দুটি বিকল্প প্রস্তাব- অধিবেশন স্থগিতকরণ এবং সময়ের বাধ্যবাধকতা মেনে না নেয়া হয়, তাহলে এই অচলাবস্থা চলতেই থাকবে। আর তার মানে দাঁড়াবে এ দেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু।

[পাকিস্তান টাইমস, মার্চ ১, ১৯৭১]

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: