কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইন্দিরা-নিক্সন ॥ কূটনীতি এবং বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় কাওসার রহমান

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

১৯৭১ সালের জুলাই মাসের এক সকাল। আর্মির কমান্ডার অব চীফ জেনারেল মানেকশ ফোন হাতে নিয়েই একটু উদ্বিগ্ন। ওই প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের স্টাফ। পিএম লাইনে আছেন। এটা শুনেই মানেকশর চিন্তা আরও বেড়ে গেল। কাল সকালেই তো আর্মি আর এয়ারফোর্স প্রধানদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। তাহলে এত সকালে পিএম আবার কথা বলবেন কেন? সঙ্গে সঙ্গেই অপর প্রান্ত থেকে ইন্দিরা গান্ধীর কণ্ঠ, ‘আপনি এখনই আমার বাড়িতে চলে আসুন। আমার কয়েকজন গেস্ট এসেছেন। তাদের সঙ্গে ব্রেফফাস্ট মিটিং আছে। ওই মিটিংয়ে আপনার থাকা দরকার।’ মানেকশ, ‘সার্টেনলি ম্যাম... সার্টেনলি ম্যাম...’ বলে টেলিফোন রাখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আর হ্যাঁ, ফুল ইউনিফর্মে আসবেন।’

এবার আরও চমকানোর পালা সেনাপ্রধানের। ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে ফুল ইউনিফর্ম কেন? তার মুখ থেকে সম্ভবত অস্ফুটে বেরিয়ে গিয়েছিল সংশয়ধ্বনি, ‘ম্যাম... ইউনিফর্ম!’ ইন্দিরা বললেন, ইয়েস, আই রিপিট.. ফুল ইউনিফর্ম।’ পরবর্তী দেড় ঘণ্টায় যা হয়েছিল তা সাধারণত কোন হিরো ওয়ারশিপ মার্কা হলিউড মুভিতেই হওয়া সম্ভব।

মানেকশ জানতেন না প্রধানমন্ত্রীর গেস্ট কারা। তিনি এসে দেখলেন, সদ্য ভারত সফরে আসা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার। ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আবহাওয়ায় হাস্য পরিহাস চলল। দার্জিলিং টি যে বিশ্বের যে কোন দেশের চায়ের স্বাদকে টেক্কা দেবে, তা নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনার পর ইন্দিরা গান্ধী সরাসরি নিক্সনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই যে ইস্ট পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে, অবাধে চলছে গণহত্যা, হাজার হাজার শরণার্থী আমাদের দেশে চলে আসছে, এই নিয়ে আপনারা কিছু করছেন না!’ নিক্সন এমনিতেই ইন্দিরা গান্ধীকে পছন্দ করতেন না। অপছন্দের কারণ আগেও ঘটেছে। ১৯৬৭ সালে নিক্সন একবার ভারতে এসেছিলেন সাধারণ নাগরিক হিসেবে। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সফদরজং রোডে। ইন্দিরা গান্ধী তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর কথা বলতে এলেন। ২০ মিনিট কথাবার্তার পর ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের আর কতক্ষণ কথা বলতে হবে? হিন্দিটা না বুঝলেও নিক্সন অর্থটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। তাই আর বসে না থেকে সঙ্গে সঙ্গেই বিদায় নিয়েছিলেন। তো সেই নিক্সন এই সুযোগটা ছাড়তে চাননি। তিনি জানতেন যে, ভারত পূর্ব পাকিস্তানের শরণার্থীদের নিয়ে বড়সর বিপদে আছে। আর পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের ব্যাপারে ভারতের পূর্ণ সম্মতি আছে। এমনকি তিনি খবর পেয়েছেন, মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সবই ভারত যোগাচ্ছে। তাই তিনি ইন্দিরা গান্ধীর প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। বললেন, ‘ওটা ওই দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমাদের নাক গলানো ঠিক নয়। আর আমাদেরই বা কি করার আছে?’ ইন্দিরা গান্ধী জানতে চান, কিন্তু আমেরিকা পাকিস্তানের বন্ধু। একমাত্র আপনারা বললেই পাকিস্তান সংযত হবে।’ নিক্সন তির্যক হেসে বললেন, ‘আমার মনে হয় না আমাদের বিশেষ কিছু করার আছে।’ একথা শুনে ইন্দিরা গান্ধী কিছুক্ষণ নিক্সন আর কিসিঞ্জারের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বললেন, ‘ওয়েল... আপনারা যদি কোন ব্যবস্থা না নেন তাহলে আমাকেই কিছু করতে হবে।’ নিক্সন এবার গম্ভীর হয়ে গেলেন। বললেন, ‘আপনি কি ধরনের ব্যবস্থার কথা বলছেন?’ ইন্দিরা এবার মনেকশর দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে নিক্সনকে বললেন, ‘আমি নয়, এরপর উনি ব্যবস্থা নেবেন।’ ইন্দিরার ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। অর্থাৎ ভারত প্রয়োজন হলে পূর্ব পাকিস্তানে নিজেদের সেনা পাঠাবে। একথা শোনার পর পুরো মিটিং রুম কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সঙ্কট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ওই বৈঠকেই পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। জানিয়ে দেন, ভারত পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে।

নিক্সন-ইন্দিরা বৈঠকে যখন নিস্তব্ধতা চলছিল, পূর্ব পাকিস্তানে তখন চলছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার আলবদরদের নির্বিচারে গণহত্যা। তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার শরণার্থী ভারতে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। সেই শরণার্থী শিবিরের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। এটি ছিল এক চরম মানবিক ট্র্যাজেডি। তারপরও সেই দেশের মানুষ ও সরকার সাধ্যমতো এই বিশাল ভাগ্যবিতাড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছে। অক্টোবর মাস নাগদ ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে গিয়ে দাঁড়ায়। তাদের আশ্রয় দেয়া এবং তাদের খাবার ও ওষুধের ব্যবস্থা করতে গিয়ে ভারতের অর্থনীতির ওপর প্রচ- চাপ সৃষ্টি হয়। সেই চাপ সামলে নিয়েই তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে আপ্রাণ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেছেন।

একাত্তরে মার্কিন সরকার বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু ছিল না এবং সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হেনরী কিসিঞ্জার তা কখনও গোপন করেননি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সেই ভয়াবহ দুঃসময়ে বাংলাদেশের পাশে যে কয়েকটি দেশের সরকার আর জনগণ দাঁড়িয়েছিল তার মধ্যে ভারতের ভূমিকা ছিল সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যাকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়, যদিও ইসলামের নামেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা চালাচ্ছিল। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ইরাক, যারা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে সমর্থন জানিয়েছিল।

স্বাধীনতা সংগ্রামে কারা বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু ছিল আর কারা বিরোধীতা করেছে তার একটি চিত্র পাওয়া যায় ইতিহাসবিদ গ্যারি ব্যাসের ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন, কিসিঞ্জার এ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড’ শিরোনামের বইয়ে। এতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার নানা দিক তুলে ধরে বলা হয়, ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান নেয়ায় নিক্সন চীনকেও ভারতীয় সীমান্তে সেনা পাঠাতে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

মুক্তিকামী বাঙালীর পাশে দাঁড়ানোয় ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি ওয়াশিংটনের ‘বিদ্বেষ’ এবং নিজেদের আইন ও জনগণের মতের তোয়াক্কা না করে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে নিক্সন সরকার নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর নৃশংসতাকে সমর্থন যুগিয়েছিলেন। নিক্সন ও কিসিঞ্জার ভারত ও তার নেতা ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে অবৈধভাবে অস্ত্র সরবরাহ করেন। কোন কর্মকর্তা তাদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলে তাদের বাদ দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ইন্দিরা গান্ধীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরতা থেকে নিরপরাধ বাঙালীকে রক্ষার সিদ্ধান্ত নিলে কিসিঞ্জার ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি ‘বিপজ্জনক পদক্ষেপের’ প্রস্তাব করেন। এগুলো হলো- অবৈধভাবে পাকিস্তানে মার্কিন বিমানের কয়েকটি স্কোয়াড্রন পাঠানোর অনুমতি দেয়া, গোপনে চীনকে ভারত সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে বলা এবং ভারতকে ভয় দেখাতে বঙ্গোপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানো। নিক্সন মনে করত, চীন সহায়তা না করলে যুক্তরাষ্ট্র একা কিছু করতে পারবে না। চীন সীমান্তে নড়াচড়া দিলে ভারত সামান্য হলেও ভয় পাবে এবং পিছু হটবে। নিক্সনের এই গোপন পরিকল্পনা চীনকে জানান কিসিঞ্জার। ভারত সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটালে বেজিংয়ের কি লাভ হবে তাও চীনকে জানানো হয়।

এ সময় নিক্সনের কাছে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চীন ছিল পাকিস্তানের অকৃত্রিম বন্ধু। সে কারণে নিক্সনের ধারণা ছিল বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যদি সহানুভূতি দেখায় তা হলে চীনের সঙ্গে যে নতুন সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিসিঞ্জারের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে জার্মানিতে হিটলারের ইহুদী নিধনকে নিক্সন সমর্থন করে বলেন, ইয়াহিয়া খানও পূর্ব পাকিস্তানে যা করছে তা ঠিকই করছে। নিক্সন এমন একজন মানুষের সামনে এই কথাগুলো বলছিলেন যার কমপক্ষে তেরোজন নিকট আত্মীয় নাৎসি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন। কিসিঞ্জার একজন জার্মান বংশোদ্ভূত ইহুদী ছিলেন। তারপরও কিসিঞ্জার নিক্সনের বক্তব্যের কোন প্রতিবাদ করেননি। নিক্সন ও কিসিঞ্জার দু’জনই মনে করতেন স্বাধীন বাংলাদেশ একটি বামপন্থী রাষ্ট্র হবে। সুতরাং তাকে দমন করার জন্য ইয়াহিয়া খান যা করছে তাকে সমর্থন করতে হবে।

ইতিহাসবিদ ব্যাস বলেছেন, পাকিস্তানকে সহায়তার জন্য নিক্সন ও কিসিঞ্জার জেনেশুনেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করেন। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, এইচ আর হ্যাল্ডম্যান, আলেক্সান্ডার হেইগসহ অন্যরাও এ বিষয়ে অবগত ছিলেন।

১৯৭১ সালের মার্চে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় দিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান। যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের তৃতীয় কোন দেশ থেকে অস্ত্র আসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যেন কোন বাধা না দেয়। এ পরিস্থিতিতে কিসিঞ্জার নিক্সনকে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে ইরানের মাধ্যমে সহায়তা পাঠাতে হবে। তখন প্রশান্তির শ্বাস ফেলে নিক্সন বলেন, যাক, পাকিস্তান অন্তত পঙ্গু হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরানের শাহ সে সময় পাকিস্তানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে রাজি হন। ইয়াহিয়ার অনুরোধে সাড়া দিয়ে জর্ডানের রাজা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আট থেকে দশটি জঙ্গী বিমান পাকিস্তানে পাঠানোর উদ্যোগ নিলেও পরে আম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে নিরস্ত্র হন। এজন্য ওই কর্মকর্তাদের প্রতি নাখোশ হন কিসিঞ্জার।

পাকিস্তানকে সমরাস্ত্র যোগানো যুক্তরাষ্ট্রের আইনের লঙ্ঘন বলে নিক্সন ও কিসিঞ্জারকে একাধিকবার সতর্ক করেন পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা। কিন্তু তারা দুজনই এ ব্যাপারে অনড় ছিলেন। এ বিষয়ে কিসিঞ্জার বলেন, ‘আমেরিকার কোন মিত্র যখন ঘায়েল হচ্ছে, তখন তাদের রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত নয়, যেখানে অন্যপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছে?’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তিতে বিদেশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর তাতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি দেশের অভ্যন্তরে জনমতকে বাংলাদেশের পক্ষে ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের জনমতকে বাংলাদেশের পক্ষে আনার জন্য বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন।

প্রথম দিকে তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর ভিতরেই বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যতবারই ভারত নেত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ইস্যুতে আলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন, ততবারই ইন্দিরা গান্ধী পাকিস্তানী প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান বিষয়ে আলাপে তার অমত নেই, কিন্তু বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনা করতে হলে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনা করার অধিকার একমাত্র শেখ মুজিবের-এ কথা পাকিস্তানী প্রেসিডেন্টকে তিনি একাধিকবার বলেছেন।

১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ইন্দিরা গান্ধী প্রতিদিন কোন না কোনভাবে ভূমিকা রেখেছেন। তার এই ভূমিকার মধ্যে কূটনৈতিক ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানী শাসকরা বাংলাদেশ ইস্যুকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে প্রমাণ করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। কিন্তু পাকিস্তানীদের এই বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পাকিস্তানী এই মিথ্যা বক্তব্যকে খ-ন করার জন্য যদি জোরালো ও কার্যকর কূটনৈতিক কর্মকা- না চালাতেন, তাহলে বাংলাদেশ বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবেই আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যেত।

(বাকি অংশ আগামীকাল সাময়িকীতে)

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: