রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইলিশ চুরি

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
  • আহসান হাবীব

রম্য গল্প

সাদেক সাহেব গত বছর বৈশাখ মাসে পান্তা ইলিশ খেতে পারেননি। তার আগের বছরও না। কারণ হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে ইলিশ কিনতে গিয়ে বাজারে ইলিশ পাননি। তাই এ বছর আগে থেকেই চারটা ইলিশ কিনে রেখে দিয়েছেন ডিপ ফ্রিজে। এবার তাঁকে বৈশাখের প্রথম প্রহরে পান্তা ইলিশ খেতেই হবে বাই হুক অর কুক।

কিন্তু কী আশ্চর্য পহেলা বৈশাখে ফ্রিজ খুলে দেখেন ইলিশ নেই। মানে কী? চার চারটা ইলিশ উধাও? স্ত্রী বাসায় নেই তিনি বুয়াকে চার্জ করলেন

- বুয়া?

- কন

- ডিপ ফ্রিজে ইলিশ ছিল ইলিশ কই?

- আমি ক্যামনে কমু?

- তুমি ক্যামনে কমু মানে? ডিপ ফ্রিজতো তুমিই খোল আর তোমার খালা খোলে, খালা নেই এখন তুমি ছাড়া...

- কী কইলেন? আমি ইলিশ চুরি করছি?

- আরে মর জ্বালা আমি কী তাই বললাম নাকি?

- খালু গরিব হইতে পারি তাই বইলা ... বলে বুয়া কমিউনিজমের উপর এক কঠিন বক্তৃতা দিল। সাদেক সাহেব কোনমতে তাকে ঠা-া করে স্ত্রীকে ফোন দিলেন। স্ত্রী বাপের বাড়ি গেছে পহেলা বৈশাখ পালন করতে।

- হ্যালো!

- বলো।

- তুমি কি ডিপ ফ্রিজ থেকে ইলিশ নিয়ে গেছো?

স্ত্রী তেলে বেগুন জ্বলে উঠলেন। ‘কি’ আমার বাপের বাড়িতে ইলিশের অভাব পড়েছে যে তোমার ফ্রিজ থেকে ইলিশ আনতে হবে? ভেবেছ কী? কয়টাকার ইলিশ কিনেছিলে তুমি?... এ্যাঁ? ’ স্ত্রীর টমাক শেল চলতেই থাকল। কোনমতে তাকে ঠা-া করে ফোন রেখে গুম হয়ে বসে থাকলেন সাদেক সাহেব। এবারও মনে হচ্ছে তাঁর পান্তা ইলিশ খাওয়া হলো না। কী মনে করে যেন বাসা থেকে বের হলেন। বাসার কাছের একটা টঙের দোকানে দাঁড়াতেই দুই পাড়াতো বন্ধুর সঙ্গে দেখা, তারা খুব উত্তেজিত হয়ে কোন একটা বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলেন। তিনি এগিয়ে গেলেন। তাদের আলাপের বিষয় শুনে তিনিও উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। কী আশ্চর্য তাদের বাসার ফ্রিজ থেকেও ইলিশ উধাও!

- না না বিষয়টাকে হেসে উড়িয়ে দিলে হবে না।

- ঠিক তাই, তিন তিনটা বাসার ফ্রিজ থেকে ইলিশ উধাও এটা নিশ্চয়ই বড় ধরনের কোন ষড়যন্ত্র ।

- আমারও তাই মনে হচ্ছে।

- আমার মনে হয় আমাদের থানায় যাওয়া উচিত।

- অবশ্যই, দেশে আইন কানুন আছে না?

- থানায় কেন? সাদেক সাহেব মিন মিন করেন। থানা পুলিশে তার ভীষণ ভয়।

- বাহ ডায়েরি করাতে... ইলিশ চুরির ডায়েরি। নাগরিক হিসেবে ইলিশ চুরির তদন্তের রাইট আমাদের আছে।

- অবশ্যই আছে। চলুন এখনি থানায় চলুন।

সত্যি সত্যিই তাঁরা থানায় গেলেন তিনজন। থানার অফিসার কাহিনী শুনে সরু চোখে তাকালেন তাদের দিকে। ‘আপনারা বলছেন আপনাদের তিনজনের বাসা থেকেই ইলিশ চুরি হয়েছে? ’

- জি।

- ডিপ ফ্রিজ থেকে ইলিশ চুরি হয়েছে।

- জি।

- আপনারা ইলিশ চুরির ডায়েরি করতে এসেছেন?

- জি।

- বেশ। অফিসার গম্ভীর মুখে কাগজে খস খস করে কী সব লিখলেন। তাঁদের নাম ঠিকানা নিলেন। তারপর তাঁদের সাইন করতে বললেন। তাঁরা সাইন করলেন। অফিসার বললেন ‘এবার আপনারা একজন থাকুন অন্যরা চলে যান। আপনিই থাকুন আপনার যখন চারটা ইলিশ চুরি হয়েছে, উনাদেরতো একটা করে।’ বলে সাদেক সাহেবের দিকে তাকালেন অফিসার।

- থাকতে হবে কেন?

- আমরা হয়ত আজই চোর ধরে ফেলব। দেখি আপনাদের ইলিশ যদি ফেরত পান। বন্ধু দুজন খুশি মনে বিদায় হলেন। বিরস মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন সাদেক সাহেব, বসার জায়গা নেই। আজ প্রচুর ভিড় থানায়। সাদেক সাহেবকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিঞ্চিৎ বোধ হয় দয়া হলো অফিসারের। ‘আপনি এক কাজ করুন লকারের ভিতরে বসুন। ’

- লকারের ভিতর বসব মানে?

- আহা দেখছেন না কেমন ভিড় এখানে। আজ কোন আসামি নেই লকার খালি আছে। এই কে আছ লকারের ভিতর উনাকে একটা চেয়ার দাও।

সাদেক সাহেব বিরস বদনে লকারের ভিতর একটা চেয়ার নিয়ে বসে রইলেন। তাঁর মনে হচ্ছে পাড়াতো বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ইলিশ চুরির ডায়েরি না করলেই বোধ হয় ভাল হতো। কী গ্যাড়াকলে পড়লেন তিনি। এই সময় স্ত্রীর ফোন এলো।

- তুমি কোথায়?

- থানায় লকারো

- কী? ক্কী! ল-লকারে কেন?

- ঐ ইলিশ চুরির ব্যাপরে ফেঁসে গেছি!

- কী বলছ? ওপাশে ঝপ করে ফোন রাখার শব্দ হলো।

একটু পরেই স্ত্রী থানায় এসে হাজির। হাতে টিফিন ক্যারিয়ার। টিফিন ক্যারিয়ারের ভিতর না দেখেই সাদেক সাহেব বুঝে গেলেন ভিতরে নিশ্চয়ই ইলিশই আছে। থানার ডায়েরি ইত্যাদির ঝামেলা চুকিয়ে বের হয়ে আসতে আসতে কিছু সময় ব্যয় হলো। বের হওয়ার সময় অফিসারটি সাদেক সাহেবের কানে কানে বললেন ‘বলেছিলাম না ইলিশ চোর আজই ধরা পড়বে?’ সাদেক সাহেব কোন উচ্চবাচ্য করলেন না। স্ত্রীকে নিয়ে সোজা রিকশায় উঠলেন।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: