কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সালাহউদ্দিন নিখোঁজের পুরো বিষয়টিই রহস্যজনক

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
  • যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ রহস্যের জট খোলেনি। হদিস মেলেনি তাঁর। নিখোঁজ সালাহ উদ্দিনের সন্ধানে সরকারের শক্তিশালী সার্চ কমিটি দেশে-বিদেশে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে নিখোঁজের বিষয়টি রীতিমত রহস্যজনক বলে ধরা পড়েছে। সালাহ উদ্দিন নিখোঁজের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট। গত সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের নিজস্ব ওয়েব সাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে এমন উদ্বেগ জানানো হয়। গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী লাগাতার অবরোধ আর বিচ্ছিন্ন হরতাল চলছে। অবরোধ হরতাল সফল করতে অজ্ঞাতস্থান থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদের নামে বিবৃতি আসছিল। চলমান কর্মসূচীতে পেট্রোলবোমা আর ককটেল হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে দগ্ধ হয়ে। ভাংচুর আর অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে প্রায় তিনহাজার যানবাহনে। আহত দুই হাজারের মধ্যে অন্তত ৫ শতাধিক মানুষকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১১ মার্চ সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ দাবি করেন, গত ১০ মার্চ রাতে ডিবি পরিচয়ে তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানানো হচ্ছে। আগামী ৮ এপ্রিল হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত শুনানীর দিন ধার্য রয়েছে।

সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে একটি শক্তিশালী সার্চ কমিটি গঠন করে।

র‌্যাবের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জনকণ্ঠকে জানান, নিখোঁজ সালাহ উদ্দিনের হদিস করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। নানাভাবেই অনুসন্ধান চলছে সালাহ উদ্দিনের।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম জনকণ্ঠকে জানান, সালাহ উদ্দিনের হদিস করতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তরফ থেকে গঠিত ৫ সদস্যের সার্চ কমিটি কাজ করছে। জোরালো অনুসন্ধান চলছে সালাহ উদ্দিনের বিষয়ে।

অনুসন্ধানকারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে জানান, সালাহ উদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি রীতিমত রহস্যের জন্ম দিয়েছে। অনুসন্ধানে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি করেছে। সরকারের উপর রাজনৈতিক ও ক’টনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে বা রাজনৈতিক মাঠ গরম রাখতে বা আন্দোলন চাঙ্গা করার কৌশল হিসেবে সালাহ উদ্দিন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছেন নাকি পালিয়ে বিদেশ চলে গেছেন নাকি কোন জঙ্গী গোষ্ঠী বা অপহরণকারী চক্র তাকে অপহরণ করেছে নাকি সত্যি সত্যিই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপথগামী সদস্য পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় রাখতে ঘটনাটি ঘটিয়েছে নাকি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল বা পুরনো শত্রুতার জেরধরে বা জামায়াত-শিবিরের কোন বিশেষ গ্রুপ অপহরণ বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। নিখোঁজ হওয়ার পুরো বিষয়টিই রহস্যজনক।

সূত্র বলছে, নিখোঁজের পর হদিস মেলা যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান বা পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন বেলার নির্বাহী পরিচালক রোজোয়ানা হাসানের স্বামীর মত সালাহ উদ্দিনের হদিস মিলবে কিনা, নাকি যুবলীগ নেতা লিয়াকত হোসেন, চালকসহ নিখোঁজ ইলিয়াস আলী বা চৌধুরী আলমের মত নিখোঁজই রয়ে যাবেন তা এখনও পরিস্কার নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি বিভাগ সালাহ উদ্দিনের হদিস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনুসন্ধান চলছে তার নিখোঁজ হওয়ার নানা দিক নিয়ে। বিদেশে আত্মগোপনে আছেন সন্দেহে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে।

তবে নিখোঁজ সালাহ উদ্দিন আহমেদের হদিস করতে সরকার আন্তরিক নয় অভিযোগ করে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত চেয়েছি। কিন্তু অদ্যাবধি আইনশ্খৃলা বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। দীর্ঘ সময় পরেও স্বামীর হদিস না মেলায় তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।

এদিকে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ্ন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। গত সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশে মুক্ত ও খোলামেলা গণতান্ত্রিক পরিসরের অভাবের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধী নেতা-কর্মীদের জোরপূর্বক গুমের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতার ইতিহাস আছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের অনেক অভিযোগ আছে।

দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে যুক্তরাজ্যের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হবে বলে প্রত্যাশা যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: