কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিম্নমানের মোবাইল হ্যান্ডসেট স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
  • প্রতিদিন লাখ লাখ পিস আমদানি ॥ কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

ফিরোজ মান্না ॥ কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না নিম্নমানের মোবাইল সেট আমদানি। দেশে প্রতিদিন লাখ লাখ নিম্নমানের মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি হচ্ছে। নিম্নমানের হ্যান্ডসেট থেকে যে পরিমাণ বিকিরণ তৈরি হচ্ছে তা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। নিম্নমানের মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে রে বা রশ্মি মানবদেহে প্রবেশ করছে। ফলে মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

মোবাইল বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মোবাইল ফোন বর্তমান বিশ্বে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনলেও এর বিপরীত চিত্র ভয়াবহ। মেবাইল ফোন থেকে যে পরিমাণ রেডিয়েশন হয় তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শিশুদের জন্য এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বেস স্টেশন (বিটিএস) বা টাওয়ার থেকে প্রতিদিন নির্গত আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে আগামীতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। জটিল রোগে আক্রান্ত হবে কোটি কোটি মানুষ। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তথ্য প্রযুক্তিবিদ ও তাত্ত্বিক পদার্থবিদরা। তারা বলছেন, আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির কারণে জিনগত পরিবর্তন ঘটবে ব্যাপক হারে। নিম্নমানের মোবাইল সেট জীববৈচিত্র্যসহ মানবদেহের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, বিটিআরসির অনুমোদন নিয়ে মোবাইল সেট আমদানিকারকরা নিম্নমানের মোবাইল সেট আমদানি করছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির মধ্যে পড়ছে। এ কাজ করে যাচ্ছে আমদানিকারকসহ অসাধু চক্র। নিম্নমানের মোবাইল সেট কিনে ঠকছেন ক্রেতারা। বাড়ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধের ঘটনাও। ফাইভস্টার ব্রান্ডের এফ ৩০ (এফ-৩০) ১০ পিস স্মার্টফোন প্রতিটি ৬ ডলার অর্থাৎ ৪৭২ টাকায় (১ ডলারে ৭৮ দশমিক ৭৭ টাকা ধরে) আমদানি করা হচ্ছে। দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। একই সময় ওই একই কোম্পানিটি ৩০ মডেলের ১০ পিস মোবাইল সেট প্রতিটি সাড়ে ৬ ডলার অর্থাৎ ৫১২ টাকায় আমদানি করেছে। সেটা দেশের বাজারে বিক্রি করছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এভাবে ক্রেতাদের ঠকানো হলেও বিটিআরসি এ বিষয়ে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। বছর তিনেক আগে রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখের মতো নিম্নমানের মোবাইল সেট আটক করেছিল। ওটাই ছিল বিটিআরসির একমাত্র অভিযান। এরপর আর কোন অভিযান চালানো হয়নি। পরে মোবাইল আমদানিকারকরা বিটিআরসির সঙ্গে রফা করেই সেটগুলো আমদানি করছে।

জানা গেছে, চীনের তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। আমদানি করা নতুন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেটগুলোর বেশিরভাগই নিম্নমানের। অল্পদিনের মধ্যে এ সব মোবাইল সেট অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এরপর গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য আমদানিকারকরা চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকরা এ সব সেট কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। শুধু গ্রাহকরাই বিপাকে পড়ছেন না-খুচরা বিক্রেতারও বাহারী নামের মোবাইল সেট সস্তায় বিক্রি করে নানা ঝামেলায় পড়ছেন। নিম্নমানের মোবাইল সেটগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রীন ফোন, এসকেএসএসটেল, এনকে টেল, কে জিন ডাসহ আরও অনেক নাম।

নিম্নমানের হ্যান্ডসেট আমদানি সম্পর্কে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক আগেই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চীনের বাজার থেকে নিম্নমানের হ্যান্ডসেট আমদানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। চীন থেকে আমদানি করা প্রায় ৮০ ব্র্যান্ডের মধ্যে ৯০ শতাংশ মোবাইল সেটই নিম্নমানের। এ সব সেট কিনে গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। এ সব সেটে ব্রাউজারের শুধুমাত্র আইকন বা চিহৃ থাকে. কার্যত কোন অপশন থাকে না। চীনের দু’তিনটি ভাল ব্র্যান্ড ছাড়া এ্যাসোসিয়েশন নিম্নমানের হ্যান্ডেসেট আমদানিকারকের দায়-দায়িত্ব বহন করে না।

সুত্র জানিয়েছে, প্রতি মোবাইল সেট মাত্র ১৫ থেকে ২০ ডলার দিয়ে চীন থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এ সব নিম্নমানের সেট দেশে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ ডলারে। ক্রেতারা এত দাম দিয়ে মোবাইল কিনেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। চীন থেকে আসা প্রায় ৮০ ব্র্যান্ডের মধ্যে মাত্র দুই থেকে তিনটি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট মোটামুটি মান সম্পন্ন। বাকি ৯০ শতাংশ মোবাইল সেট অত্যন্ত নিম্নমানের। মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন এ সব নিম্নমানের ফোন আমদানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েও কোন কিছু করতে পারেনি। বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিটিআরসির কাছে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার যথাযথ কর্তৃপক্ষই হচ্ছে বিটিআরসি। তারা যদি কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কিছু করার নেই।

সূত্র জানিয়েছে, চীন থেকে আমদানি করা বেশকিছু নতুন ব্র্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেটে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করা হচ্ছে ইন্টারনেট ব্রাউজিং ফিচার নিয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব মোবাইল অপারেটর সস্তায় মোবাইল ইন্টারনেট ব্রাউজিং সুবিধা দিচ্ছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য বাজার থেকে সস্তায় ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সুবিধা আছে এমন মোবাইল সেট কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ওইসব সেট কিনে তারা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারছেন না। যদিও মোবাইলের ক্যাটালগে লেখা থাকছে ইন্টারনেটসহ নানা সুযোগ-সুবিধার কথা। মানুষের আগ্রহকে পুঁজি করে বিভিন্ন ব্রান্ডের হ্যান্ডসেটের বিজ্ঞাপনে প্রকাশ করছে আমদানিকারকরা। বিজ্ঞাপনে নানা সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইন্টারনেট ফিচারের সুবিধার কথা বেশি প্রচার করছে। আসলে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ থাকলে বাস্তবে এ হ্যান্ডসেটে তা থাকছে না। এ সেটগুলো চীনে স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা ‘জি ওয়াপ ব্রাউজার’ হিসেবে কাজ করে। অত্যন্ত দুর্বল ফাইল ফরমেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। এ ব্রাউজার বাংলাদেশে বিভিন্ন অপারেটরের ব্রাউজিং ফাইল ফরমেটের সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী হয় না। ওয়াপ বা ওয়েব এ্যাকসেজ প্রটোকল ব্যবহার করে মোবাইল ইন্টারনেট ব্রাউজিং-এর জন্য প্রয়োজন হয় কমপক্ষে ২ মেগাবাইট বা দুই হাজার কিলোবাইট মেমোরির। অথচ এ সব হ্যান্ডসেটে দু’শ কিলোবাইট মেমোরিও থাকে না। এমনকি ডাউনলোড করার জন্যও কোন মেমোরি অপশন নেই। ফলে কেউ যদি আধুনিক ওয়াপ ব্রাউজার ডাউনলোড করতে চায় সেটাও সম্ভব হয় না।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: