মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাহারি পণ্যের সমাহার থাই মেলায়

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
  • বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে উদ্বোধন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশে আয়োজন করা হচ্ছে থাইল্যান্ডের পণ্যের মেলা। দেশটির বিভিন্ন পণ্যের প্রতি বাংলাদেশীদের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে বলেই এ আয়োজন। বুধবার থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী থাই পণ্যের প্রদর্শনী। নাম দেয়া হয়েছে থাইল্যান্ড ইউক-২০১৫। এ প্রদর্শনী চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। মোট ৫০টি স্টলে সাত ক্যাটাগরিতে থাইল্যান্ডে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ৪৭টি প৬ণ্য স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।

মেলায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রথম দিনেই বেশ জমজমাট। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশ ভালই ভিড় দেখা গেল। প্রথম দিনটি আয়োজকরা শুধু প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তাই বিক্রি খুব একটা হয়নি। তবে আজ বিক্রি বাড়বে বলে জানা গেছে। ঘুরে দেখা গেল, প্রায় নানা রকমের সুস্বাদু খাদ্য থেকে শুরু করে পারফিউম, ব্যাগ, স্যান্ডেল, মেশিনারিজ, প্লাস্টিকসহ থাইল্যান্ডে তৈরি নানা পণ্যের সমাহার রয়েছে প্রদর্শনীতে। আছে থাইল্যান্ডের বিশেষ কিছু ফলমূল। আছে অর্কিডের টব, সুক্ষ্ম কারুকাজ করা থাই হ্যান্ড ব্যাগ। বিভিন্ন পাথর ও মেটালের গলার মালা, কানের দুল, সিরামিকের তৈরি গয়না, কাপড়ের তৈরি ফুলেল ব্যান্ড, ক্লিপ, খোঁপা, কাঁটাও রয়েছে। এছাড়া কসমেটিক্স, কোকারিজ, বিউটি পার্লার সরঞ্জাম, হেয়ার শ্যাম্পু, পোশাক, ব্রেসলেট, হরেক রকমের জুতো, ব্যালেরিনা শো, গয়নাসহ অনেক কিছু। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের থাই শুকনো খাবার-মিষ্টি তেঁতুল, জেলী চকলেট, সস, আচার, জুস থেকে শুরু করে হরেক রকমের মুখরোচক খাবার। তবে এখানে সব পণ্যই কিন্তু একদামে কিনতে হবে। প্রয়োজনীয় এসব জিনিসের পাশাপাশি আছে মজাদার ও চমকপদ কিছু আইটেম। সাত ক্যাটাগরিতে থাইল্যান্ডে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ৪৭টি পণ্য স্থান পেয়েছে এবারের প্রদর্শনীতে।

পণ্যের দাম ॥ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ফল আমদানি করে বাংলাদেশে বিক্রি করছে রাত্রি ট্রেডিং। মেলায় অংশ নেয়া এ স্টলে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪১ ধরনের সুস্বাদু ফলের সমারোহ রয়েছে এখানে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাম্বুটান ফল। এটি অনেকটা কদম ফুলের মতো। ফলের ভেতরের অংশটা সাদা লিচুর মতো। আছে পুরোটাই হলুদ বর্ণের চ্যারি ম্যাঙ্গো। গ্রীন ম্যাঙ্গো, রোজ আপেল, পাপেয়া, প্লাম, ড্রাগন ফল প্রমুখ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কুনতিকা আপার্ড (ওয়ে) বলেন, এ প্রদর্শনীতে আমরা অনেক তথ্য সরবরাহ করতে পারছি। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের মাঝে তুলে ধরছি থাইল্যান্ডের বিভিন্ন সুস্বাদু ফলের বিবরণ। মধ্যপাচ্য, এশিয়া প্যাসিফিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুখ্যাতি রয়েছে মারিয়া ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের পারফিউ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সারওয়ান আঙসানটিকুল বলেন, পণ্যের প্রদর্শনী করাই আমাদের মূল্য লক্ষ্য। বিক্রি নিয়ে আমরা ভাবছি না। তিনি বলেন, বাংলাদেশীদের থাই পণ্যের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে বলে তিনি জানান। এখানে ফ্রুটি, ফ্লোরাল, পাউডারীসহ প্রায় ৩০ ধরনের পারফিউম রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে থাইল্যান্ড বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র প্রমোশন অফিসার কাজী শাফিক বিন আশরাফ বলেন, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে যদি কেউ ব্যবসা করতে চান সেই সুযোগও মিলবে এখানে। রেজিস্ট্রেশন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও আছে আগ্রহীদের। প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা থাইল্যান্ডের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া রয়েছে থাই ফুড রান্নার পদ্ধতি শেখার ব্যবস্থা।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশস্থ রাজকীয় থাই দূতাবাসের সহযোগিতায় থাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ডিপার্টমেন্ট এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সাত ক্যাটাগরির পণ্যের মধ্য রয়েছে অটো পার্টস এ্যান্ড এক্সেসরিজ, কনস্ট্রাকশন মেটারিয়াল এ্যান্ড মেশিনারি ইকুইপমেন্ট, ফুড এ্যান্ড বেভারেজ, গার্মেন্টস এ্যান্ড টেক্সটাইল এ্যান্ড ফ্যাশন এক্সেসরিজ, হেলথ এ্যান্ড বিউটি, হাউসহোল্ড এ্যান্ড নিটওয়ার পণ্য এবং স্টেশনারি পণ্য। খুচরা, পাইকারি, ডিলারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এ প্রদর্শনী থেকে থাইল্যান্ডের পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিতে পারবেন যে কোন গ্রাহক।

বুধবার সকালে চার দিনব্যাপী এই ‘থাইল্যান্ড উইক ২০১৫’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিবছর থাইল্যান্ড থেকে ৬০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করা হলেও রফতানির পরিমাণ খুবই সীমিত। তবে আমরা এই রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। শুধু আমদানি নয় রফতানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন কোন দুর্যোগপ্রবণ দেশ নয়। বাংলাদেশ এখন সম্ভাবনাময় ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দেশ। সামাজিক ও আর্থিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের সব সময় যোগাযোগ চলছে। বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ থাই এ্যাম্বাসেডর মাধুরায়াপচুনা ইত্রং, থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাউন্সিলর ওয়াচারা চ্যামনাওয়াং প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: