আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রের সম্ভাবনা ক্ষীণ

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
  • নেতানিয়াহুর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দায়ী ॥ ওবামা

ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রের বিরোধিতা করার সঙ্কল্প ব্যক্ত করার পর মধ্যপ্রাচ্যে দু’রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মঙ্গলবার এ কথা বলেছেন। নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে তাঁর দেশের নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কোন ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন। নেতানিয়াহুর মন্তব্যে হোয়াইট হাউস ক্ষুব্ধ হয়, যদিও তিনি সেই সময় থেকে তাঁর মন্তব্যের সুর নরম করার চেষ্টা করেন। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্টের।

ওবামা বলেন, নেতানিয়াহুর ঐ মন্তব্যের পর ইসরাইলী-ফিলিস্তিনী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা খুবই স্তিমিত বলে মনে হয়। যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক বছর ইসরাইলী-ফিলিস্তিনী সম্পর্ক নিয়ে কি পদক্ষেপ নেবে তা তিনি মূল্যায়ন করে দেখেছেন।

ওবামা বলেন, যা সেখানে নেই এমন কোন কিছু সেখানে রয়েছে বলে আমরা দেখতে পারি না। আমাদের নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতার স্বার্থে আমি মনে করি আমাদের এই নিয়ে সততা দেখানো উচিত। তিনি সফররত আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। নেতানিয়াহু চরম ডানপন্থী ইসরাইলীদের ভোট চাওয়ার পর ওবামার ঐ মন্তব্যই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ। তখন ইসরাইলী নেতা বলেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকতে কোন ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র হবে না। ওবামা স্বীকার করেন যে, নেতানিয়াহু ১৭ মার্চের নির্বাচনের পর কয়েকবার তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর কথাকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। ইসরাইলের ভেতর অনেক ভোটারই তা করেছেন। নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর মন্তব্যের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, পরে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কখনও হবে না সেকথা বলেননি, তবে সেটি হতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। কিন্তু শর্তগুলো অবশ্যই এমন যে সেগুলো অবিলম্বে কোন সময়ে পূরণ করা অসম্ভব হবে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসনের অধীনে ঐ সংঘাত মীমাংসার কয়েক দশকের প্রচেষ্টার এক মৌলিক মীমাংসিত বিষয়কে অস্বীকার করা হলে ফিলিস্তিনীরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে আর এর বিরুদ্ধে ইসরাইলীরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হতে পারে। এটি শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের এমন অবনতি ঘটাতে পারে যা সবার জন্যই খারাপ হবে। অন্যান্য কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন যে প্রশাসনের আগামী পদক্ষেপের মূল্যায়নের ফলে জাতিসংঘের দুই রাষ্ট্র সমাধান চাপিয়ে দেয়ার উদ্যোগ রোধ করতে ইসরাইলের চেষ্টার প্রতি মার্কিন সমর্থনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে চলমান আলোচনার ওপর ইসরাইল গুপ্তচরবৃত্তি করছে বলে সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এক খবর বেরোলেও মার্কিন ইসরাইলী উত্তেজনার মাত্রা বেড়ে যায়। এ আলোচনায় এক প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ সময় হলো আগামী মঙ্গলবার।ওবামা ঐ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সাধারণত আমি সাংবাদিক ভরা এক বড় কক্ষে গোয়েন্দা বিষয়ে মন্তব্য করি না। আমি মনে করি, আমি সেই ঐতিহ্য বজায় রাখব। কিন্তু ওবামা নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বিরাজমান সম্পর্ককে খুবই বাস্তবমুখী বলে বর্ণনা করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি বিশ্বের অন্য যে কোন নেতার চেয়ে বেশি বার তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এ বিরোধের ক্ষেত্রে কোন বড় উপাদান নয় বলে তিনি দাবি করেন।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: