কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এগিয়ে যাও বাংলাদেশ...

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫
  • রোকসানা বেগম

গুটি গুটি করে এগিয়ে গিয়ে সব দলের একটাই চাহিদা থাকে। সেটি কী? বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়া। বাংলাদেশেরও সেই লক্ষ্যই আছে। এবার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় পরের বিশ্বকাপ নিয়ে এখন থেকেই ভাবনা শুরু হয়ে গেছে। সেমিফাইনালে খেলতে না পারার আক্ষেপ যে করেই হোক, পরের বিশ্বকাপে কাটাতে চান টাইগাররা। অধিনায়ক মাশরাফি তো বলেই দিলেন, ‘পরেরবার কেন, আমরাতো এবারই সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলতে পারতাম।’ আর কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে তো পরের বিশ্বকাপে যেন দল আরও ভাল করে সেভাবেই পথচলা শুরু করতে চান। সেই শুরু হবে দ্রুতই। পাকিস্তানের বিপক্ষে এপ্রিলে সিরিজ শুরু হবে। এই সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশের সামনে পথচলা শুরু হবে। এরপর এক এক করে সিরিজ খেলতেই থাকবে দল। চড়াই-উতরাই শেষে আসবে আরেকটি বিশ্বকাপ। তবে পরের ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সরাসরি খেলতে হলে বাংলাদেশকে র‌্যাংকিংয়ের ৮ নম্বরে থাকতে হবে। তা না পারলে বাছাইপর্ব খেলে এরপর বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিতে হবে। যেন সরাসরিই খেলতে পারে বাংলাদেশ, সেই চেষ্টাই করা হবে। সেই আত্মবিশ্বাস ক্রিকেটারদের মাঝে আছেও। তবে আপাতত একটু যে বিশ্রাম মিলেছে, সেটাই উপভোগ করতে চান ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপ খেলে রবিবার দেশে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের বীরের সম্মান দিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। ক্রিকেট দলের প্রতি ভালবাসার টানেই বিমানবন্দরে বিকেল থেকেই হাজার হাজার ক্রিকেট প্রেমী হাজির। স্বপ্নময় বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে বীরেরা আসবেন। তাদের শুভেচ্ছা জানাবেন। বীরেরা আসলেন। এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের শুভেচ্ছায় সিক্তও হলেন। ক্রিকেটারদের বরণ করেও নেয়া হল। কিন্তু একবারের জন্য ক্রিকেটারদের দেখতে পেলেন না ভক্তরা। ভক্তরা যেদিক দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেদিক দিয়ে যে ক্রিকেটাররা বেরই হলেন না। তাই ‘মাশরাফি, মাশরাফি’, ‘মাহমুদুল্লাহ, মাহমুদুল্লাহ’, ‘রুবেল, রুবেল’, ‘মুশফিক, মুশফিক’; ডাক শুনতেই পেলেন না ক্রিকেটাররাও।

তবে ভিআইপি লাউঞ্জে মাশরাফি ঠিকই ভক্ত-সমর্থক, দেশবাসীকে ধন্যবাদ দিতে ভুলেননি। বলেছেন, ‘তাদের জন্যই সব।’ সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘আমি ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ দেই। কোচকেও ধন্যবাদ জানাই। টিম ম্যানেজমেন্টকেও ধন্যবাদ জানাই। আমরা যে কষ্ট করেছি, তার ফল পেয়েছি। আমরা যত ভালই খেলে আসি না কেন, সবকিছুই এ দেশের মানুষের জন্য। অন্যরকমই লাগছে। আমরা কিছু করতে গিয়েছিলাম। করতে পেরেই আনন্দ লাগছে। আমরা হেরেছি-জিতেছি, সবসময় একসঙ্গে থেকেছি। পুরো টিমে পারফরম্যান্স ছিল। সবার যে আশা ছিল, তা পূরণ করতে পেরেছি। আশা করছি এখন দল আরও এগিয়ে যাবে।’

সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে বিশ্বকাপের নৈপুণ্যই ধরে রাখতে হবে। তা ধরে রাখতে চানও ক্রিকেটাররা। বিশেষ দলের তরুণ ক্রিকেটাররা, যারা কিনা প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে দেখেছেন, তারা পরের বিশ্বকাপে ফাইনালেও খেলতে চান! তাসকিন আহমেদই যেমন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার কথা যেন পরের বিশ্বকাপে দেশ ছাড়ার আগে বলে যেতে পারি।’ তাইজুল ইসলাম তাসকিনের এ কথায় সায়ও দিলেন।

এমনটি ভাবনার কারণ, এবার যে আত্মবিশ্বাস মিলেছে, যেভাবে বাংলাদেশ দল খেলেছে, তা বজায় থাকলে পরের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমান রুম্মন যেমন বললেন, ‘বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন সেই ছোটবেলা থেকে ছিল। এত বড় আসরে ভাল খেলতে পারব, এ বিশ্বাস ছিল। কিছু একটা করে দেখাতে পারব, এ আত্মবিশ্বাস ছিল। বিগ হিটের জন্য আমাকে অতিরিক্ত কিছু করতে হয়, এই যেমন বাড়তি ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ। প্রতিদিন জিমে এক থেকে দেড় ঘণ্টা কাটিয়ে শারীরিক শক্তি এবং সাহস অর্জন করেছি।’ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে কন্ডিশন বিবেচনায় দলকে নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে, সৌম্য সরকার তো তার জবাবই যেন দিয়ে দিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে খেলতে হবে বাউন্সি উইকেটে, তা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। তবে এ নিয়ে কোন ধরনের ভয় কাজ করেনি। যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চেয়েছি। প্রতিটি ইনিংসকেই বড় করার সুযোগ ছিল, পারিনি, আফসোস এখানেই।’ তাসকিন আরও বললেন, ‘ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপে পারফর্ম করতে পেরে নিজের কাছে অনেক ভাল লাগছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে পারফর্ম করতে পারলে অনেক বেশি পরিচিতি পাওয়া যায়, এ অনুভব করলাম। ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট পেয়েছি, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের জস বাটলারের উইকেটটির কথা বিশেষভাবে মনে রাখব। কারণ, ওটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। রুবেল ভাই, আমি ১৪০ কিলোমিটারের বেশি বল করতে পেরেছি, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা দলে একসঙ্গে চার পেস বোলার পাব, যাদের সবার গতি থাকবে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি। এমনটাই প্রত্যাশা করছি। আমাদের দেশে এখন যেভাবে পেস বোলাররা উঠে আসছে, তাতে এই স্বপ্নই দেখছি। আশা করছি আগামী বিশ্বকাপে শিরোপার টার্গেট নিয়েই আসতে পারব।সে দোয়াই করবেন।’ তাইজুল ইসলাম বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছি। সেই ম্যাচেই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি সামনে আরও ভাল করব। দলকে ভাল কিছু উপহার দেব।’ নাসির হোসেনও বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে খুশি। বলেছেন, ‘দল যেভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে, তাতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এখন তা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে চাই আমরা।’

এবার বিশ্বকাপে যিনি সবার নজর কেড়েছেন, তিনি রুবেল হোসেন। যার বিশ্বকাপ খেলাই ছিল অনিশ্চিত। অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপী যে মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। সেই পেসার রুবেল হোসেন সুযোগ পেয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমন বোলিংই করলেন, দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠালেন। রুবেল বললেন, ‘একটা সময় বিশ্বকাপের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। বিশ্বকাপে বুঝি খেলতে পারব না, এমনটা ধরে নিয়েছিলাম। বিসিবি এবং নির্বাচকম-লী আমার ওপর আস্থা রেখেছে বলেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছি। সে জন্যই বিসিবির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। দলে থাকার সুযোগ পেয়ে বলেছিলাম, দেশের জন্য কিছু একটা করতে চাই। পারফর্ম করে প্রতিদান দিতে পেরেছি।’ কিন্তু এত ভাল খেলার রহস্য কী? রুবেল জানালেন, ‘হিথ স্ট্রিক কিছু কাজ করেছেন, এই যেমন ডেড বলে ইয়র্কার ডেলিভারি এবং রিভার্স সুইং। এ্যাডিলেডের উইকেট থেকে বাউন্স পাওয়ায় আমার জন্য লাভই হয়েছে। ইয়র্কার এবং রিভার্স সুইং দিতে পেরেছি। এখন সামনে আরও ভাল করতে চাই।’ শুধু রুবেলের জন্যই নয়, সবার জন্যই সেই সামনের পথ চলা এখন শুরু।

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫

২৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: