রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আতঙ্কের সাম্রাজ্য রাশিয়া

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫

রাশিয়ার গণতন্ত্রপন্থী নেতা বরিস নেমতসভ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে সে দেশের বিরুদ্ধবাদীরা বেশ ভয়ভীতির মধ্যে বসবাস করছে। তাদের কাছে রাশিয়া পরিণত হয়েছে আতঙ্কের সাম্রাজ্যে।

অবশ্য ওই হত্যাকা-ের পরই যে পরিস্থিতিটা এমন হয়েছে তা নয়। বছরখানেক আগে ক্রিমিয়া গ্রাস এবং এ নিয়ে পাশ্চাত্যের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে রাশিয়ার রাজনীতির ওপর প্রেসিডেন্ট ভণ্ডাদিমির পুতিনের প্রভাব নজিরবিহীন মাত্রায় বেড়ে যায়। তেমনি বাড়ে ভিন্ন মতের প্রতি তাঁর অসহিষ্ণুতা। তাঁর অনুসৃত নীতি এবং সেই সঙ্গে বাগাড়ম্বর রাশিয়া এমন এক পরিবেশ রচনা করে যে, বিরুদ্ধবাদীরা নিজেদের জীবনসংশয়বোধ করতে থাকে। মস্কোয় বিরোধীকর্মীদের ওপর সহিংস হামলা গত বছর খুব বেশি বেড়ে যায়। পাশ্চাত্যের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এখন রাষ্ট্রীয় নেতার টিভির প্রধান ধারায় পরিণত হয়েছে। ক্রেমলিনের সমালোচকদের প্রতি বৈরিতা সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের পর এত তীব্র আর কখনও হয়নি। মুষ্টিমেয় যেসব রুশ নাগরিক প্রকাশ্যে পুতিনকে চ্যালেঞ্জ করে থাকে, নেমতসভের হত্যাকা-ের পর তারা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছে।

গত ডিসেম্বরে এক ভাষণে পুতিন বলেন, রাশিয়ার বিরোধীদলীয় আন্দোলনের মধ্যে এমন কিছু লোকজন আছে যারা বিদেশী স্বার্থসিদ্ধির বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি পঞ্চমবাহিনীর অস্তিত্বের কথাও উল্লেখ করেন। এটা ভিন্নমত দমনের সবুজ সঙ্কেত হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রীয় টিভিতে এই দমন অভিযানকে জাতীয় পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে এবং তাতে বেশ কাজও হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের জনপ্রিয়তা ৮০ শতাংশের ওপর রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের প্রতি বৈরিতা এত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, গত ২৫ বছরের মধ্যে কোন পর্যায়েই এতটা ছিল না। গত জানুয়ারিতে জনমত জরিপে দেখা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক যা মাত্র দু’বছর আগেও ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। এই নেতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় টিভির প্রচারণা যুক্ত হয়ে এক ধরনের গণআগ্রাসনের রূপধারণ করেছে। বিরুদ্ধবাদীরা এই গণআগ্রাসনের তেজ অনুভব করছে। আজ কথায় কথায় হুমকি আসছে, সহিংসতা ঘটছে। রাশিয়ায় তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠা এই রাজনৈতিক উন্মাদনার কারণ হলো ইউক্রেনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত। গত বসন্তে ত্বরিতগতিতে ও বিনা রক্তপাতে ক্রিমিয়া দখলের মধ্যদিয়ে কোটি কোটি রুশ ও শাসক এলিট শ্রেণীর মধ্যে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়।

এরপর শুরু হয় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার আঘোষিত যুদ্ধ। তার জন্য চড়া মাশুলও দিতে হয়। তরুণ রুশ সৈন্যরা একের পর এক কফিন হয়ে ফিরতে থাকে। এগুলো গোপন রেখে সমানে মিথ্যাচার চালাতে থাকে সরকার। নেমতসভ এই মিথ্যাচার ও বানোয়াট উন্মোচন করতে চেয়েছিলেন। ইউক্রেন ও পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে ক্রেমলিনের প্রচার যুদ্ধের স্বরূপ ফাঁস করতে চেয়েছিলেন। দেখাতে চেয়েছিলেন গত এক বছরে ৬ হাজারেরও বেশি রুশ প্রাণ হারিয়েছে ইউক্রেনে। তার মাশুল তাকে দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে।

নেমতসভের মৃত্যুর পরও ক্রেমোলিনের বিরুদ্ধবাদীদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত আছে। গত ৫ মার্চ আলেক্সি সেমিওনোভ নামে এক যুদ্ধবিরোধীকর্মীর ওপর হামলা হয়। সম্ভবত এর কারণ তিনি ইউক্রেনের জাতীয় রং হলুদ ও নীল বর্ণের একটি রিবন ধারণ করেছিলেন। ব্যাপারগুলো এখন আর যুক্তিতর্ক ও গালিগালাজের পর্যায়ে নেই। মানুষ এখন একে অন্যকে হত্যার জন্য প্রস্তুত।

একদিকে পুতিনের ক্ষমতার মদমত্ততা ও অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্ররোচনায় রাজনৈতিক গণউন্মাদনার মধ্যেও বিরুদ্ধবাদী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ মাচ নেমতসভ স্মরণে মস্কোয় এক শোক সমাবেশে ৫০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছিল। এ থেকে প্রমাণ হয় রাশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন উদারপন্থীদের অনুকূলে না হলেও তাদের দাবিয়ে রাখা, ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা বেশিদিন হয়ত সম্ভব হবে না।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : টাইম

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫

২৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: