মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জামালপুরের আট রাজাকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫
  • হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী ১ অপরাধের অভিযোগ
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে জামালপুরে আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে। তদন্ত সংস্থা আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে মঙ্গলবার ধানম-ির সেফহোমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও গুমের মানবতাবিরোধী দশটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- অধ্যাপক শরীফ আহম্মেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মোঃ আবদুল মান্নান, মোঃ আবদুল বারী, মোঃ হারুন, মোঃ আবুল হাশেম, শামসুল হক ওরফে বদর ভাই ও এসএম ইউসুফ আলী। তদন্ত প্রতিবেদন আজ চীফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয়া হবে।

এদিকে বাগেরহাটের কসাই সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ, আকরাম হোসেন খাঁনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলালউদ্দিনকে জেরা করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। অসমাপ্ত জেরা করার জন্য রবিবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের দুই রাজাকার মাহিদুর রহমান, মোঃ আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেডএম আলতাফুর রহমানের জেরার জন্য ২৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষীর জন্য রবিবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন। এদিকে সরকার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমৃত্যু কারাদ- প্রাপ্ত পলাতক আসামি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের মামলায় আপীল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ্যার্টনি জেনারেলের কার্যালয়ের সলিসিটর একেএম সলিমউল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে জামালপুরের ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। আগামী ৩০ মার্চ চূড়ান্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিলের জন্য দিন নির্ধারণ করা আছে। ধানম-ির সেফহোমে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান, তদন্ত সংস্থার প্রধান এমএ হান্নান খান ও সমন্বয়ক সানাউল হক। হান্নান খান বলেন, মাদকদ্রব্য, দুর্নীতির মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেন। আমরা সরকারের কাছে বারবার এ ক্ষমতা চাওয়ার পরও তা আমাদের দেয়া হয়নি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের ক্ষমতা চেয়ে লিখিতভাবে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের অর্জন অনেক। ১৭টি মামলায় ১৮ জনের বিচার কাজ সম্পন্ন হয়ে রায় হয়েছে।

জামালপুরের আট রাজাকারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও গুমের দশটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে (১) জামালপুরে রাজাকার-আল বদরবাহিনী ও শান্তি কমিটি গঠন, স্থানীয় সাধনা ঔষধালয় দখল করে আল বদরবাহিনী ও শান্তি কমিটির কার্যালয় স্থাপন এবং সিংহজানি হাইস্কুলে আল বদরদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এছাড়া পিটিআই হোস্টেল ও আশেক মাহমুদ কলেজের ডিগ্রী হোস্টেল দখল করে নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে সেগুলোতে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে। (২) একাত্তরের ৭ জুলাই ইয়াদ আলী ম-লকে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। (৩) একাত্তরের ৭ জুলাই আব্দুল হামিদ মোক্তারকে তার গ্রামের বাড়ি মৈশা ভাদুরীয়া থেকে আটক করা হয়। পরে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়। (৪) একই দিন শামসুল আলমকে আটক করে নির্যাতন করা হয়। (৫) অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মোঃ সাহিদুর রহমানকে অপহরণের চেষ্টা এবং মহির শেখকে অপহরণ আটক ও নির্যাতন করা হয়। (৬) একাত্তরের ৭ জুলাই জামালপুরের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানসহ ১৭ জনকে গুলি করে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেয়া হয়। (৭) একাত্তরের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন মল্লিককে অপহরণ করে নির্য়াতন করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেয়া হয়। (৮) তৎকালীন আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক মহিদুর রহমানকে অপহরণের চেষ্টা। (৯) একাত্তরের মে থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আশেক মাহমুদ কলেজ ডিগ্রী হোস্টেলের আল বদর ক্যাম্পে নির্যাতন কেন্দ্রে অসংখ্য মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম করা হয়। (১০) একাত্তরের মে থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিটিআই জামালপুরের নির্যাতন কেন্দ্রে অসংখ্য মানুষকে ধরে এনে আটক নির্যাতনপূর্বক হত্যা ও লাশ গুম করা হয়।

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫

২৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: