মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজশাহীতে বেপরোয়া মাদক চক্র

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫
  • মূলহোতারা ধরাছোয়ার বাইরে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব সেক্টরে কিছুটা হলেও অস্থিরতা বিরাজ করলেও মাদক বিক্রেতাদের গতি কমেনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যস্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। রাজশাহীর সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা চারঘাট, বাঘা ও গোদাগাড়ীতে রমরমা এখন মাদকের বাণিজ্য। সম্প্রতি মাদকের চালান বহনে রাজশাহী অঞ্চলে যুক্ত হয়েছে নারীরাও। রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা ও গোদাগাড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের মাদকবিরোধী সাড়াশি অভিযান চললেও থামছে না মাদকের কারবার। প্রতিদিন দুই একজন মাদক বিক্রেতা ও বহনকারীদের ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হলেও এর আওতায় পড়ছেন কেবল ক্ষুদ্র মাদক বিক্রেতা ও বহনকারীরা। আর ধরা-ছোয়ার বাইরে থেকে অবাধে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু জেলার চারঘাটেই গত দুই মাসে অন্তত অর্ধশতাধিক মাদকসেবী ও বিক্রেতাকে সাজা দেয়া হলেও থামছে না পাচার। চোরাকারবারী ও মাদক বিক্রেতা সিন্ডিকেটের মূলহোতারা ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকায় সর্বগ্রাসী মাদকপাচার বন্ধ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার চারঘাট-বাঘা ও গোদাগাড়ী এলাকার চোরাকারবারীরা হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই চারঘাট, বাঘা ও গোদাগাড়ী এলাকার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসছে ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবা। ফেন্সিডিল হেরোইনের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি আসছে ইয়াবা।

স্থানীয়দের অভিযোগ মাদক পাচারকারী গডফাদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কিছু সদস্যের গভীর সখ্যতা থাকায় মাদকের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিতে সাহস পায় না এলাকাবাসী। নামক প্রকাশ না করা শর্তে চারঘাটের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, চারঘাট বাঘা ও গোদাগাড়ী সীমান্তবর্তী উপজেলা। এ তিন উপজেলায় কারা মাদক পাচারকারী গডফাদার তা পুলিশ প্রশাসনসহ সবারই জানা। কিন্তু তারপরেও তারা থাকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে যারা (মাদক বিক্রেতা) মাসোহারা দেয় তারাই থাকে নিরাপদে। জানা গেছে, শুধু চারঘাটেই অন্তত ২০ জন মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার রয়েছে। যাদের নামে একাধিক মাদকসংক্রন্ত মামলার ওয়ারেন্ট থানা পুলিশের কাছে রয়েছে। এদের সংখ্যা বাঘা ও গোদাগাড়ীতে আরও বেশি।

চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন মাসোহারা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, মাদকের বিষয়ে পুলিশের টার্গেট জিরো টলারেন্স। প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা নেই।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের ধরতে হলে দরকার সঠিক তথ্য। কিন্তু তাদের বিষয়ে অনেকেই মুখ খোলে না অভিযোগও করে না। এজন্য তিনি এলাকাবাসীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজশাহী জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, জেলার তিন উপজেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক বিক্রিও পাচার একটু বেশি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সব থানায় মাদক বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫

২৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: