মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জুনের মধ্যে আরও এক হাজার মে.ও বিদ্যুত আসছে জাতীয় গ্রিডে

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫
  • সার্বিক উৎপাদন ১১ হাজার মে.ও. ছাড়িয়ে যাবে

রশিদ মামুন ॥ আরী এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে আগামী জুনের মধ্যে। এর মধ্য দিয়ে নতুন করে সাতটি বিদ্যুত কেন্দ্র উৎপাদনে আসছে। যাতে করে দেশে বিদ্যুতের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আশুগঞ্জে একটি বিদ্যুত কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। একই স্থানে আরও একটি কেন্দ্র চলতি মাসের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করবে। এছাড়া তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্রর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অন্য দুটির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গ্রীষ্মকে সামনে রেখে সরকার এসব বিদ্যুত কেন্দ্র দ্রুত উৎপাদনে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি বছর গ্রীষ্মে সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াট সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুত বিভাগে গ্রীষ্মের প্রস্তুতি সভায় বলা হয়েছে সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে চাহিদা সীমাবদ্ধ থাকলে কোন লোডশেডিং হবে না। একই বৈঠকে গ্রীষ্মে মানসম্মত বিদ্যুত সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এখন দেশের বিদ্যুত কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা ১০ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট। কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। তবে চাহিদা সীমিত থাকায় দিনের বেলা পাঁচ হাজার ৭০০ থেকে পাঁচ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করা হচ্ছে। আর সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সোমবার উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল সাত হাজার ২৮৫ মেগাওয়াট। রবিবার সন্ধ্যায় দেশে বিদ্যুত উৎপাদন হয়েছে সাত হাজার ১৬৯ মেগাওয়াট। নতুন করে আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত যোগ হলে দেশের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ১১ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। এখন দেশের কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে না। তবে কোন কোন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের নিজস্ব বিতরণ ব্যবস্থার সমস্যায় বিদ্যুত সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। এসব এলাকার বিতরণ লাইনের আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পিডিবি জানায়, গাজীপুরের কড্ডায় পিডিবি এবং আরপিসিএল পাওয়ার কোম্পানি যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। বিদ্যুত কেন্দ্রটি ডুয়েল ফুয়েলে গ্যাস এবং ফার্নেস অয়েলে চলবে। বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণে সিইএস চায়নার সঙ্গে ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি চুক্তি হয়। এখান থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাবে। পরিকল্পনায় দেখা যায় বিদ্যুত কেন্দ্রটি গত ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদনে আসার কথা। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে উৎপাদনে আসতে অতিরিক্ত আরও তিন মাস সময় প্রয়োজন হবে। আগামী মে মাস থেকে বিদ্যুত কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করবে। সরকারী দুটি কোম্পানি যৌথ উদ্যোগে এই একটি মাত্র কেন্দ্র নির্মাণ করছে। আরপিসিএল পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) একটি কোম্পানি। পিডিবির বিদ্যুত উৎপাদনে বিশদ অভিজ্ঞতা থাকলেও আরইবির এ বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের সিম্পল সাইকেল উৎপাদনে আসবে এপ্রিল অথবা মে মাসে। এখান থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাবে। কেন্দ্রটির সিম্পল সাইকেলের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ রয়েছে। পেট্রোবাংলা অনেক দিন ধরেই চাহিদা না থাকায় এখানের গ্যাস উত্তোলন করতে পারছিল না। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে এ গ্যাস যোগ করা সম্ভব না হওয়ায় ভোলায় একটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। ভোলার সঙ্গে একটি গ্রিডও নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে ভোলায় একটি বেসরকারী কেন্দ্র থেকে বিদ্যুত সরবরাহ করা হতো। সব মিলিয়ে ভোলায় ৫৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র ছিল। কিন্তু চাহিদা না থাকায় উৎপাদন করা হয় ৩০ মেগাওয়াট। ভোলায় বিদ্যুত কেন্দ্রটির কাজ শেষ হলে এখানের অতিরিক্ত বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে ভোলার মানুষের বিদ্যুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে। এতে করে ভোলায় স্থানীয়ভাবে অর্থনীতি আরও বেগবান হবে। পিজিসিবি বলছে একই সময়ের মধ্যে গ্রিড লাইনের কাজ শেষ করা হবে। এর আগে ভোলার সঙ্গে ৩৩ কেভির একটি সঞ্চালন লাইনের সংযোগ ছিল, যা দিয়ে ভোলায় দেয়া কিংবা ভোলা থেকে বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দুটোতেই সমস্যা হতো।

আশুগঞ্জ মডুলার-২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে গত বৃহস্পতিবার থেকে উৎপাদন শুরু করেছে। যদিও গ্যাস চালিত বিদ্যুত কেন্দ্রটির গত মাসে উৎপাদনে আসার কথা ছিল। বিগত ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণে চুক্তি হয়। পরীক্ষামূলক দৈনিক ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ থেকে দৈনিক ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হবে। পুরোমাত্রায় উৎপাদনে আসতে চলতি বছরের অক্টোবর নাগাদ সময় লাগতে পারে। এছাড়া আশুগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রটি চলতি মাসের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করবে। বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড দেউও ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি হয়।

আশুগঞ্জ বিদ্যুত কেন্দ্রের আওতাধীন এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এসব ইউনিট ২০১৬ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। এছাড়া আরও দুটি ৯০০ মেগাওয়াটের গ্যাসচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। কেন্দ্র দুটি হলো ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল (দক্ষিণ), ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল (উত্তর)। এই দুটি কেন্দ্রর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সূত্র মতে ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (দক্ষিণ) ইউনিটের প্রায় ৮৬ ভাগ কাজ ও ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (উত্তর) প্রকল্পের ৪৬ ভাগ শেষ হয়েছে। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড এসব কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫

২৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: