মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকা সিটি নির্বাচন মনোনয়নপত্র নিতে শুরু করেছেন সব দলের প্রার্থীরা

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য এখন পর্যন্ত মেয়র পদে ১৫ জনের বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থীই মনোনয়নপত্র রিটানিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেননি। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার উত্তরে মেয়র প্রার্থী নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। এছাড়া সোমবার দক্ষিণের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত আসামি ও বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আনিসুল হক ও নাসির উদ্দিন পিন্টু ছাড়াও মেয়র পদে গত রবিবার পর্যন্ত আরও ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক সাংসদ ও অভিনেত্রী কবরী সারোয়ার। তিনি জানিয়েছেন দল থেকে মনোনয়ন না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। যেহেতু এর আগে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।

সোমবার বিকেলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক। রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলমের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আধুনিক ঢাকা গড়ার জন্য কাজ করতে চান। ভোটারদের বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। অপর দিকে মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কারাবন্দী পিন্টুর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, পিন্টু কারাগারে আটক থাকার কারণে তারপক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত রবিবার পর্যন্ত মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাহার উদ্দিন আহমেদ বাবুল, ববি হাজ্জাজ ও সিপিবির পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ আল কাফি, জাতীয় পার্টির চেয়ারপার্সন এইচ এম এরশাদের উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ। জানা গেছে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। এছাড়াও জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, শামসুল আলম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান খোকন ও জামান ভুইয় প্রমুখ মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে প্রায় দুই শতাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

গত ১৮ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রবিক উদ্দিন আহমেদ ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ এপ্রিল এ তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১ ও ২ এপ্রিল বছাই হবে। ৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধরা হয়েছে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে ইসির অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও বদলি না করার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সরকারকে অনুমতি ছাড়া তিন সিটি নির্বাচনী এলাকায় কোন বদলি না করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনাটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন সরকারী দফতর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া সরকারী ও সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা নির্বাচনের কাজে দায়িত্ব পাবেন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এ নির্দেশনা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরের ১৫ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে ইসির পক্ষ থেকে অপর এক নির্দেশনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কেউ ঋণ খেলাপি কিনা তা জানতে চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ইসি সবিচ মোঃ সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ঋণ খেলাপীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তাই ঋণ খেলাপী ব্যক্তিদের যাতে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা যায় সেজন্য সব ব্যাংক থেকে ঋণ খেলাপী সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন অথবা তার আগেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ঋণ খেলাপী ব্যক্তির তথ্য দিতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫

২৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: