মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজধানীতে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ৪০

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫
  • দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিএনপির নেতাকর্মীরা
  • কারাবন্দী বিএনপি নেতা পিন্টু মনোনয়নপত্র কিনলেন

রাজন ভট্টাচার্য ॥ আসন্ন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আসছে নতুন নতুন চমক। মিলছে নতুন মুখের সন্ধান। সর্বশেষ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কবরী মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঢাকায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা ৪০। তাদের অনেকেই মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ নিয়ে জনসংযোগে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সবাই। চলছে মনোনয়ন সংগ্রহের কাজ। বসে নেই কমিশনার প্রার্থীরাও। সব মিলিয়ে মাঠ পর্যায়ে এখনও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ২৯ মার্চ পর্যন্ত মনোয়ন দাখিলের সময় আছে। তাই এপ্রিলের শুরু থেকেই নগরজুড়ে নির্বাচনী উৎসব শুরু হবে। দলের গ্রীন সিগন্যালের অপেক্ষায় বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও তাকিয়ে আছেন হাইকমা-ের দিকে। ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। এদিকে বড় বড় সব রাজনৈতিক দলে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

দক্ষিণে মেয়র প্রার্থীদের ভীড় ॥ মেয়র পদে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী আছেন সাঈদ খোকন। জানা গেছে, বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপির কারণেই তিনি নির্বাচন করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা ও খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। দক্ষিণে সাঈদ খোকনের ঋণখেলাপী সংক্রান্ত জটিলতা আছে। এজন্য দলের প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার সাঈদ খোকন জনকণ্ঠকে বলেন, ব্যাংক ঋণের বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। এ তথ্যের কোন ভিত্তি নেই। একটি সংবাদপত্রে বাড়ি বিক্রি করে ব্যাংক লোন পরিশোধ করা হয়েছে এমন সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কোন কথা বলতে চাই না। দক্ষিণে আরও প্রার্থীদের মধ্যে আছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মওলা রনি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা ও সাংসদ হাজী সেলিমও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, দলের গ্রীন সিগন্যাল পেয়েই আমি প্রার্থী হয়েছি।

এছাড়া এরশাদের জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে হাজী সাইফুদ্দিন মিলনসহ একাধিক প্রার্থী আছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর (পূর্ব) জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শহীদুল ইসলামকে দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের সমর্থন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির পক্ষ থেকে রুহিন হোসেন প্রিন্স মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেন, মহানগর নেতা আবদুস সালাম, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস। কারাগারে থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু। তাঁর পক্ষে আইনজীবী সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে তাদের কারও একজনের প্রকাশ্য তৎপরতা এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

বিএনপি সূত্রগুলো বলছে, দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পরই মাঠে নামবেন তারা। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিএনএফের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন, দক্ষিণে দলটির অফিস সেক্রেটারি শফিউল্লাহ চৌধুরী ও মহিলা ফ্রন্টের নাসিরা খাতুন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণে দলের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আবদুর রহমান। দক্ষিণে মেয়র পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন, মোঃ আখতারুজ্জামান, বাহরানে সুলতান বাহার, রিয়াজ উদ্দিন, শফিউল্লাহ ও শাহীন খান।

উত্তরে আছে বিদ্রোহী প্রার্থী ॥ উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শিল্পপতি আনিসুল হক। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেকে নিয়ে তাঁকে প্রার্থী হতে বলেছেন। দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার। তবে তিনি বলেছেন, দল চাইলে নির্বাচন করবো। ইতোমধ্যে তিনি প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীও প্রার্থী হচ্ছেন উত্তরে। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে আছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর নামে আরও একজন নারী শিল্পপতি। বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও শিল্পপতি আবদুল আওয়াল মিন্টু ও যুগ্ম-মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু ও রিপনকে প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বাহাউদ্দিন বাবুলকে মেয়র পদে সমর্থন দেয়া হয়েছে। জাপার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ। আচরণবিধি ভঙ্গ করে উত্তরের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ববিকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এরশাদ। তবুও নির্বাচনের বিষয়ে অনড় তিনি। সিপিবির পক্ষ থেকে উত্তরে প্রার্থী হয়েছেন কাফি রতন। গণফোরামের পক্ষ থেকে প্রার্থী মোস্তাফা মোহসিন মন্টুও প্রার্থী হচ্ছেন। নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে উত্তরে মেয়র পদে লড়বেন ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহামুদুর রহমান মান্না। এছাড়াও ঢাকা মহানগর জাসদ সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতার উত্তর মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম আজাদ এমপি মেয়র প্রার্থী হিসেবে চারজনের নাম ঘোষণা করেন। উত্তরে শ্রমিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান খান নাজিম ও যুবফ্রন্টের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম বাবু। মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এরা হচ্ছেন, ঢাকা মহানগর উত্তরে দলের ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। উত্তরে আরও মনোয়ন কিনেছেনÑ মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, শামসুল আলম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান খোকন ও জামান ভুঁইয়া ও বিএনপির সাবেক নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে ইরাদ আহমেদ ও কাজী শহীদুল্লাহ নামের একজন।

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ঢাকা দক্ষিণে বাবুল সর্দার চাখারী, ঢাকা উত্তরে মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিম এবং চট্টগ্রামে আবুল মঞ্জুরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এনডিএফয়ের পক্ষ থেকে নাম ঘোষণা করা হয়।

এদিকে মেয়র পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী কবরী বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা, অনেক বেশি মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে একটা অর্থবহ নির্বাচন হবে। বিগত সময়ে আমার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাজে দেবে। আমি মনে করি, দায়িত্বশীল মানুষেরা দায়িত্ব নিয়ে রাজনীতি না করলে ভবিষ্যতে ভাল মানুষেরা রাজনীতিতে আসার উৎসাহ পাবেন না। আমি সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করি। নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন করার পর আমি মানুষের কল্যাণে অনেক কাজও করেছি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব জেসমিন টুলি স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যে বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানারসহ সব নির্বাচনী প্রচারণার উপকরণ সরিয়ে না ফেললে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠান। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ মার্চ। ১ ও ২ এপ্রিল বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এতে মোট ভোটার ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৩ জন। নারী ভোটার ১১ লাখ ২১ হাজার ৭৪২ এবং পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ২৭ হাজার ৫৭১ জন। আর দক্ষিণে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ জন। এতে নারী ভোটার ৮ লাখ ৬১ হাজার ২৯৩ এবং পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৯ হাজার ৭০ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ লাখ ২২ হাজার ৮৯২ জন ভোটার। নারী ভোটার ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৯ এবং পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৩ জন।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা, ২০১০-এর অনুচ্ছেদ ৪-এ অনুযায়ী, কোন প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে কোন ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের ২১ দিন আগে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করার বিধান রয়েছে। তাদের মতে, এ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের জেল দেয়ার আইনী বিধান রয়েছে। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তা চাইলে তার প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারবেন।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৫

২৪/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: