কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পাঠ্যবইকে গুরুত্ব দেয়া উচিত

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫
  • আবদুল হালিম
  • অধ্যক্ষ, নবকুমার ইনস্টিটিউট ও ড. শহীদুল্লাহ কলেজ

সামনেই তোমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সব পরীক্ষা একই রকম হবে এমনটি নয়। তুলনামূলক ভালমন্দ হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই এখন বিগত পরীক্ষার ভাল মন্দ নিয়ে চিন্তা করে সময় নষ্ট করা অর্থহীন। তাই পেছনে না তাকিয়ে আগামী পরীক্ষাগুলো ভালভাবে দেয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়াই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। তাই তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি বিষয় বলতে চাই যে, সাজেশন বা নোটনির্ভর পড়াশোনা পরিহার করে মূল পাঠ্য আগা-গোড়া পড়বে। অনেকেই আছ পরীক্ষার প্রস্তুতির বেলায় শেষ সময়ে বিভিন্ন পার্শ্ব বই এবং সিলেকটিভ চ্যাপ্টার পড়তে গিয়ে মূল পাঠ্য পড়ার সময়ই পাও না। এটাকে বলা যায় গোড়া রেখে আগা নিয়ে টানাটানি করা, যা অন্তর্ঘাতমূলক। এটা পরিহার বাঞ্ছনীয়। আর বেশি নম্বর পেতে সঠিক বানানের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রশ্নানুযায়ী সময় বণ্টন করে উত্তর লেখার অভ্যাস করতে হবে, বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজীতে। এ জন্য নিজেই প্রশ্ন তৈরি করে নিজের মডেল টেস্ট নিতে পার এবং বানান ভুলসহ অন্যান্য ভুল শুধরানোর জন্য খাতাটি নিজেই মূল্যায়ন করতে পার। এতে কোন কোন চ্যাপ্টারে তোমার দুর্বলতা রয়েছে তা শনাক্ত হবে এবং সেভাবেই চর্চা করে অগ্রসর হবে। এটা ভাল ফলাফল করতে সহায়ক হবে।

প্রয়োজন কাউন্সিলিং: এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে চাপটা সাধারণত একটু বেশিই থাকে তাই পরীক্ষা চলাকালীন যে কোন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের সামাল দিতে পারে সেজন্য শিক্ষক কিংবা অভিভাবকদের উচিত সম্ভাব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী তার সমাধান সংক্রান্ত কাউন্সলিং প্রদান করা। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই আছে, যারা রেকর্ড ফলাফলের ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত। তারা প্রশ্ন হাতে নিয়ে যদি দেখে যে প্রথম প্রশ্নটিই আনকমন, অথবা কমন পড়া সত্ত্বেও ভাল লেখা হয়নি, সেক্ষেত্রে ঘটতে পারে অনেক অঘটন! তাই সেসব মুহূর্ত যাতে তারা সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে পারে, সেজন্য তাদেরকে এই মর্মে বোঝাতে হবে যে, প্রথমটি কমন পড়েনি বা ভাল উত্তর দিতে পারোনি বিধায় হতাশ না হয়ে অন্যগুলো এমনভাবে উত্তর করতে হবে, যেটা লিখতে বা ভাল লিখতে পারনি, সেটা যাতে পুষিয়ে যায়। বিশেষ করে এক অনিষ্টের জন্য যাতে দশ অনিষ্ট না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ প্রস্তুতি যত ভালই হোক-না-কেন, প্রশ্ন কমন নাই পড়তে পারে বা কোন একটির উত্তর লেখা ভাল নাও হতে পারে। ফলে বিষয়টিকে মেনে নিয়ে পরীক্ষার হলে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে আগে ভাল জানা প্রশ্নোত্তরগুলো শেষ করতে হবে। আমার মতে, শিক্ষক-অভিভাবক সকলেরই অন্তত পরীক্ষার আগে এসব বিষয়ে আলোচনা করে পরীক্ষার্থীকে যে কোন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা উচিত।

সুস্থ দেহ মনে ভাল পরীক্ষা দাও, এই কামনাই সবার প্রতি।

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫

২৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: