আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশেষ পরামর্শ ॥ পরীক্ষার হলে ধীরস্থির থাকবে

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫
  • ড. আয়েশা বেগম

পরীক্ষার দিন ও সময় যত সন্নিকটে হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে তত মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। কোন কোন শিক্ষার্থী নিজের তাড়না বা অভ্যন্তরীণ প্রেষণা থেকে মানসিক চাপ অনুভব করে। পরীক্ষায় অতি উত্তম ফলাফল করার উচ্চাশা তার এই মানসিক চাপ অনুভবের প্রধান কারণ। এছাড়াও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েট বা উচ্চতর শ্রেণীতে ভর্তির জন্য জিপিএ ৫ বা গল্ডেন জিপিএ প্রাপ্তির বিষয়ে অনিশ্চয়তার ভীতিও অনেক শিক্ষার্থীর মানসিক চাপকে বাড়িয়ে দেয়। কোন কোন পরিস্থিতিতে বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যরা পরীক্ষা অতি সন্নিকটে চিন্তা করে তাদের সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করতে বাধ্য করে। যেমন: খেলাধুলার সময় বা বিনোদনের সময়কেও পড়াশোনায় ব্যয় করতে বাধ্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

পরীক্ষাকে সামনে রেখে পরীক্ষার্থীদের প্রতি এবং তাদের পরিবারের প্রতি কতিপয় সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হলো-

শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ

# কাঠামোবদ্ধভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অর্থাৎ পড়াশোনার নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা করা। অতিরিক্ত সময় পড়াশোনায় অতিবাহিত না করা। পূর্বে তুমি যে নিয়মে বা সময় পড়াশোনা করেছ, তা চালিয়ে যাওয়া। পরীক্ষা সামনে রেখে অতিরিক্ত সময় না পড়াশোনা করে বরং কিছু সময় কম পড়াশোনা করা।

# স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া, বিশেষ করে নিয়মিত খাদ্যগ্রহণ ও ঘুম বজায় রাখা জরুরী। খাদ্যগ্রহণে সচেতন হতে হবে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এমন খাবার খেতে হবে এবং সঠিক সময়ে ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।

# নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখা। তুমি যতটুকু পড়াশোনা করেছ, তার প্রতি আস্থা রাখা, কারও কোন পরামর্শে বা বন্ধুদের প্ররোচনায় নতুন কোন প্রশ্ন বা প্রশ্নমালা নতুন করে না পড়া।

# প্রতিদিন নিয়মিত আনন্দ, বিনোদন ও খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া। পরীক্ষার জন্য কোন আনন্দ, বিনোদন বা খেলাধুলাকে সম্পূর্ণরূপে পরিহার না করা।

# প্রতিদিন নিয়মিতভাবে প্রতিটি বিষয়কে পড়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা। কোন একটি একক বিষয় দীর্ঘ সময় না পড়া।

# যে প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে লিখে যাচাই করা।

# পরীক্ষা সম্পর্কিত দুশ্চিন্তা প্রতিনিয়ত আসতে থাকলে, তা পরিহারে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করা, পূর্ববর্তী সাফল্যকে কল্পনা ও চিন্তা করা, রিলাক্স করা এবং ধর্মীয় প্রার্থনা করা।

# পরীক্ষা ভীতি, দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা বেশি মাত্রায় দেখা দিলে তা বাবা-মা, বন্ধু, শিক্ষক, পরিবারের কোন সচেতন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করা। এমন কি মনোসামাজিক সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

# পরীক্ষা কেন্দ্রে যথাসময়ে উপস্থিত হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-কলম ইত্যাদি উপকরণ সঙ্গে নেবে।

# পরীক্ষার হলে ধীরস্থির শান্ত থাকবে। আদ্যপান্ত প্রশ্নপত্র পাঠ করবে।

# সঠিক, নির্ভুল, প্রশ্নের উত্তর করবে।

# উত্তরপত্রের হস্তাক্ষর ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন থাকবে।

পিতা-মাতাদের প্রতি পরামর্শ

# পরীক্ষার পূর্ববর্তী বা পরীক্ষার সময়ে সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে বেশি মানসিক চাপ প্রদান না করা। সন্তানদের পড়াশোনা ও দায়িত্ববোধের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা।

# সন্তানদের সামর্থের চেয়ে অতি উচ্চ প্রত্যাশা না করাই শ্রেয়। সন্তানদের পড়াশোনার বর্তমান অবস্থাকে শর্তহীনভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে নেয়া।

# পরীক্ষায় পূর্ববর্তী বা পরীক্ষার সময়ে সন্তানদের কোন ধরনের শাসন, তিরস্কার, শাস্তি, না দিয়ে বুঝিয়ে বলা বা সমর্থন প্রদান করা।

# কোন পরীক্ষার আশানুরূপ উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে সন্তানকে কোন ধরনের মানসিক চাপ ও আবেগীয়ভাবে চাপ না দিয়ে সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদান করা জরুরী।

# নিজের সন্তানকে অন্য কোন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা করা থেকে বিরত থাকা। এই ধরনের তুলনা আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নষ্ট করে দিতে পারে, যা তা পরীক্ষার ফলফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

# সন্তানের প্রতিদিনের নিয়মিত আনন্দ, বিনোদন ও খেলাধুলাকে চালিয়ে যেতে সুযোগ প্রদান করা। পরীক্ষার জন্য কোন আনন্দ, বিনোদন বা খেলাধুলাকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না করা।

# স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়া, বিশেষ করে নিয়মিত খাদ্যগ্রহণ ও ঘুমকে বজায় রাখতে উৎসাহিত করা। পরীক্ষার পূর্ববর্তী বা পরীক্ষার সময়ে সন্তান যেন নিয়মিত খাদ্যগ্রহণ করে এবং সঠিক সময়ে ঘুমায়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা। শারীরিক অসুবিধায় চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।

# যদি কোন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার পূর্ববর্তী বা পরীক্ষার সময়ে চরম মাত্রার আচরণগত ও মানসিক বিচ্যুতি যেমন : অতিরিক্ত রাগ প্রকাশ করা, নিদ্রাহীনতা, ক্ষুধামন্দা, খিটখিটে মেজাজ প্রদর্শন করা ইত্যাদি দেখা দেয়, তখন সন্তানের মানসিক সহায়তার জন্য শিক্ষা মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উত্তম।

ক্স সন্তানের পরীক্ষার সঙ্গে বাবা-মার নিজেদের উদ্বিগ্নতাকেও প্রশমন করা জরুরী। বেশি মাত্রায় বাবা-মার উদ্বিগ্নতা দেখা দিলে, তা নিরসনে মনোসামাজিক সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা উত্তম।

লেখক : শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, ঢাকা কলেজ

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫

২৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: