মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রধান কারণই হচ্ছে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫
  • সেমিনারে অভিমত নদী দখল-দূষণের

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ পানি ও পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতিই দেশের নদী দখল ও দূষণের প্রধান কারণ। এদেশের অনেক নদীই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পেশীশক্তিধারী ভূমিদস্যুদের দখলে। যদি পানি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন, প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানসহ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হবে। এজন্য পানি খাত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রণালয়গুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রবিবার সকালে বিশ্ব পানি দিবস-২০১৫ উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মূলভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এ সব কথা বলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্কের (বাউইন) আয়োজনে এ কর্মসূচীর মূল উপপাদ্য ছিল ‘টেকসই উন্নয়নে চাই পানি খাতে শুদ্ধাচার’।

মানববন্ধনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন, টিআইবির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাকির হোসাইন খান, বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, বাউইনের সমন্বয়ক সজীব কুমার শাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশ একটি নদী প্রধান দেশ। এ দেশের নদীখাতের দুবরাবস্থা নজিরবিহীন। নদীর নাব্যতা রক্ষাই বর্তমানে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে বর্জ্য নিষ্কাশন নীতিমালা মানা হয় না বলেই এ দূষণ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০০ সালের পরিবেশ আইনের ৩৬ নম্বর ধারা অনুসারে প্রাকৃতিক জলাধার বা মিষ্টি পানির প্রধান উৎস সংরক্ষণে আইনী বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভূমিদস্যুরা নির্বিচারে এ দেশের নদী ও জলাশয়গুলো দখল করেছে। ফলে ২৩০ নদীর মধ্যে এখন ১৭৫ নদীই মৃতপ্রায়। এছাড়া প্রতিবছরই দু’একটি করে নদী মরে বা শুকিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পানি খাত অনেক জটিল এবং এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কমপক্ষে ১৩ মন্ত্রণালয় যুক্ত। পানি ব্যবস্থাপনায় যদি সুশাসন ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা না যায় তাহলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন, প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানসহ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হবে। এজন্য পানি খাত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রণালয়গুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পানি খাতে শুদ্ধাচারের দাবিতে টিআইবি ও বাউইনের পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩-এর আশু বাস্তবায়ন করা, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা, নদীতে বেআইনী দূষণ রোধ ও অবৈধ দখলমুক্ত করা, শিল্পবর্জ্য নির্গমনের বিধিমালা তৈরি করা, পানি সম্পদের অপব্যবহার রোধে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে শুদ্ধাচার ও নৈতিকতা শিক্ষা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫

২৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: