আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সারের কোন সঙ্কট নেই, এবারও বোরোর বাম্পার ফলনের আশা

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বোরো মৌসুমের জন্য ছয় মাস টানা সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। এ সময় ইউরিয়ার চাহিদা থাকে প্রায় ১৭ লাখ টন। এছাড়া সাড়ে তিন লাখ টন টিএসপি এবং ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদা থাকে প্রায় তিন লাখ টন করে। তাই চাহিদা বিবেচনায় বর্তমানে দাম না কমলেও সারের কোন ঘাটতি নেই বলে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যুতসহ জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকায় কৃষি উপকরণে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার পরে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। অন্যদিকে অনাবৃষ্টি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে চলে যাওয়ায় বরাবরের মতো শঙ্কা থাকলেও এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনের ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদের হুইপ মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, এফবিসিসিআইএ’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান কামরুল আশরাফ খাঁন পোটন এমপি। শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক বান্ধব সরকার। কৃষি উন্নয়নে বর্তমান সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে, তার ফলে চাল আমদানির পরিবর্তে রফতানি করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। এটা শেখ হাসিনা সরকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান সরকার সারের ভর্তুকির মধ্য দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সারের জন্য সরকার যে পরিমাণের ভর্তুকি দিয়েছে তা অন্য কোন সরকার দেয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কোন ধরনের সারে সঙ্কট হয়নি। এর মধ্য দিয়ে আমরা বিপ্লব ঘটিয়েছি। আবাদী জমি কম হওয়া সত্ত্বেও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি। কামরুল আশরাফ খাঁন পোটন বলেন, সরকার কৃষকের সারের চাহিদা অনুসারে সরবরাহ করতে সচেষ্ট ও দায়বদ্ধ। রবি মৌসুমের কারণে বছরের প্রথম তিন মাসেই সারের চাহিদা থাকে বেশি। হরতাল বা অবরোধের মতো পরিস্থিতি থাকলেও সার সরবরাহ ও বাফার গুদামে মজুদের কোন ঘাটতি নেই। তাছাড়া সামনের চাহিদা মেটাতে এরই মধ্যে বাফার গুদামে সার সরবরাহ ও মজুদ বাড়ানো হচ্ছে।

বাফার বার্ষিক প্রতিবেদনের বলা হয়, বোরো মৌসুমের জন্য ছয় মাস টানা সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। এ সময় ইউরিয়ার চাহিদা থাকে প্রায় ১৭ লাখ টন। এছাড়া সাড়ে তিন লাখ টন টিএসপি এবং ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদা থাকে প্রায় তিন লাখ টন করে। তাই চাহিদা বিবেচনায় গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টন বেশি। বাফার গুদামে ইউরিয়া মজুদ করা হয়েছে ৭ লাখ ৭ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ লাখ ৪৩ হাজার টন। বাফার গুদামে সার মজুদ ও সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হলেও পরবর্তী মাসে স্বল্প পরিসরে সরবরাহ করা গেলে কৃষকের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এতে আরও বলা হয়, শুধু চায়না থেকে আমদানিকৃত সারের বস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। বস্তাগুলো ছেঁড়া, ফাটা ও হলুদ বর্ণের এবং কখনও কখনও ওজনে কম থাকে। কর্তৃপক্ষের চাপে ডিলাররা সার উত্তোলন করছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে এ সার বিক্রি হয় না। এতে ডিলারদের পুঁজি ব্লক হয়ে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ডিলাররা তাদের বক্তব্যে বলেন, ডিলার পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সার ব্যবহারের ভরা মৌসুম বাদে অন্য সময় সারের বিক্রি খুবই কম হওয়ায় ডিলারের ঘরে ইউরিয়া সারের মজুদ বেড়ে যায়। কিন্তু চুক্তির শর্ত মোতাবেক প্রতি মাসেই বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করতে হয়। ফলে ডিলারদের পুঁজি ব্লক হয়ে যায়। পাশাপাশি এসব গুদামজাত সার বর্ষা মৌসুমে ভিজে, বস্তা ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে যায়।

সভায় সারের সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থার জন্য বাফার পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে- ডিলারশিপ ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার স্বার্থে ইউনিয়নের অংশ বিশেষের নামে নতুন ডিলার নিয়োগ বন্ধ করা। বিএডিসির মাধ্যমে আমদানিকৃত সার শুধু বিসিআইসি সার ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা। চলতি বছরের মতো আগামী অর্থবছরেও সার ব্যবহারের ভরা মৌসুমে ২ কিস্তিতে টাকা জমা প্রদান ও সার উত্তোলনের নির্দেশনা বহাল রাখা। চায়না থেকে বিগত বছরের ন্যায় ছেঁড়া ফাটা বস্তা ও কম ওজনের ইউরিয়া সার আমদানি না করা। মোট বিক্রয়ের উপর ৫ থেকে ১০ শতাংশের পরিবর্তে যৌক্তিকতার ভিত্তিতে ডিলারদের আয়কর নির্ধারণ করা। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মোটাদানা ইউরিয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগে চিকনদানার ইউরিয়া অর্থাৎ যে জেলায় মোটাদানা ইউরিয়া প্রয়োজন সে জেলায় মোটাদানার ইউরিয়া এবং যে জেলায় চিকনদানার ইউরিয়া প্রয়োজন সে জেলায় চিকনদানার ইউরিয়া প্রদানের ব্যবস্থা নেয়। ডিএপি সারের ভর্তুকির প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া। অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজার বিএফএ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫

২২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: