মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তাঁতের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পানি-কৃষি

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫
  • মরে যাচ্ছে মাছসহ জলজ প্রাণী

সিরাজগঞ্জের তাঁতজাত পণ্যের রং ও সুতা ধোলাই কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পানি ও মাটি। এজন্য পেটেরপীড়া, চর্মরোগসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। সেইসঙ্গে কৃষি জমিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। মাছসহ জলজ প্রাণীও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এলাকার সবুজ গাছ মরে পাতা হলুদ আকার ধারণ করেছে।

সিরাজগঞ্জের কুটিরশিল্প সমৃদ্ধ বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় শোধনাগার ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে সুতা প্রক্রিয়াজাত ও রং কারখানা গড়ে উঠেছে। বেলকুচি পৌর সদরে রফিকুল প্রসেস মিল, চৌধুরী প্রসেস মিল, সততা প্রসেস মিল, একতা প্রসেস মিল, সোহাগ প্রসেস মিল, আমিন প্রসেস মিল, তামাই, শাহজাদপুর, চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন প্রসেস মিলে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে সুতা মার্চরাইজ ও ফিরোজাসহ রং করা হয়। এসব কাজে এসিড, কস্টিক সোডা, ব্লিচিংপাউডারসহ রাসায়নিক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এসব মিলের কোন শোধনাগার না থাকায় কেমিক্যালের বর্জ্য সরাসরি যমুনা নদী, ব্রহ্মপুত্র বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে এক সময়ের স্বচ্ছ পানি বিবর্ণ ও তীব্র দুর্গন্ধে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। এ কারণে মাছসহ জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। যারা নিরূপায় হয়ে প্রয়োজনের তাগিদে ওই পানি ব্যবহার করছে, তাদের শরীরে দেখা দিয়েছে চর্মরোগসহ জটিল ব্যাধি। খালের আশপাশের সবুজ গাছ মরে পাতা হলুদ আকার ধারণ করেছে। এমনকি টিউবওয়েলের পানি দুর্গন্ধ হওয়ায় পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রসেস কারখানার বর্জ্যরে কারণে টিউবওয়েলের পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশে যাওয়ায় এ পানি পান করার পর অনেকের শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। এসব প্রসেস মিল থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যরে প্রভাবে ওইসব এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, রাসায়নিক ব্যবহার জনিত ধোঁয়ায় কারখানাগুলোর পার্শ্ববর্তী বাড়ি-ঘরের চালের টিন এমনকি কাঁসা-পিতলের বাসনপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মুকুন্দগাঁতী ওয়াপদা বাঁধ এলাকার বাবুল প্রামাণিক জানান, তাঁর বাড়ির সঙ্গে সুতা প্রসেস কারখানা থাকায় প্রতিনিয়তই তাঁকে বিষাক্ত পরিবেশের সঙ্গে বসবাস করতে হয়। বিষাক্ত বাতাসে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে বেলকুচি পৌর এলাকার চালা মহল্লার ভুক্তভোগী অধিবাসীরা এ অচলাবস্থা নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে।

-বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫

২১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: