আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আমতলীতে লবণ সহিষ্ণু ধান চাষে ঝুঁকছে কৃষক

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫
  • এক ফসলি জমি হচ্ছে ত্রিফসলি

বরগুনার উপকূলীয় আমতলী ও তালতলীতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষে কৃষকরা ঝুঁকছে। বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষকরা। কৃষকরা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যই অদম্য চেষ্টা করছে। উপকূলীয় এ অঞ্চলের কৃষি জমি ছিল এক ফসলি। সময়ের বিবর্তন ও প্রযুক্তির বিকাশে এক ফসলি জমিকে ত্রি-ফসলি জমিতে রূপান্তরে কাজ করে যাচ্ছে। ওই জমি পর্যায়ক্রমে কৃষকরা আমন, আউশ এবং বোরো ধানের ফসল ফলাতে অবিরাম সংগ্রাম করছে।

বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কোলঘেঁষা আন্দারমানিক ও দোন নদীর সংযোগস্থল শারিকখালীর খাল। ৭০ দশকে সাগরের লোনাপানির হাত থেকে কৃষি জমি রক্ষায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। ৯০ দশকে আমতলী উপজেলা পরিষদ থেকে মাছ চাষের জন্য চাকামইয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান ইজারা নেয়। পরে দোন নদীসহ ক্লোজার দখল করে মাছ চাষ করে। ইজারাদার দোন নদীতে সাগরের লোনাপানি উঠানামায় স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা পালন করে। ফলে সাগরের লোনাপানি ওঠাতে কৃষি জমি ধ্বংস হতে শুরু“করে। ২০০৬ সালে স্থানীয় মানুষ একজোট হয়ে ইজারাদারের ক্লোজারের মুখে দেয়া বাঁধ কেটে দেয়। ফলে সাগর ও নদীর লোনাপানিতে কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে যায়। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ক্লোজার ল-ভ- হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলার পশ্চিম চাকামইয়া, কড়াইবাড়িয়া, তারিকাটা, কচুপাত্রা, শারিকখালী, বাদুরগাছা, বলইবুনিয়া, চাউলাপাড়া, বেহেলা, উত্তর চাকামইয়া, আলীর বন্দর, উত্তর ঝাড়াখালী, দক্ষিণ ঝাড়াখালী, কলারং, আঙ্গারপাড়া, হেলেঞ্চাবাড়িয়া, হাড়িপাড়া, নলবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, তারিকাটা, ও দক্ষিণ চাউলাপাড়াসহ ৩০ গ্রাম লোনাপানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। ওই এলাকার ১৫ হাজার একর জমি লোনাপানিতে তলিয়ে কৃষি কাজ বন্ধ থাকে। কৃষকরা চাষাবাদ করলেও লবণাক্ততার কারণে জমিতে কোন ফসল হয়নি। লবণাক্ত পানিতে সকল রোপা বীজ নষ্ট হয়ে পচে যেত। ২০১১ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ৩ কোটি ৪১২ হাজার টাকা ব্যয়ে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। ৫ বছর ৩০ গ্রামের ১০ হাজার কৃষক কৃষি কাজ করতে না পেরে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের ফলে এলাকার কৃষক পুনরায় কৃষি কাজ শুরু করে। চার বছর পরে কৃষকরা এ বছর আমনের বাম্পার ফলন পেয়েছে। আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে আমতলী ও তালতলীর ওই লবণাক্ত জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষ করতে কৃষকরা দিন রাত হারভাঙ্গা পরিশ্রম করছে। তাদের চেষ্টা গত চার বছরের ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে আবার তারা স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে। ইতোমধ্যে এই দু’উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা লবণ সহিষ্ণুজাতের ধানের বীজতলা তৈরি করে বীজ বপন করছে। অনেক কৃষক রোপাক্ষেত তৈরি করে চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত রয়েছে। এক সময় এ অঞ্চলের কৃষকের আমন ধান ছিল একমাত্র ভরসা। সময়ের বিবর্তন ও প্রযুক্তির বিকাশের কারণে কৃষকরা এক ফসলি জমিকে ত্রি-ফসলি জমিতে রূপান্তরে কাজ করে যাচ্ছে।

জানা গেছে, এ দু’উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০৬ হেক্টর। লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষের জন্য আমতলী কৃষি বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ, সার, বীজ ও কীটনাশক দিয়ে সহায়তা করছে। আগে কখনও এ জমিতে তেমন বোরো চাষ হতো না। লবণাক্ত মাটিতে খাল থেকে পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে ক্ষেত তৈরি করে ধানের চারা রোপণ করছে। আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম তারিকাটা গ্রামের নিজাম ও সুধীর চন্দ্র দাস জানান, শারিকখালীর দোন নদী খোলা থাকার কারণে জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করার গত চার বছরে কোন ফসল হয়নি। বাঁধ দেয়ার ফলে জমিতে এ বছর আমনের ভাল ফসল পেয়েছি। গত চার বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ বছর আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে লবণসহিষ্ণু জাতের বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছি।

Ñমোঃ হোসাইন আলী কাজী আমতলী থেকে

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫

২১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: