মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বাধীনতা এবং সংবিধান

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫

৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর জাতি যেন একসূত্রে গেঁথে উঠেছিল। ৯ মাসের রক্তস্নাত যুদ্ধের পর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। স্বাধীনতার এ যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায় এবং ২ লাখ নারী সম্ভ্রম হারায়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্বাধীন দেশে মানুষ যেন তার অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে, তাই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তৈরি করা হয় সংবিধান। এর প্রস্তাবনায় ছিল আমরা বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা করে জাতির মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছি। সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল চার মূলনীতি-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনীরপেক্ষতা। রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি, এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাম্য বজায় থাকবে। এতেই স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। সেই সংবিধানে দালাল আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়টিও উল্লেখ ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান থেকে দালাল আইন বাতিল করে। যুদ্ধাপরাধীদেরকে লালন-পালন করা হয় ক্ষমতায় বসিয়ে। ছেঁটে ফেলা হয় ধর্মনিরপেক্ষতা নামের মূলনীতি। আর এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়। তার চরম পরিণতি আমরা দেখেছি। দেশে মৌলবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে জোর প্রচেষ্টা চলছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি হতে বাদ দিতে হবে। ’৭১-এর মূল সংবিধানে ফিরতে হবে।

নাজনীন বেগম

মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

সহিংসতার আভাস

২০-দলীয় জোটের প্রধান খালেদা জিয়া আকস্মিক এক সংবাদ সম্মেলনে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এর আগে তিনি প্রায় ৬৭ দিন লাগাতার অবরোধ করেছেন। সবার ধারণা ছিল নানা মহল থেকে অনুরোধ ও চাপের কারণে তিনি হয়ত অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আবার তিনি কঠোর ভাষায় হরতাল-অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে জাতি আবারো হতাশ হয়েছে। আর বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল মানেই হলো পেট্রোলবোমা ছুড়ে মানুষ হত্যা। রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে এভাবে সহিংস হয়ে ওঠাটাকে কোন সভ্য রাজনৈতিক দর্শন না বলে বলা যায় দেশ ধ্বংসের কর্মসূচী। অথচ এই হরতাল অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে এসএসসি পরীক্ষার সিডিউলে চরমভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা হরতালমুক্ত করার জন্য রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেছে। একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে জনগণ অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচী আর চায় না। জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা এখন এ ধরনের কর্মসূচী পুরোপুরি উপেক্ষা করতে শুরু করেছে। অথচ খালেদা জিয়া সেটা উপলব্ধি করতে পারছেন না। বরং তিনি সহিংসতার দায় সরকারের উপর চাপাতে চাইছেন। তিনি হয়ত উপলব্ধি করতে পারছেন না যে দেশের অর্থনীতির চরম ক্ষতি, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করা ছাড়া এই টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী কোন সাফল্য আনতে পারেনি। এসএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষামন্ত্রী হাত জোড় করে পরীক্ষার দিনগুলোকে অন্তত হরতাল-অবরোধের বাইরে রাখার মিনতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার আবেদনে কোন কাজ হয়নি। বরং বিএনপির নেতা-নেত্রীরা টকশোতে হর-হামেশা বলছেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৫ লাখ ছেলেমেয়ের পরীক্ষায় এক-আধটু অসুবিধা নাকি বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কম্প্রোমাইজড হতেই পারে। এই নেতাদের কাছে ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন সামান্য ক্ষতি। অথচ আরাফাত রহমান কোকোর মেয়ে কিন্তু বাবার জানাজা শেষ করেই মালয়েশিয়া ফিরে গেছে তার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা শেষ করার জন্য। দেশের ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর কথা উপলব্ধি করতে তারা পারে না বরং কোকোর কন্যা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, হরতালে সব ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও বিএনপি জামায়াত নেতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকেনি। খালেদা জিয়াকে একথা মনে রাখতে হবে যে, দমন-পীড়ন করে এদেশের মানুষকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি। পেট্রোলবোমায় পুড়িয়ে মানুষ হত্যার বিচার একদিন হবেই। মানুষ জেগে উঠবেই। তিনি যদি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিতেন যে, আর হরতাল অবরোধ নয়, দেশেকে গড়তে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা তিনি লাভ করতে পারতেন।

সুফিয়ান কবির

আসাদ এ্যাভিনিউ, ঢাকা।

এ খেলা চলবে কত দিন?

বিগত ৬ জানুয়ারি থেকে অব্যাহতভাবে চলছে ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ। আর এর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই যোগ হচ্ছে অর্থনীতি ধ্বংসকারী হরতাল। চলছে জ্বালাও-পোড়াও। দেশের অর্থনীতি একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। দিনকে দিন ঋণের বোঝা শুধুই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কথা কেউ ভাবছে না। দেশের কথা জনগণের কথা আসলে কেউ ভাবেন না। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা শুধু নিজেদের কথা, ক্ষমতায় যাওয়ার কথা, ক্ষমতায় টিকে থাকার কথা ভাবেন।

একজন নেতা আরেকজন নেতাকে টকশোতে বলেন, তোর চোখ তুলে ফেলব। ছাত্র সংগঠনের এক নেতা তার প্রতিপক্ষ দলের নেতাদের কুকুরের মতো পিটানোর মনোবাসনা ব্যক্ত করেন, আধুনিক মিডিয়ার যুগে এসবই দেশবাসী ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার বদৌলতে এসব জানতে পেরেছে। এদের কাছ থেকে কি শিখছে ভবিষ্যত প্রজন্ম। মেধাবীরা আজ দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছেন এই কারণেই। তাঁরা বর্তমান সহিংস বাদী রাজনীতিবিদদের ঘৃণা করেন। তাই অন্যকে সম্মান করতে শিখুন, নিজেও সম্মান পাবেন। হানাহানি, ক্ষমতার লোভ ভুলে দেশের কথা ভাবুন, সাধারণ জনগণের কথা ভাবুন, প্লিজ!

আবুল খায়ের ভূঁইয়া

রামপুরা, ঢাকা।

জাগরণহীন তরুণ

আজকের তরুণ সমাজ ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে খুবই পরিচিত। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের কথা তারা ভুলে যাচ্ছে। সারাদেশ যখন জঙ্গীবাদ আর মৌলবাদের আগুনে জ্বলছে তখন ছাত্রসমাজ বা তরুণ সমাজের জাগরণ দেখতে পাই না। আজকের তরুণ সমাজ ইন্টারনেট, ফেসবুক, কম্পিউটার নিয়ে খুবই ব্যস্ত কিন্তু তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের অনেক অভাব দেখা যায়। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেমের যে অভাব দেখা যায় তার মূল কারণ হল শ্রেণীকক্ষে বেশির ভাগ শিক্ষক পড়াতে আগ্রহী নন। অনেক স্কুলেই বলে দেয়া হয়েছেÑ যারা শিক্ষকদের কোচিংয়ে ভর্তি হবে তাদের নিয়মিত ক্লাসে আসতে হবে না। শ্রেণীকক্ষই হলো ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার প্রধান জায়গা। বেশির ভাগ শিক্ষক কোচিং নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকেন যে তাদের পক্ষে ক্লাসে কিছুই পড়ানো সম্ভব হয় না। শিক্ষকদের শ্রেণীকক্ষে ফিরিয়ে আনতে না পারলে তরুণ প্রজন্ম পরীক্ষায় হয়ত পাস করবে, উচ্চ শিক্ষায়ও শিক্ষিত হবে কিন্তু সঠিকভাবে জ্ঞান অর্জন করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না। ছাত্রছাত্রীরা যদি শ্রেণীকক্ষে জ্ঞান অর্জন করতে না পারে তাহলে বড় হয়ে তারা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়বে। দেশ ও জাতির জন্য কোন অবদান রাখতে পারবে না এর অনেকটা আলামত এখনই দেখা যাচ্ছে। তাই সবার আগে শিক্ষাকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে দেশ ভীষণভাবে নেতৃত্বের সঙ্কটে পড়বে।

বিপ্লব

ফরিদপুর।

বিশ্বকবির সোনার বাংলা

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের সোনার বাংলাদেশ। জীবনান্দের রূপসী বাংলা এখন বোমায় বোমায় নিঃশেষ। সারা বাংলাদেশ আজ বোমা আতঙ্কে অবরুদ্ধ। পেট্রোলবোমা, অগ্নি বোমাসহ নানা রকমের বোমায় আক্রান্ত দেশবাসী। দেশবাসী আজ অবরুদ্ধ হতাশ। বিএনপি-জামায়াত নামক রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা সাধারণ মানুষ একেবারেই জিম্মি। কি অপরাধ করেছে ফেনী সরকারী পাইলট স্কুলের ছাত্র অনিক, সে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী? যার জীবন আজ পেট্রোলবোমায় নিঃশেষ করতে বসেছে একটি পরিবারের আশা-আকাক্সক্ষাকে। অনিক এবারের পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পাওয়াটা ছিল নিশ্চিত। আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে অনিক বার্ন ইউনিটে। আমাদের জানা নাই অনিক সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা? রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের ঘৃণা জন্মে এই কারণে, সাধারণ মানুষকে হত্যা করে কি ভাবেন নেতারা? তাঁদের অর্জন কি হবে? আর সরকার সাংবিধানিক দায়িত জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু জনতার নিরাপত্তা বিধানে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। আমাদের লজ্জা হয়, এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে গণমানুষের আহাজারি দেখে কি রকম হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে পুলকিত বা ব্যথিত হন কিনা জানতে ইচ্ছে করে।

রণজিত মজুমদার

সোনাগাজী, ফেনী।

মানুষ কর নি...

আইয়ুব, ইয়াহিয়া খানের আমলে ছাত্র-জনতা রাজপথে দাবি দাওয়া নিয়ে নামলে গুলি চালাত পুলিশ। কিন্তু আজ যারা হরতাল-অবরোধ ডাকেন তাদের রাজপথে দেখা মেলে না। বরং এদেরই গুপ্তচর-সন্ত্রাসীরা পেট্রোলবোমা মেরে পুড়িয়ে মারছে মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে হানাহানি হত্যাযজ্ঞ বাংলার মানুষের জীবন যেন ছারখার করে দিয়ে গেল। কত শত-সহস্র বাঙালী হলো বলিদান সন্ত্রাসী-নাশকতাকারীদের হাতে। জীবদ্দশায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, কবিগুরু দেখে যান, আপনি না বলেছিলেনÑ রেখেছ বাঙালী করেÑ মানুষ কর নি... দেখুন, আমার বাঙালী মানুষ হয়েছে আজ। এর ৩ বছরের মাথায় কতিপয় বিশ্বাসঘাতক বাঙালী নির্মমভাবে হত্যা করল সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’কে । বিশ্বাসঘাতক বাঙালীরা মহান নেতাকে বলে না- ‘বঙ্গবন্ধু’। জাতির জনক হিসেবে তাঁকে সম্মান দিতে তারা কুন্ঠা বোধ করে। বলে না-‘জয় বাংলা’। বাঙালী যে কী তা অনেক আগেই হারে হারে টের পেয়েছিলেন বাংলার কবি শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তাই ১৩০২ বঙ্গাব্দের ২৬ চৈত্র লিখলেন-“পুণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি তব গৃহক্রোড়ে চির শিশু ক‘রে আর রাখিয়ো না ধরে ......হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা।

সূত্রাপুর বাজারের অবস্থা

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সূত্রাপুর বাজারটির বর্তমান অবস্থা করুণ ও শোচনীয়। বাজারের ভবন বা বিল্ডিংটি দুর্বল ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করার কারণে দীর্ঘদিন হতে তা এখন পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বাজারের ভবনটি যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও ভবনের ওপরে বছরের পর বছর ধরে সতর্কীকরণের একটি সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। কার্যত এটা কেউই তোয়াক্কা করছে না। বিল্ডিংটি যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। আর দুর্ঘটনা ঘটলে বহু লোকের হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে সূত্রাপুর বাজারটির সংস্কার করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এগিয়ে আসা উচিত।

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী

ফরিদাবাদ-গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

অসম্মান কেন?

আমরা বাঙালী। বাংলা ভাষা আমার মায়ের ভাষা। একুশে ফেব্রুয়ারি যে মাতৃভাষা দিবস আমরা গর্ব করে পালন করি তা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বহু মায়ের সন্তানকে প্রাণ দিতে হয়েছিল ১৯৫২ সালে। আমরা জানি এই ভাষা দিবসে সরকারী-বেসরকারী স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শহীদদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয। অথচ সেদিন কি দেখলামÑ চট্রগ্রাম শহরের আছদগঞ্জ ও খাতুনগঞ্জের হার্ডওয়ার মার্কেটের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের দোকান খুলে বসে আছেন এমন কি জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করেননি।

এই দৃশ্য দেখে মনে প্রশ্ন জাগে আমরা বাঙালী, নাকি বাঙালী জাতির কলঙ্ক। ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কতিপয় বাঙালী পাকিস্তানীদের দোসর ছিলেন। তারা স্বাধীনতাকে কোন দিন মেনে নিতে পারেনি আজও তারা মনে মনে পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখে। তারা তাদের স্বপ্নকে ঘৃণ্য মানসিকতার মধ্যে দিয়ে প্রতিফলন ঘটাতে চায়। তাই স্বাধীনতাকামী বাঙালীদের এদের চিহ্নিত করা, না হলে সুযোগ পেলে ওরা হায়েনার মতো নীরহ বাঙালী ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। দেশের প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে জেলা, উপজেলায় সবখানে ওরা মাকড়শার জালের মতো কূটকৌশল গড়ে তুলেছে। ‘সাবধান’ বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। এদের আর সুযোগ দেয়া যায় না।

মুহম্মদ শাহজান

আছদগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫

২১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: