কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ও এবং এ লেভেল পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ ॥ রাজপথে অভিভাবকরা

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫
ও এবং এ লেভেল পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ ॥ রাজপথে অভিভাবকরা
  • পরীক্ষার সময় হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচী না দেয়ার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এসএসসি ও সমমানের লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর পর এবার বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে। আগামী ৫ মে থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লাগাতার হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে ক্যামব্রিজ ও অ্যাডেক্সেল সিলেবাসের আওতাধীন দেশের হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। ইতোমধ্যেই হরতালে দুটি পরীক্ষা দিতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েছে ছয় মাস থেকে এক বছর। এ অবস্থায় হরতাল-অবরোধ বন্ধ করে নিরাপদে আসন্ন পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অভিভাবকরা হরতাল-অবরোধের কারণে আসন্ন পরীক্ষা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান। মানববন্ধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকেও একই আহ্বান জানিয়ে অভিভাবকরা পরীক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী পরিহার করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেনÑ আতিয়া আহমেদ, সুলতানা কানিজ ফাতেমা, সুনীল সাহা, আব্দুল আউয়াল মিয়া প্রমুখ। অভিভাবকরা বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামের এ পরীক্ষা সারা পৃথিবীতে একই সময়ে হয়ে থাকে। তাই হরতাল-অবরোধ লাগাতার চলতে থাকলে আমাদের সন্তানদের আসন্ন পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হবে না। তাদের জীবন ক্ষতির মুখে পড়বে। আব্দুল আউয়াল মিয়া বলেন, আগামী মে-জুন মাসে চলতি বছরের এ লেভেল এবং ও লেভেলের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে একই সময়ে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। এজন্যই হরতালের কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ছয় মাস থেকে এক বছর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আতিয়া আহমেদ বলেন, এর আগে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল থাকায় পরীক্ষা মধ্যরাতেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এখন যেভাবে লাগাতার হরতাল চলছে তাতে মধ্যরাতেও পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে না। ফলে অন্য দেশের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে না পারলে পরের বছরের জন্য শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার এবার হরতাল অবরোধেও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ছুটির দিনে পিছিয়ে নিতে পেরেছে। কিন্তু ইংলিশ মিডিয়াম পরীক্ষায় সেই সুযোগ নেই। তাই আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এমন কর্মসূচী না দেন যেটা আমাদের সন্তানদের ক্ষতির মুখে ফেলে দেবে। আমরা পরীক্ষার জন্য অনুকূল পরিবেশ চাই। অভিভাবকরা জানান, চলতি বছর হরতাল-অবরোধের কারণে জানুয়ারিতে ইংলিশ মিডিয়ামের দুটি পরীক্ষা দিতে পারেনি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। ওই পরীক্ষার জন্য একেকজনকে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেবল তাই নয়, শিক্ষার্থীদের ওই পরীক্ষার জন্য আবার ফি দিয়ে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে। মানববন্ধনে এ লেভেল এবং ও লেভেল পরীক্ষার্থীদের শতাধিক অভিভাবক অংশ নেন।

জানা গেছে, চলমান হরতাল-অবরোধে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষার্থী-অভিভাবক। আগামী ৫ মে থেকে শুরু হচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালিত এ পরীক্ষা। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে একযোগে শুরু হবে এ পরীক্ষা। লাগাতার হরতাল অবরোধের নামে চালানো নাশকতা বন্ধ না হলে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষার্থীদের ভাগ্যে কী আছে তা কেউ বলতে পারছেন না।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা চলমান অবরোধ শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি থেকে। সেটি এখনও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ১৫ জানুয়ারি থেকে দফায় দফায় চলছে হরতাল। এ অবস্থায় ৫ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেলের পরীক্ষার সময় হরতাল কর্মসূচী থাকবে কি-না তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বেগ পেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। মানসিক চাপ তো রয়েছেই। সাদিয়া আক্তার রিয়া নামে ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার্থী জানান, দেশের যে অবস্থা তাতে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। পরীক্ষা কি ঠিক সময়ে হবে নাকি পরিবর্তন হবে সেটিও বুঝতে পারছি না। আরেক পরীক্ষার্থী রিয়া বলে, মানসিক চাপে পড়ালেখা ভাল হচ্ছে না। প্রস্তুতি নিতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মতো অবস্থা যেন আমাদের না হয়।

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হরতাল-অবরোধের কারণে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর দফায় দফায় পরিবর্তন হয়েছে পরীক্ষাসূচী। ফলে ভোগান্তির সীমা ছিল না ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর। ব্রিটিশ কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ইংরেজী মাধ্যমের পরীক্ষাগুলো হয়ে থাকে দু’টি আন্তর্জাতিক বোর্ডের অধীনে। যে কোন পরীক্ষা বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে বোর্ডগুলোর নির্দেশনা রয়েছে।

সাধারণত ক্যামব্রিজের অধীনে সকালের পরীক্ষাগুলো বেলা ১১টা থেকে এবং বিকেলের পরীক্ষাগুলো বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়। এছাড়া এ্যাডেক্সেলে বোর্ডের অধীনে পরীক্ষাগুলো দুপুর ২টা এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে থাকে। হরতালের সময় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশে ‘ও’ লেভেল আর ‘এ’ লেভেলের আনুমানিক সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে প্রাইভেট পরীক্ষার্থীও রয়েছে। এ বছর ‘ও’ লেভেলের পরীক্ষা শুরু হবে ৫ মে থেকে। আর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ১২ জুন। আর ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা শুরু হবে ৫ মে থেকে। আর শেষ হবে ১৯ মে।

এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ॥ হরতালের কারণে স্থগিত হওয়া গত ৩ মার্চের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টায় সরাদেশের সব কেন্দ্রে একযোগে সকাল ৯টায় শুরু হয় জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ের পরীক্ষা। চলে বেলা ১২টা পর্যন্ত। এছাড়া গত ৪ মার্চ স্থগিত হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। গত ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের কারণে তা শুরু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি।

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫

২১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: