মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

পরানের গীতিপাখি

স্বদেশ রায়

ও বনে গিয়েছিলো রিপোর্ট করতে, সেখানে দুঃখ ছিলো অনেক

সে সব দুঃখ তার দৃষ্টিকে ছোঁয়নি, দেখেনি সে বীজের অঙ্কুরের কোন মৃত্যু

বরং বিস্মিত বালিকার মত ওই মেয়ের চোখে পড়ে সাগর ও বন কত কাছাকাছি

সাগরের চড়ায় বসে তাই দুহাতে মাখে কাদা, কী নরম সে পলিমাটি

ওই মাটি আর জঙ্গল কী ওকে বলেছিলো, ওর মনও তা জানে না

এখন মেয়ে বলে, সংসারের সব কিছু ছেড়ে ও জঙ্গলে যাবে, সন্ন্যাসী হবে।

হায় মেয়ে, সন্ন্যাসী হতে জঙ্গলে যাবি, কে তোর কানে কানে বলে এ কথা!

জঙ্গল কী কাউকে সন্ন্যাসী বানাতে পারে, সন্ন্যাসী হয় কেবল ভালোবেসে

তাই তো বৃন্দাবনে রাই সন্ন্যাসী হয়েছিলো, এখনও সবাই রাই রাই বলে,

সব ছেড়ে রাই কেবল ভালোবেসে ছিলো। ভালোবাসা না পাবার অভিমানে

বিবাগী হয়েছে অনেকে, ভালোবেসে রাই সন্ন্যাসী চূড়ামনি হয়েছে। জঙ্গল বুকে করে

কত বিবাগী প্রতিদিন কত মানুষ হত্যা করে তা কি জানে এ মাটির পৃথিবী?

জঙ্গল দেখে সোনালী মেয়ে সংসার ছেড়ে আবার ফিরে যেতে কেন চাস

জঙ্গলে? কেন যে এই সব অতি সোজা অথচ অনেক কঠিন ইচ্ছে

এসে মানুষের জীবনের চলমান সময়ে ভাগ বসায়, জীবনের স্রোত না

বদলাক, মনটাকে বদলে দেয়, বিকেলের সূর্যের নরম রশ্মির মতো

কিছু আলোর রশ্মি রেখে যায় অন্ধকারের গহ্বরে

পরের দিনের সকাল আবার নতুন সূর্য নিয়ে আসে।

সন্ন্যাসী হতে চাওয়া মেয়েটি ঠিকই ছোট্ট ছেলের মুখে

চুমু খেয়ে নতুন দিনের সূর্যের মতো ফিরে যাবে আবার নিত্যকাজে

তাঁর রিপোর্টের অক্ষরে অক্ষরে উঠে আসবে কোন মৃত্যু বা জীবনের গল্প

নিউজ ডেস্কে সে রিপোর্টে কত কাটাছেঁড়া। আর ওই সন্ন্যাসিনী তখন

নীরবে বুকের ভিতর বাজাবে রাই বাঁশি, ভালোবাসি ভালোবাসি।

সে কি জানে! কেউ কি জানে,! কী ভালোবাসি! কী ভালোবাসি!

কমেডি হল ট্র্যাজেডির পরগাছা

মলয় রায়চৌধুরী

কী নাম ছিল যেন সেই সম্পাদকের? ‘জনতা’ পত্রিকার? ১৯৬১ সালে?

লিখেছিলেন, ‘টিকবে না, টিকবে না’, প্রথম পাতায়!

উনি? হ্যাঁ, বোধহয় মোগাম্বো ওনার নাম।

তারপর ১৯৬২, ১৯৬৩, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৬

কে যেন সেই বেঁটেখাটো লোকটা লিখেছিল দৈনিকে

‘ওঃ, ও আর কতদিন, টিকবে না, টিকবে না’, সাহিত্য বিভাগে?

কী যেন কি ছিল নাম, আরে সেই যে, সপ্ল্যানেডে, বুকস্টলে...

মনে পড়ছে না? কোথায় গেলেন উনি? সেই যে!

গাবদাগতর এক রিটল ম্যাগাজিনে লিখলেন...

উনি? হ্যাঁ, বোধহয় ডক্টর ডাঙ ওনার নাম!

তারপরে ১৯৬৭, ১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১, ১৯৭২

মনে আসছে না? চোখে চশমা? হন-হন পাশ কাটিয়ে...

উনি? হ্যাঁ বোধহয় গব্বর সিং ওনার নাম।

কেন যে পারো না রাখতে মনে করে ওনাদের পিতৃদত্ত নাম;

পঞ্চাশ বছরেই ভুলে গেলে! গেলেন কোথায় ওঁরা?

আরে সেই যে সেই ঢোলা প্যান্ট চাককাটা বুশশার্ট?

লিখলেন অত করে ‘টিকবে না, টিকবে না।’

তারপরে ১৯৭৩, ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৭৯,

১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫,

১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯২,

১৯৯৩, ১৯৯৪, ১৯৯৫, ১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮, ১৯৯৯,

২০০০, ২০০১, ২০০২, ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭,

২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫

কী? মনে পড়ছে না এখনও? অদ্ভুত লোক তো তুমি!

অতগুলো লেখক সম্পাদক কবি পই-পই করে

লিখে গেল, ‘টিকবে না, টিকবে না, বেশিদিন টিকবে না

শিগগিরি ভুলে যাবে লোকে।’ অথচ তাদেরই নাম

মনে আনতে এত হিমশি? তবে তাই হোক।

মোগাম্বো, ডক্টর ডাঙ, গব্বর সিংহ নামে

বাঙালির ইতিহাসে ওনাদের তুলে রেখে দিই।

বঙ্গবন্ধুর চশমা

জাহিদ হায়দার

আমরা অনেক চশমা দেখেছি,

আরও জন্ম নেবে চোখের সমাজে।

বাংলার মাটিতে আকাশে,

চল্লিশ বছর ধ’রে

আমি তাঁর চশমাটা খুঁজছি।

স্বপ্ন হারানো মানুষের ভীড়ে,

সরল রেখার খোঁজে পথের পীড়নে,

সূর্যালোকের শপথে,

সাত-ই মার্চের মঞ্চে,

শাদা কাঁচের চশমায়

সত্যের বিদ্যুতে অনেক দেখেছি তাঁকে।

সিঁড়ির উত্থানে পড়ে ছিল

বাংলার রক্তাক্ত বুক;

মৃত, তবু ছিলেন উত্থানে।

চশমায় কী রক্ত লেগেছিল?

তা হলে দেখবে চোখ,

মানুষ হাঁটছে শুধু লাল কাপড় প’রে,

সবুজ সবুজ নয় আর;

মধুমতি বয়ে যাচ্ছে রক্তজল স্রোতে;

না, এমন অশুভ যাপনে

মৃত্যুপণ প্রতিবাদ ছিল তাঁর।

আমরা শাদা আর কালো কাঁচের রাজত্ব জানি।

মানুষের চোখের স্বপ্নউঠোনে

আমি তাঁর চশমাটা খুঁজছি।

১৭.০৮.২০১৪

ওরা সেদিন স্বাধীনতার মূল্যবোধকে

হত্যা করেছিলো

রবীন্দ্রনাথ অধিকারী

তোমাকে ওরা যেদিন হত্যা করেছিলো

হে পিতা, সেদিন ছিলো শ্রাবণের নির্ভার দিন

চাঁদ তখন ডুবেছিলো গঢ় অন্ধকারে

মেঘ তখন কেঁদেছিলো অঝোরে

আকাশের চোখ থেকে ঝরেছিলো শোকাশ্রুর অবিরাম ধারা

কাল-রাত ক্রমাগত ছাপিয়েছিলো রক্ত-নেশায়, রক্তখেকো

পশুরা মেতেছিলো নির্মম বর্বরতায়;

তোমাকে খুন করে ওরা পতাকাকে চেপে ধরেছিলো দুরন্ত মুঠোয়

বাতাসে তখন ভেসে ছিলো ক্ষয়-বিষ, উদার মাঠে

তখন ধুতরা গাছের মতো বিনস্টের চারা রুয়েছিলো ঘাতক সময়,

ফজরের নামাযের আজানের ধ্বনিতেও ছিলো তখন শোকাচ্ছন্ন সুর

লাল-সূর্যের দিগন্তে রেখায় ছিলো বারুদের ছোপ

বিনিদ্র রজনীর বুকে ছিলো কলঙ্কের কালো দাগ

পাখিরাও ছিলো কলরবহীন নিঃস্তব্ধ নির্বাক

শুধু নীরবে কেঁদেছিলো একাকী ইতিহাস একাকী রাত, নিঃসঙ্গ মধুমতি

স্বদেশের পলল জমিন, বৃক্ষরাজি-লতা মেঠো ঘাস, বনফুল

তোমার পাংশুল দেহ তখন রক্তে ভেজা মায়ের আঁচল

পাঞ্জাবি যেন বিবর্ণ পতাকার মতো ছিন্ন-ভিন্ন

ছেঁড়া তমসুকের মতো পড়েছিলো সিঁড়িতে

রাতের গভীরে তখন শোকাধ্বনি চারদিকে শোকের জারুল

রক্তের হাহাকার, চারিদিকে বুট্টের শব্দমালা সুনসান ভয়

তোমার মৃত্যু দিন সেদিন ছিলো শ্রাবণের রক্ত-ঝরা দিন

আজ স্মৃতি-ভরা আকাশ কাঁদে, বাতাস কাঁদে বেদনা-বিধুর শোকের ধারায়

কাঁদে শাপলা-শালুক, নদী ও পাখি, কাঁদে বরষার বিল

বিষণœ বাউল কাঁদে, কাঁদে ইতিহাস স্বপ্নমা মাঠের ফসল

তোমাকে খুন করে ওরা সেদিন স্বাীধনতার মূল্যবোধকে হত্যা করেছিলো।

উত্তাল জাগরণ

জাফর ওয়াজেদ

দেখি নাই কভু আমি এই রূপ তারুণ্যের উত্তাল জাগরণ

যেমতি বিবেকের টানে স্বদেশের সম্ভ্রমে গড়ে আন্দোলন

কালো অন্ধকার গ্রাসিছে তাহাদেরও একচল্লিশ বর্ষ ধরে

ঝড়ে-ঝঞ্ঝায় ঘাতকের রক্তচক্ষু থেকে আজও লালা ঝরে

তারই বিষে নীল হতে হতে জর্জরিত হায় বাঙলার প্রাণমন

হঠাৎ ফুঁড়ে ওঠে চিৎকারে-তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠের সঞ্চালন

শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরজুড়ে জাগে বাংলাদেশ আবার

রক্ত বারুদে যুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষয়িত প্রিয়তম দেশমাতৃকার

কলঙ্কমোচনে ওরা সব সমবেত সমুদ্রের রুধির তরঙ্গে

ভেঙ্গে দিয়ে সব বাধা বন্ধন আসে কোটি মানুষের সঙ্গে

এমন জাগরণ বুঝি চেয়েছিল বাংলাদেশ এতোটা কাল

তরুণ প্রাণ একসাথে এক কাঁধে নিয়েছে যে জোয়াল

জেগে উঠছে আবার বাংলাদেশ ইতিহাসের সেইপথে

রেখে যাচ্ছে নতুন দিগন্ত স্বাধীনতার উষার দিব্যরথে

প্রজন্ম চত্বর থেকে বজ্রকণ্ঠে উঠেছে ডাক বাংলাদেশ

ফিরে ফিরে চায় জয় বাংলার স্বাধীন সোনার স্বদেশ।

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: