রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধ ও আমি

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

‘... সোয়াত জাহাজ থেকে বাঙালী শ্রমিকরা অস্ত্র নামাতে অস্বীকার করেছে। ওদের ওপর গুলি হয়েছে। মারা গেছে বেশ কিছু শ্রমিক। আগ্রাবাদ, পাহাড়তলীতে বিহারিরা বাঙালীদের হত্যা করছে! মার কাছে কাজ করত কিশোর ছেলেটি, বাড়ি যাবে বলে ওই পথে রওনা হয়েছিল, যে আর কোনদিন বাড়ি পৌঁছেনি। ’৭১-এর লাখ লাখ শহীদের মধ্যে সেও একজন।’

একাত্তরের মার্চ ছিল এক উত্তুঙ্গ সময়। সে সময় চট্টগ্রামের বাস্তবতা ঢাকার চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না। ২৫ মার্চের পর পর পাকিস্তানী হায়েনার ছোবলও সমানভাবে পড়েছিল সেখানে। ইতিহাসের নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনা সাক্ষী হয়ে আছে আজও। একজন সময় ও সমাজ সচেতন তরুণীর দেখা সে সময়ের ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে মমতাজ লতিফের ‘যুদ্ধ ও আমি’ নামের স্মৃতি চারণামূলক গ্রন্থে। উদ্ধৃত অংশটি দেখলেই বোঝা যায় সে সময়ের নারকীয় চিত্রের ভয়াবহতা। যুদ্ধদিনের এ স্মৃতি শুধু স্মৃতিই নয় তখনকার বাস্তবতার দিনলিপি। চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে মানুষ হয়ে মানুষের ওপর নৃশংসতা, হায়েনার কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টাই শুধু নয় ইতিহাসের উপাদান রয়েছে এ গ্রন্থে। সে হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের জন্য বইটি অবশ্য পাঠ্য। গল্পের ভাষ্যে উপস্থাপিত যুদ্ধদিনের কথামালা মন ছুঁয়ে যায়। বেশকিছু চিঠির কপি মুদ্রিত আছে গ্রন্থটিতে যা মূল্যবান। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর সময়ের অনেক তথ্য যেমন জানা যাবে তেমনি বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যাবে; দূর হবে সংশয়, সন্দেহ।

পলাশী থেকে রেসকোর্স

আমাদের মহান স্বাধীনতা হঠাৎ কোন জেনারেলের ঘোষণার মাধ্যমে আসেনি কিংবা মুক্তিযুদ্ধও শুরু হয়নি। এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ ধারাবাহিকতা। যারা এটা অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করতে ব্যাপৃত তাদের চোখে আঙুল হতে পারে হাজার হাজার পৃষ্ঠার কোন ইতিহাসভিত্তিক বা গবেষণালব্ধ বই নয়- ছোট্ট একটি গ্রন্থ, তা হলো- পলাশী থেকে রেসকোর্স। মাত্র ১১২ পৃষ্ঠার মধ্যে বাঙালীর স্বাজাত্যবোধ, জাতীয়তাবাদের বিকাশের ধাপ, পরিশেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন কম কথা নয়। এক্ষেত্রে লেখক বরুণ দাসের দক্ষতা ও মুন্সিয়ানার পরিচয় মিলেছে। বাংলার যে স্বাধীনতার সূর্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পলাশীর আম্রকাননে ডুবেছিল তা আবার উদিত হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে রেসকোর্স ময়দানে। ৭ মার্চ ঘোষিত হলো এ ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা আর এ মাঠেই ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের বুকে একটি নতুন জাতি বাঙালী, নতুন দেশ বাংলাদেশ।

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: