মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের নাটকসমগ্র

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

পৃথিবীর যে কোন দেশের সংগ্রাম-বিপ্লব বা স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রভাব অবধারিতভাবে সেই দেশ, সমাজ, সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর পড়বে এটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে তা হয়ে থাকে স্মরণীয় কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে কালজয়ী। সাহিত্য স্রষ্টারদের স্পর্শকাতর মনে সময় দাগ কাটে এবং সৃষ্টি হয় মহৎ সাহিত্য। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্য-সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলেছে সুদূরপ্রসারী। সাহিত্যের এক উল্লেখযোগ্য সদস্য নাটক। নাটকই সম্ভবত সরাসরি দর্শক, স্রোতা ও পাঠকের মনে বেশি প্রভাব সৃষ্টি এবং আলোড়িত করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধকে প্রেক্ষাপট করে আমাদের নাট্যসাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে অনেক। বেতার-টেলিভিশনে তা প্রচারিত ও মঞ্চে মঞ্চস্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিকামী মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছে সাহস, প্রেরণা; দেখিয়েছে মুক্তির দিশা। এই নাটকগুলো এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। কোনটি হয়ত প্রকাশনার মুখও দেখেনি। বেতার টেলিভেশনে প্রচারিত হয়েছে কিংবা অভিনীত হয়েছে মঞ্চে তা হয়ত ছাপার অক্ষরে আর প্রকাশ পায়নি পরে। আমাদের দেশে নাটক প্রকাশ ও নাট্যপত্রিকারও সীমিত প্রকাশনা হয়ত এ জন্য দায়ী। এটা অভিযোগ নয়, বাস্তবতার উল্লেখ।

মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপট ও স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে রচিত হয়েছে অজস্র নাটক। রাজধানীর কথা বাদ দিলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও তা হয়েছে। সেসব হয়ত কালের প্রবাহে হারিয়ে গেছে কিংবা বিনষ্ট হয়েছে পা-ুলিপি। এসব সংগ্রহ করে এক মহৎ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের নাটক সমগ্র’। দেশের গুণী, প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য নাট্যকারদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে লিখিত নাটকগুলো যেন হারিয়ে না যায় মুখ্যত এই উদ্দেশ্য থেকে এ পরিকল্পনা। এক সঙ্গে প্রকাশ হয়ত সম্ভব নয়। খ-ে খ-ে প্রকাশ করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঠক এবার উপহার পেলেন প্রথম খ-। প্রথম খ-ে যাদের যেসব নাটক স্থান পেয়েছে সেগুলো হলো মমতাজউদ্দীন আহমদ : এই সেই কণ্ঠস্বর, বর্ণচোরা; আবদুল্লাহ আল-মামুন : বিবিসাব, রণেশ দাশগুপ্ত : ফেরী আসছে, নীলিমা ইব্রাহিম : যে অরণ্যে আলো নেই, হাসনাত আবদুল হাই : ঘুম নেই, কাজী মাহমুদুর রহমান : বধ্যভূমিতে শেষ দৃশ্য, মোহাম্মদ এহসানুল্লাহ, কাজী রোজী : সেই সবটা সময়, শামস-উল-হক : সূর্য উঠেছে, মান্নান হীরা : ফেরারী। নাটক শেষে ফুটনোটে কোথায়, কখন প্রচারিত, মঞ্চস্থ ও অভিনীত হয়েছিল তার উল্লেখ থাকাটা পাঠকের জন্য বাড়তি পাওনা। এতে পাঠক সে সময়ের কুশীলবদের পরিচয় ও ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা পাবেন। সম্পাদকদের শ্রম ও মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রেখেছেন গ্রন্থটিতে।

ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের দায় ও ভালবসা স্পষ্ট। গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পাঠক বা নাট্যগোষ্ঠীর জন্য গ্রন্থটি অপরিহার্য। আমরা পরবর্তী খ-ের জন্য অপেক্ষায় থাকছি এবং প্রত্যাশা করছি সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওই সময়ের নাটকগুলোও যেন সংগৃহীত ও সংকলিত হয়। বইটি সম্পাদনা করেছেন একেএম নাসিমুল কামাল, সিতারা আলমগীর, হুমায়ূন কবীর ঢালী।

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: