মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শিশুর কল্যাণে মাতৃত্বকালীন ভাতা

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫
  • এএইচএম নোমান

জাতীয় শিশু নীতি ২০১০, ৬ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট আছে যে, ‘সকল শিশুর নিরাপদ জন্মগ্রহণ ও বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার মাধ্যমে শিশুর নিরাপদ জন্ম এবং বেড়ে ওঠার ব্যবস্থা নেয়া এবং প্রসূতিপূর্ব ও প্রসূতিপরবর্তী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’ পাশাপাশি ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিতকরণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সরকার। সরকার ‘দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা’ প্রদান কার্যক্রম ২০০৭-০৮ সাল থেকে বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ৯ মার্চ ২০১৫, দৈনিক ইত্তেফাকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক আর্টিকেলে লিখেছেন, ‘যখন নারী ও মেয়েরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তাদের পরিবার ও সম্প্রদায় তখন আরও বেশি উৎপাদনশীল হয়। অন্যথায় এর বিপরীতও সত্য, যখন নারীদের বাদ দেয়া হয়, তখন সমাজকে গুরুতরভাবে ভুগতে হবে।’ তাই অনায়াসেই নারী-মা, শিশু ইত্যাদি মানব সম্পদ মিলিয়ে মৌলিক কার্যক্রমগুলোর সমন্বিত কর্মযজ্ঞ ও বিনিয়োগের মধ্যেই অন্তর্নিহিত আগামী দিনের শিশুর ভবিষ্যত।

১৯৭৪ সালে শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় ‘জাতীয় শিশু আইন’ জারি হয়। বঙ্গবন্ধুর শিশুপ্রীতি, ¯েœহ ও শিশুদের ভবিষ্যত ‘স্বপ্ন’ দেখার জাগরণী ধ্বনি উজ্জীবিত রাখার জন্য ১৯৯৪ সাল থেকে ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়ে আসছে। সবচে’ প্রাণিধানযোগ্য যে, ১৯৯৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. নীলিমা ইব্রাহীম এই দিনটিকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে প্রস্তাব করেন। ড. নীলিমা ইব্রাহীম একজন মহীয়সী নারী-মা। কাজেই মা-শিশু পিতার নাড়ির অমোঘ যে ঐশ্বরিক প্রবহমান টান তা আবারও দেশ-দুনিয়াজুড়ে মা-নীলিমা ইব্রাহীম তাঁর প্রস্তাবে পুনর্ভাস্বর করলেন। ‘দারিদ্র্য বিমোচনে মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মায়েদের জন্য মৌলিক অধিকার সংবলিত ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কর্মসূচী যা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর থেকে সীমিত আকারে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়া, বাংলাদেশের জন্মস্থান মুজিবনগরসহ দেশের ৭টি বিভাগের ১০টি উপজেলায় মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের আওতায় নিবিড় তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন। নূতন-বাবা, নূতন-মা, নূতন-শিশু এক প্রজন্ম ২০ বছর মেয়াদে মৌলিক স্বাস্থ্য, শিশু, আবাসন, কর্মসংস্থান, খাদ্য, সঞ্চয়সহ সমন্বিত দারিদ্র্য বিমোচনে ‘স্বপ্ন মডেল’ শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্ব জগতেও মাইলফলক হবে। সরকারের সঙ্গে প্রায় দু’শত বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাসহ উদ্যোক্তা ‘র্ডপ’ সমন্বয় ও সহযোগিতায় কাজ করছে।

শিশুদের মৌলিক অধিকার জাতীয় শিশু নীতিমালা শুধু অনুচ্ছেদ ৬-এ শিশু-মা’র অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে, দরিদ্র মা’দের গর্ভাবস্থা থেকেই নিম্নতম রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাজেট দাবিদার, যার জন্য প্রয়োজন এককালীন শিশুপ্রতি ৭ (সাত) হাজার টাকা। নিরাপদ শিশু জন্ম, লালন-পালন, প্রসূতি পূর্ব-পরবর্তী পরিচর্যা বাবদ একজন আগমনী নাগরিকের জন্য ডাক্তার রাজিয়া বেগমের মতে, সাবধানী হিসাবে রাষ্ট্রীয় উপহার ‘শিশু পরিচর্যা প্যাকেজ’ তালিকা যা দাঁড়ায় ১. ছোট কাঁথা-১ ডজন ৫০০/- ২. বেবী ডায়াপার ৫০০/- ৩. ছোট বালিশ ১টা ২০০/- ৪. কোল বালিশ ২টা ৪০০/- ৫. মশারি ১টা ৪০০/- ৬. ছোট জামা কাপড় (৪ সেট কমপক্ষে) ১২০০/- ৭. ওয়েল ক্লথ ৩০০/- ৮. শীতের দিনে ছোট কম্বল ৫০০/- ৯. দুধ (প্রয়োজনে বিকল্প) ৮০০/- ১০. চিনি (১ কেজি) ৫০/- ১১. বোতল/ব্রাশ ৩০০/- ১২. বেবী সাবান ১টা ২০০/- ১৩. বেবী লোশন ১টা ২০০/- ১৪. বিবিধ (প্রশিক্ষিত ধাত্রী ও যাতায়াত ইত্যাদি) ১৪৫০/- =মোট ৭,০০০/- (সাত হাজার টাকা)Ñ উপকরণ বা বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। পবিত্র কোরানে বনি ইসরাইল সূরা ২৮ আয়াতে আছে যা প্রতিদিন আমরা মোনাজাতেও বলি, ‘হে, আমার প্রতিপালক, তাঁদের প্রতি দয়া কর, যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’

ঢাকায় প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ‘ঢাকা প্রকাশ’ এর প্রথম সম্পাদক (৭ মার্চ ১৮৬১) কবি কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার এর চিরঞ্জীব কবিতা ‘চির সুখী জন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে? কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কি কিসে-’। নবজাতক-শিশু-পরিচর্যা প্যাকেজ বাজেট প্রসঙ্গে ব্যথিতদের বেদনার কথা নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট বাজেট প্রণেতারা বুঝবেন।

শর্তযুক্ত ভাতাপ্রাপ্ত প্রতিটি মা’কে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিশু বাজেট খাত থেকে মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের চলমান কার্যক্রমের সঙ্গে মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মা’দের সমন্বয় করে বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হলে ‘শিশু নীতিমালা’ প্রণয়নের সার্থকতার পথে অগ্রযাত্রা সাধিত হবে। বঙ্গবন্ধুর সাম্যের ন্যায্যতার স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ রচনার ভিত তৈরি হবে। অথনৈতিক মুক্তির অপ্রাপ্ত পথের দরজা-জানালা খুলে যাবে। শিশুদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, জবাবদিহিতা, ভবিষ্যত নেতৃত্ব ও দায়বদ্ধতা থাকবে।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা র্ডপ এবং গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: