আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পরিবেশ দূষণের মাত্রা নির্ণয় করবে হাইটেক কালি

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫
  • এনামুল হক

আপনি সেন্সর তৈরি করতে চান? সেটা দিয়ে ব্লাড সুগার মাপতে চান? পরিবেশ দূষণের মাত্রা নির্ণয় করতে চান? এটা কোন ব্যাপারই নয়। ন্যানো প্রকৌশলীরা এমন এক নতুন সহজ সরল হাতিয়ার উদ্ভাবন করছেন, যা তেমনই এক যুগের দুয়ার উন্মোচন করে দিতে চলেছে। সেই যুগে যে কেউ যে কোন জায়গায় সেন্সর বানাতে পারবে। চিকিৎসকরা পারবে ক্লিনিকে, রোগীরা বানাতে পারবে বাড়িতে, বিস্ফোরক অথবা নার্ভগ্যাসের হদিস বের করার জন্য সৈন্যরা বানাতে পারবে রণাঙ্গনে বসে।

সেই সহজ সরল অনাড়ম্বর হাতিয়ারটা আসলে কি? সেটা আর কিছুই নয়- এক হাইটেক বায়ো ইঙ্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এই হাইটেক কালি উদ্ভাবন করেছেন। এই কালি গ্লুকোজসহ বেশ কিছু রাসায়নিক উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। ইতোমধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে দূষণ নির্ণয়ে সেন্সরগুলো পরীক্ষিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ফেলে দেয়া বলপয়েন্টের রিফিলে সেই কালি ভরেছেন এবং এটাকে সেন্সর বানিয়ে সরাসরি গাত্রচর্মের ওপর গ্লুকোজ মেপেছেন এবং আরেক ধরনের সেন্সর তৈরি করে গাছের পাতার ওপর দূষণের মাত্রা নির্ণয় করেছেন।

এই কলম বা কালি শুধু যে গাত্রচর্ম ও পাতার ওপরই প্রয়োগ করা সম্ভব তা নয়, গবেষকরা এমন সেন্সরের কথাও ভাবছেন যেগুলো অতি কম খরচে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য মনিটরিংয়ের জন্য স্মার্ট ফোনেও সরাসরি ব্যবহার করা যাবে। অথবা বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদনকারী দূষণ উপাদান নির্ণয়ের জন্য ভবনের বাইরের দেয়ালের ওপর প্রয়োগ করা যাবে। বিস্ফোরক ও নার্ভগ্যাস নির্ণয়ে এই সেন্সরগুলো রণাঙ্গনেও ব্যবহার করা যাবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানো ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান জোসেফ ওয়াংয়ের নেতৃত্বে বিজ্ঞানী দল এই কালি উদ্ভাবন করেছেন।

এই কালি তৈরি করতে গিয়ে গবেষকরা সবেচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন তা হলো কালি তৈরি করতে হবে এমন রাসায়নিক ও জৈব রাসায়নিক উপাদান থেকে, যেগুলো মানবদেহে বা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর নয়। এই কালি সেন্সরের ইলেকট্রোড হিসেবে কাজ করতে পারবে এবং বিভিন্ন অবস্থায় দীর্ঘদিন মজুদ করে রাখলেও এর দ্রব্যগুণ অক্ষুণœ থাকবে।

ওয়াংয়ের দল ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ণয়ের কাজটা কিভাবে সহজতর করা যায়, তা নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে আসছিলেন। এই প্রকৌশলী দলটিই সম্প্রতি সাময়িক ট্যাটুর আকারে নন-ইনভেসিড গ্লুকোজ সেন্সর উদ্ভাবন করে। রক্তের শর্করা নির্ণয়ের জন্য তারা এমন কলম ব্যবহার করেন, যার কালি গ্লুকোজের ক্ষেত্রে বিক্রিয়া করে। তারা শর্করার মাত্রা নির্ণয়ের জন্য পুনর্ব্যবহার্য সেন্সর ব্যবহার করেন। সেইসঙ্গে ব্যবহার করা হয় একটা স্বচ্ছ নমনীয় বস্তু, যার মধ্যে থাকে ইলেকট্রোড। গবেষকরা এরপর কোন ব্যক্তির আঙ্গুলে সুই ফুটিয়ে রক্ত বের করেন এবং সেই রক্ত সেন্সরের ওপর দেন। এনজাইমযুক্ত কালি গ্লুকোজের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এবং ইলেকট্রোডে শর্করার মাত্রা রেকর্ড করে তা শর্করা পরিমাপক যন্ত্রে প্রেরণ করা হয়। গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন যে, একটা কলমে এত কালি থাকে যে, তা দিয়ে ৫শ’ গ্লুকোজ সেন্সর স্ট্রিপের কাজ করা যায়। এই কলমগুলোকেইÑ আবার এমন সেন্সরে পরিণত করা যায়, যা দিয়ে দূষণ উপাদান এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, এক্ষেত্রে কালি হিসেবে এমন এনজাইম ব্যবহার করা হয়, যা ফেনল নামে শিল্পে ব্যবহার্য একটি রাসায়নিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।

সূত্র : সিএনএন

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: