রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জ্বালানি সহায়তা বাড়াতে বিমসটেকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হচ্ছে

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫
  • বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড মতৈক্যে পৌঁছলে মহাপরিকল্পনা
  • তৈরি হবে

রশিদ মামুন ॥ বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি সহায়তা বৃদ্ধিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। সমঝোতার আলোকে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড যৌথভাবে এ অঞ্চলের বিদ্যুত জ্বালানিখাতের উন্নয়নে মতৈক্যে পৌঁছাবে। সমঝোতার আলোকে ভবিষ্যতে দেশগুলোর বিদ্যুত জ্বালানির উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। যৌথভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। একটি কমন গ্রিড লাইন স্থাপন করা হবে যা মূলত এ এলাকার বিদ্যুত বাণিজ্যির যুগান্তকারী সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এ ধরনের সমঝোতা স্মারক রয়েছে। যার আলোকে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি করছে। এর বাইরে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ভারত যৌথ বিনিয়োগে রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানিখাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ, ভারত নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক চুক্তিরও চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এ সব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিদ্যুত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের টাস্কফোর্স বৈঠকে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এমওইউটি মোটামুটি দাঁড় করানো হয়েছে। ওই বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বৈঠকে অংশ নেন। তিনি কারিগরি বিষয় না বোঝায় আলোচনা চূড়ান্ত রূপ পায়নি। তবে রাষ্ট্রদূত বৈঠকের কারিগরি বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তার দেশকে অবহিত করেছে। এখন মায়ানমার এ বিষয়ে তাদের মতামত দেবে। জানতে চাইলে ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেয়া বিদ্যুত বিভাগের যুগ্মসচিব আনোয়ার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, এটা মূলত টাস্কফোর্সের নিয়মিত বৈঠক ছিল। এখানে আমরা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। সদস্যরাষ্ট্রগুলো এমওইউ-এর জন্য মোটামুটি একমত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের জ্বালানি মন্ত্রীদের বৈঠকে এমওইউটি উপস্থাপন করার জন্য। তিনি জানান, এখনও ওই বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি। তবে জুলাইতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র মতে, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে এ সংস্থা গঠিত হয় যা চার দেশের আদ্যাক্ষর মিলিয়ে বিমসটেক নামে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে নেপাল, মিয়ানমার ও ভুটান যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে এ সংস্থার পরিসর এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়। এ এলাকার মধ্যে ভারত, নেপাল এবং ভুটানে ব্যাপক জলবিদ্যুত উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে মিয়ানমারে ভাল গ্যাসের মজুদ রয়েছে। কিন্তু দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যৌথভাবে এ সম্পদ কাজে লাগাতে পারে কি-না তা নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে আলোচনা চলছে।

বিএমসটেকের ঢাকার বৈঠক সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক অবস্থান, শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং জল-বিদ্যুতের মতো সাশ্রয়ী উৎস থেকে বিদ্যুত প্রাপ্যতা ইত্যাদি সূচকে বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এমন প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটাতে হবে যাতে জোটের দেশগুলো নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুত অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময় করবে। এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই অভিন্ন গ্রিড স্থাপনে সদস্য দেশগুলো একমত হচ্ছে।

বৈঠক সূত্র বলছে, দুই বছর আগে বিসটেকের নয়াদিল্লীর বৈঠকে সমঝোতাটি স্বাক্ষর করার জন্য দেশগুলো একমত হয়েও তা স্বাক্ষর করতে পারেনি। তখন সমঝোতায় স্মারকে কয়েকটি শব্দ নিয়ে একমত হতে পারেনি কোন কোন রাষ্ট্র। এবার ওইদিকগুলো পরিবর্তন করে সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য আলোচনা হয়। সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করতে গিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তাদের দেখে অন্যদেশগুলো নিজেদের স্বার্থ কিছুটা ছাড় দিয়ে নমনীয় হলেই কেবলমাত্র সহায়তার ক্ষেত্র চূড়ান্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সার্ক এবং বিমসটেক-এর ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহায়তা বৃদ্ধিতে দেশগুলোর ইতিহাস সুখকর নয়। আলোচনা হলেও বিভিন্ন ইস্যুতে মতদ্বৈততা সৃষ্টি হওয়ায় বেশিরভাগ বিষয়ই ঝুলে থাকে। বিমসটেকের বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষে যোগ দেয়া পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন) মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কারিগরি বিভিন্ন বিষয় তাঁদের দেশকে অবিহিত করবেন। এ সবের ওপর ভিত্তি করেই তারা মতামত দেবে। যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে দেশটি আপত্তি করবে বলে মনে হয় না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, টাস্কফোর্সের পর সমঝোতা স্মারকের খসড়া বিমসটেক জ্বালানি সচিবদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সমঝোতাটি স্বাক্ষর হবে।

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: